1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

মুম্বাইয়ের অভিশপ্ত প্রকোষ্ঠ থেকে ১৫ দিন পর ফিরলেন তরুণী

সাতক্ষীরা জেলা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ভারতে পাচারের ১৫ দিন পর ভারতের মুম্বাইয়ের অভিশপ্ত প্রকোষ্ঠ থেকে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের এক তরুণী।

গুরুতর অসুস্থ ওই তরুণী এখন পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তার অভিযোগ- পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। অপরদিকে পাচারকারীরা তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।

ভুক্তভুগী তরুণীর বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গাজনা গ্রামে। ১৫ নভেম্বর এলকার সাবিনা খাতুন, শিমুল, রেহানা ও ইমাদুল যোগসাজশ করে ভারতে পাচার করে ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয় বলে ওই তরুণীর অভিযোগ।

শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী ও তার বাবা পাচারের কাহিনী তুলে ধরেন।

ভুক্তভুগী ওই তরুণী জানান, ১৫ নভেম্বর তিনি কলারোয়া বাজারে গেলে তার পরিচিত ভাবি আমিরুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী সাবিনা খাতুন তাকে ফুসলিয়ে বাগআঁচড়ায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে নাস্তা খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে যান। পরে তিনি নিজেকে দেখতে পান ভারতের মুম্বাইয়ের গাউবন্দরগাঁর পাশে একটি আটতলা ভবনের চারতলার কক্ষে।

সেখানে তার সঙ্গে দেখা মেলে তার গ্রামের মেম্বার ইমাদুলের মেয়ে রেহানা ওরফে রেনুর সঙ্গে। রেনুর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন তাকে ৩৫ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছে মুম্বাইয়ের পাচারকারী চক্র।

তিনি জানান, ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে তার মতো অনেক বাংলাদেশি নারী রয়েছেন। তাকেসহ অন্যদের প্রতিদিন সন্ধ্যায় রেহানা নিয়ে যেত মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল হোটেলে। রাত কাটিয়ে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা হতো। এ সময় তাদের মদ খাইয়ে মাতাল করে রাখা হতো। তাদের কথায় সায় না দিলে মারধর করা হতো বলে জানান তিনি।

ওই তরুণী জানান, একদিন তার বাবার কাছে ফোন করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানালে বাবা এ বিষয়ে কলারোয়া থানায় ১৫ ও ১৯ নভেম্বর দুটি পৃথক অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ওই তরুণী আরও জানান, বাড়িতে ফেরত পাঠানোর জন্য তিনি মুম্বাইয়ে থাকা রেহানার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে রেহানার ভাই শিমুল সেখানে পৌঁছে তার ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে না এ শর্তে তাকে মুম্বাই থেকে নিয়ে আসে। ১ ডিসেম্বর তাকে নিয়ে আসা হয় কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর অফিসে। সেখানে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি ও তার বাবা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

পরে কলারোয়া থানায় ৮ ডিসেম্বর একটি এজাহার দেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ব্যাপারে তিনি সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে নতুন করে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, মেয়েটি পাচার হয়েছে খবর পেয়ে আমি উদ্যোগ নিয়ে তাকে মুম্বাই থেকে উদ্ধার করিয়েছি। সে তার জবানবন্দিতে পুলিশ ও আমাকে জানিয়েছে তাকে সেখানে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়নি। তারপরও পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com