1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

তাপমাত্রা বেড়েছে, আছে শৈত্যপ্রবাহও

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ওঠানামার মধ্যেই আছে তাপমাত্রা। শৈত্যপ্রবাহ টানা ৩ দিন চলার পর শনিবার বিরতি দিয়ে রোববার আবার ফিরে এসেছে। রোববার রাজশাহী, পাবনা, যশোর, তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।

এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ব্যারোমিটারের হিসাব যা-ই থাকুক না কেন, বাস্তবে শীতের প্রকোপ খানিকটা বেশিই।

সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান হ্রাস, শীতল বায়ুর প্রবাহ বয়ে যাওয়া এবং কুয়াশার কারণে শীত অনুভূত হচ্ছে। ফলে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না।

খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ আছেন বেশি কষ্টে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়াশার প্রকোপ কিছুটা কমে যাওয়ার খবর আসছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এবং পরের দিন বুধবার হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

বৃষ্টির করণে কুয়াশা কেটে গেলে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশা করছেন আবহাওয়া বিভাগের (বিএমডি) কর্মকর্তারা। এই প্রক্রিয়ায় শৈত্যপ্রবাহ বিদায় নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

শীতে উষ্ণতার খোঁজে গরম কাপড়ের পাশাপাশি মানুষ আগুনের দ্বারস্থ হচ্ছে বেশি। বিশেষ করে গ্রামবাংলায় আগুন পোহাতে গিয়ে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

শনিবার পর্যন্ত আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন ১৩ জন। রোববার আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বরগুনার তালতলীতে আগুন পোহাতে গিয়ে সুগন্ধ রানী (২৪) নামে এক নারী মারা গেছেন।

এদিন ফরিদপুরে ৪ জন এবং হবিগঞ্জে ৩ জন নবজাতক মারা গেছে। এ নিয়ে এবারের শৈত্যপ্রবাহে রোববার পর্যন্ত ৬ দিনে মারা গেছেন ২১ জন। বেড়েছে শীতজনিত রোগও।

রোববার নতুন করে ৪২৫৪ জন ডায়রিয়া, আমাশয়, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পৌনে ৯ হাজারে।

যুগান্তর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ৬ দিন ধরে শীতের প্রকোপ চললেও সেভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে না। যদিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতদরিদ্র ও শীতার্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ১২ হাজার ৩০০ পিস কম্বল এবং শিশুদের জন্য শীতবস্ত্র ক্রয়ে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বিএমডির দায়িত্বরত কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, কুয়াশার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের বেলায় সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে না। সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শীতল বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত আছে। কারণে তাপমাত্রা আশানুরূপ বাড়েনি। দিনের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কম হওয়ায় শীতের অনুভূতি বেড়েছে। সাধারণত, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ১০ ডিগ্রির ওপরে থাকলে শীতের অনুভূতি বেশি তীব্র হয় না।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪-৬ হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ৮-১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা যায়। এই হিসাবে রাজশাহী, পাবনা, যশোর, তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় দিনের তাপমাত্রা বেড়েছে। যেমন- শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার ছিল ১৬ দশমিক ৭। শনিবার সর্বনিম্ন তামমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি, রোববার ছিল ১৩ ডিগ্রি।

দেশের বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার প্রকোপ বাড়ায় লোক চলাচলও কমে গেছে। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় দিনে রোববার ঠিকমত সূর্য দেখা যায়নি। কাথাও ভোরে ও সন্ধ্যায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনে হেডলাইট জ্বালিয়েও বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় রেল চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন স্থানে নৌ ও সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ৩ দিন ধরে দৃষ্টিসীমা শূন্য কোঠায় থাকায় লঞ্চ ছাড়তে বিলম্বে ঘটছে। ফেরি চলাচলও বিঘ্নিত বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার ফয়সাল আহমেদ।

২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা) শীতজনিত রোগে আরও ৪ হাজার ২৫৪ জন আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ নিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮ হাজার ৮১০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার যুগান্তরকে জানান, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ২৯৬টি উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, আক্রান্ত ৪ হাজার ২৫৪ জনের মধ্যে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় ভুগছেন ১৭৪১ জন, এআরআই রোগে ভর্তি হয়েছেন ৭২০ জন এবং অন্যান্য রোগে (জন্ডিস, আমাশয়, চোখের প্রদাহ, চর্মরোগ এবং জ্বর) চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৭৯৩ জন।

এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন জীবাণুগুলো শীতে সক্রিয় হয়।

এ সময় এরা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এ সময় বিশেষ ধরনের রোগে মানুষ আক্রন্ত হয়। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলোটাইসিস, ব্রংকিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, বাত, আর্থ্রাইটিস, চামড়ার শুষ্কতা অন্যতম। এসব রোগ থেকে সুরক্ষায় শীত এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনেও দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধি জানান, গত দু’দিনে ৪ জন মারা গেছেন শীতে।

তারা হলেন- রাহেলা খাতুন (৭০), সুফিয়া খাতুন (৮০), সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং মিনা খাতুন (৮২)। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তিন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন- সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল হোসেনের ছেলে (নাম জানা যায়নি), জসিম মিয়ার ৫ দিন বয়সী মেয়ে রিনা এবং ফজল মিয়ার ৬ দিন বয়সী ছেলে রুমন।

বরগুনার তালতলীতে আগুন পোহাতে গিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা সুগন্ধা রানী নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার চরপাড়া গ্রামের নিমাই চন্দ্র শীলের মেয়ে তিনি। তিনি ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ন ইউনিটে ভর্তি ছিলেন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com