1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

ঝাড়খন্ডে কুরসি হারাল বিজেপি

কংগ্রেস-জেএমএম জোট পেয়েছে ৪৮ আসন * বিজেপি মাত্র ২৩টি * পরাজয় স্বীকার মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মহারাষ্ট্রের পর এবার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খন্ডেও কুরসি হারাল ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস, ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) জোট।
মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জেএমএমের নেতা হেমন্ত সরেন। তিনি রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী শিবু সরেনের ছেলে। বিতর্কিত সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ড অ্যাক্ট (সিএএ) তথা নাগরিকত্ব আইন ও নাগরিক নিবন্ধনপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ভারতজুড়ে সরকারবিরোধী প্রবল বিক্ষোভের মধ্যে বিজেপির এই পরাজয় ও কংগ্রেসের জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ফলকে বিজেপির এনআরসির বিরুদ্ধেও বড় আঘাত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা। এর আগে গত এক বছরে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের বিধানসভার নির্বাচনে কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হয়ে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বিজেপি। খবর এনডিটিভির।

৩০ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ ধাপে পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্যটির বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে তিন ধাপের ভোট হয় বিজেপি সরকারের নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের মধ্যেই।

দুই সপ্তাহ আগে রাতারাতিই পাস করা হয় নাগরিকত্ব আইনটি। এনআরসির মতো এই আইনটিকেও মুসলিমবিরোধী বলে অভিহিত করে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম ও সমাজের প্রগতিশীল অংশ।

আইনটি পাস হওয়ার পরই দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ভারতজুড়ে অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
২০০০ সালে গঠিত এই রাজ্য গত মাসেই ২০ বছরে পা দিয়েছে। এটি রাজ্যের চতুর্থ বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর বেশির ভাগই এবার বিজেপির থেকে কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোটকেই এগিয়ে রেখেছিল।

বিক্ষোভের মধ্যেই সোমবার সকালে ভোটগণনা শুরু হয় এবং ঘোষণা করা হয় ফল। এনডিটিভির সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ৪৮টি আসন পেয়েছে বিরোধী ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও কংগ্রেসের জোট। বিজেপির ঝোলায় মাত্র ২৩টি। রাজ্যে বিধানসভায় মোট আসন ৮১টি। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪১টি। নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেলেও বিজেপির পরাজয় দলটির নীতিগত অবস্থানের কারণেই বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিন ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় জোট শিবিরের উল্লাসের ছবি দেখা গেছে। কোথাও জেএমএম ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টিমুখও শুরু হয়ে যায়।

আবার কোথাও বাজি ফোটাতে শুরু করেন কংগ্রেস ও জেএমএম সমর্থকরা। কংগ্রেস জোটের জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি।

পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ঝাড়খন্ডের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। পরাজয় মেনে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজেপিও। বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র বিজয় শংকর শাস্ত্রী বলেছেন, ‘ঝাড়খন্ডের ফলাফল আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।

বিজেপি ৬৫ আসনে জয় আশা করেছিল।’ শংকর আরও বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়টি আমরা জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি।’ ঝাড়খন্ডে লোকসভার আসনসংখ্যা ১৪। গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১১ আসনে জয় পায়। দলের সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ‘জনতার ম্যানডেটকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বেরোনো ফলে বিজেপি জিতেছিল ৩৭ আসনে। জোটসঙ্গী অল ঝাড়খন্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আজসু) পেয়েছিল পাঁচটি আসন। ম্যাজিক ফিগারের থেকে একটি আসন বেশি ছিল জোটের। কিন্তু ২০১৫-র গোড়াতেই জেভিএমের ছয় বিধায়ক বিজেপিতে চলে যাওয়ায় বিজেপি একাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় বিধানসভায়।

ঝাড়খন্ডের ইতিহাসে সেই প্রথম বিধানসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কোনো দল। রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন বিজেপির রঘুবর দাস।

রাজ্য গঠনের পর থেকেই ঝাড়খন্ডে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বারবার ফিরে এসেছে। জোট ভেঙেছে। নতুন জোট হয়েছে বারবার। তিন বার রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হয়েছে। ২০ বছরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ছয়জন। কেউ কেউ দুই বার করে। মোট ১০ বার শপথ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের। কিন্তু রঘুবরের আগে, কোনও মুখ্যমন্ত্রী আড়াই বছর পর্যন্তও টিকে থাকতে পারেননি।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com