1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ০৭:২০ অপরাহ্ন

যে কারণে স্বামীকে তালাক দিলেন শাবনূর

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ‘বনিবনা হচ্ছে না’– এমন অভিযোগ দেখিয়ে স্বামী অনিক মাহমুদের সঙ্গে আট বছরের সংসার ভেঙে দিয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শারমীন নাহিদ নূপুর ওরফে শাবনূর।

গত ২৬ জানুয়ারি স্বামীকে তালাক দিয়েছেন তিনি। নিজের সই করা তালকানামাটি অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে স্বামীকে পাঠিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

নোটিশের অনুলিপি অনিকের এলাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং কাজী অফিস বরাবরও পাঠানো হয়েছে। এই তালাক নোটিশে সাক্ষী রয়েছেন নুরুল ইসলাম ও শামীম আহম্মদ নামে দুজন।

অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদ বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি অনিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করেছেন শাবনূর। গত ৪ ফেব্রুয়ারি অনিকের উত্তরা এবং গাজীপুরের বাসার ঠিকানায় সেই নোটিশ পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, উত্তরার নোটিশটি ফেরত এলেও গাজীপুরের ঠিকানায় পাঠানো নোটিশ এখনো ফেরত আসেনি। নোটিশটি অনিক গ্রহণ না করলে এর মধ্যেই ফেরত আসত। তবে আইনগতভাবে তাদের এই তালাক কার্যকর হবে ৯০ দিন পর।

তালাকের নোটিশে শাবনূর বলেছেন, আমার স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয় সন্তান এবং আমার যথাযথ যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন না। সে মাদকাসক্ত। অনেকবার মধ্যরাতে মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলের জন্মের পর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকছে এবং অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আলাদা বসবাস করছে।

নব্বই দশকের শুরুতে পরিচালক ইহতেশামের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন শাবনূরের। এরপর সালমান শাহর সঙ্গে জুটি গড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দেন। গত ২৬ বছর ধরেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন শাবনূর।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনের তদন্ত সংস্থা পিবিআই বলেছে, সালমান শাহর আত্মহত্যার পেছনে পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। এগুলো হল- সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিয়ার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতা (এ কারণে আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন), মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমান এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।

সালমান শাহর বাসায় রান্নার কাজ করা মনোয়ারা বেগমের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সালমান তার স্ত্রী সামিরা এবং শাবনূর দু’জনকেই খুব ভালোবাসতেন।

তিনি শাবনূরকেও বিয়ে করে দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামিরা সতীনের সংসার করতে রাজি হননি। পিবিআইর তদন্তে সালমানের মামা, সালমানের বাসার কাজের সহযোগী এবং পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে ওঠে।

পিবিআই প্রধান বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে যখন আমরা সালমানের বাসায় কাজের সহযোগী মনোয়ারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করি, তিনি জানান, সালমান শাবনূরকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। সামিরা ও শাবনূরকে নিয়ে একসঙ্গে সংসার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামিরা তাতে রাজি হননি।

মনোয়ারা বেগম পিবিআইকে আরও জানান, সালমানের মৃত্যুর আগের দিন রাতেও শাবনূরকে নিয়ে সামিরার সঙ্গে ঝগড়া হয়। ওই সময় শাবনূরকে কল দিয়ে সালমান বলেছিলেন আর কখনও ফোন না দিতে। শাবনূরের উপহার দেয়া সিটিসেল ফোনটি এরপরেই ভেঙে ফেলেন।

এর আগে শাবনূরের আরেকটি দামি উপহার (একটি টেবিল ফ্যান) ভেঙে ফেলেন সালমান। মনোয়ারা বেগম জানান, শাবনূর প্রায়ই বাসায় আসত, এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রায়ই সালমান ও সামিরার ঝগড়া হতো। মাঝেমধ্যে সামিরা রাগ করে চট্টগ্রাম চলে যেত।

সালমানের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ইজ্জাতুন নেছা সুইটিকে জিজ্ঞাসাবাদেও এমন তথ্য পায় পিবিআই। তিনিও জানান, সালমান-শাবনূরের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে চাননি সামিরা। এ বিষয়গুলো নিয়ে সব সময়ই সংসারে ঝামেলা থাকত। এদিকে পারিবারিক অশান্তির কারণে স্ত্রী সামিরাকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com