1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে আমাদের অনুকরণীয়

শাহাবুদ্দিন শুভ : পৃথিবীর যে সব দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড সেইসব দেশে ধর্ষণের মত ঘটনা অনেকাংশে কম ।  আর যে সব দেশে কিছু দিন জেল বা সাধারণ শাস্তি বা অনেক ক্ষেত্রে কোন বিচার হয় না। সে সব দেশের ধর্ষণের সংখ্যা কমে না বরং বৃদ্ধি পায় প্রতিনিয়ত।

আমাদের দেশের ধর্ষণ নিয়ে প্রকাশিত কিছু পরিসংখ্যানের দিকে যদি থাকাই তাহলে দেখতে পাই। জুন ২০১৯ আইন ও শালিস কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত বুলেটিন ধর্ষণ ও আমাদের বাস্তবতা প্রবন্ধে লেখা হয় ২০১৯ সালের প্রথম ৫মাসে ( জানু- মে) ৪৭৫ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গণ ধর্ষণের ঘটনা ১১৭ টি, অনধিক ছয় বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫০টি।  ধর্ষণ পরবর্তীতে হত্যা কাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৮টি । ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৭টি এবং  ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৭১ টি ।  এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্তৃক ধর্ষণ ও  ধর্ষণের  চেষ্টার ঘটনাও রয়েছে। একই সংগঠনের ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী। একই সংগঠনের ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮১৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে ৪৭ জন নারীকে ।

দেশে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে কথিত মজনু ধর্ষণ করেছে সেও একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। ধরে নেওয়া যায় মজনুর নেশা ও পেশা হচ্ছে ধর্ষণ করা। এর আগে যদি তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতো বা তাকে আইনের আওতায় আনা যেত তহালে নিশ্চয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি তার শিকারে পরিণত হতো না। আর বর্তমানে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে এ থেকে যদি  তাকে যদি সাধারণ শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে মুক্তি পাওয়ার পর সে আবার এই কাজে জড়িয়ে পরবে।

 

এখন আসি বহুল আলোচিত ২০১২ সালে নয়াদিল্লীতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী এক মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সে সময় ‘নির্ভয়াকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়। নির্ভয়া কে ধর্ষণের পর হত্যা নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় এর ফলে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো ভারত। সাথে সাথে এধরণের বীভৎস ঘটনার জন্য বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে ধর্ষণ বিরোধী নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়। ভারতে ২০১৫ সালের পর এই প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হলো। ২০১৩ সালে দেশটির বিচারিক আদালত এই চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ভারতের দিল্লিতে ২০১২ সালে চলন্ত বাসে নির্ভয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চার আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।  চার আসামি হলেন অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্তা ও মুকেশ সিং। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে দিল্লির তিহার জেলে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা

এ ঘটনা ভারতসহ সারা বিশ্বে আলোড়ন তোলে। ধর্ষণের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রাম সিং নামের এক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২০১৩ সালের মার্চে কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেন। ধর্ষণের সময় যে আসামির বয়স ১৭ বছর ছিল, তাকে ২০১৫ সালে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

ধর্ষণ করলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শাস্তির দিকে যদি আমরা একটু খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাই। যেমন-

 

  • চীন: ধর্ষণ প্রমাণ হলেই আর কোনও সাজা নয়, বিশেষ অঙ্গ কর্তন এবং সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। অন্য কোন শাস্তি নেই।
  • ইরান: ধর্ষককে ফাঁসি, না হয় সোজাসুজি গুলি করা হয়। এভাবেই ধর্ষককে এদেশে শাস্তি দেওয়া হয়।
  • আফগানিস্তান: ধর্ষণ করে ধরা পড়লে চার দিনের মধ্যে ধর্ষকের মাথায় সোজা গুলি করে মারা হয়।
  • উত্তর কোরিয়া: অভিযোগ, গ্রেফতার আর তারপর অভিযোগ প্রমাণ হলে গুলি করে হত্যা করা হয়।
  • সৌদি আরব: জুম্মার নামাযের পর ধর্ষককে প্রকাশ্যেই শিরশ্ছেদ করা হয়।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
  • সৌদি আরব: শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে জনসমক্ষে শিরশ্ছেদ করা হয়।
  • মঙ্গোলিয়া: ধর্ষিতার পরিবারের হাত দিয়ে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
  • মিশর: ধর্ষককে জনসমক্ষে ফাঁসি দেওয়া হয়।

 

উপরের দেশগুলোতে ধর্ষণের মাত্রাও খুব কম। মৃত্যুদণ্ডের মত ভালো ঔষধ আর হতে পারে না। এর দুটি ভালো দিক আছে। ১. বর্তমান অপরাধী নির্মূল করে।  ২. একই অপরাধের জন্য নতুন অপরাধী খুবই কম তৈরি হয়।

ভারতের মত দেশ যেখানে মৃত্যুদণ্ড দিতে অনীহা প্রকাশ করে  ২০১৫ সালের পর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে প্রমাণ করলো ধর্ষণের  ব্যাপারে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া কোন ভাবেই এ অপরাধ রোধ করা যাবে না।  তাই ধর্ষণের মত বীভৎস মহামারির হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের দেশেও মৃত্যু দণ্ডের বিকল্প আছে বলে আমি মনে করছি না।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com