1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

পাড়া-মহল্লায় আড্ডা, ঢিলেঢালা লকডাউনে বাড়ছে করোনা রোগী

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ঢিলেঢালা অবস্থায় চলছে রাজধানীর লকডাউন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা তেমন কেউ মানছে না। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে। রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস ছাড়া প্রায় সব ধরনের যানবাহন দেখা যাচ্ছে। রাতেও মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। বাজারে মানুষকে ঠেলে সামনে যেতে হচ্ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যে এগিয়ে যুবকরা। তাদের অনেকেই দিনে-রাতে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে।

পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও যুবকদের ঘর থেকে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে বেড়েই চলছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট আক্রান্তের ৪৯ শতাংশই যুবক। এখনই এদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মহামারী প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক দূরত্ব পালনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কঠোর হওয়ার পরামর্শ তাদের।

শুক্রবার দেশে মোট আক্রান্তের ৪০ ভাগই ছিল যুবক। শনিবার সেই সংখ্যা নয় শতাংশ বেড়ে ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; যাদের বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর। এ হিসাব সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে অবস্থানের ক্ষেত্রে যুবকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। তাই দেশে যুবকদের সংক্রমণের হার বেশি।

তাছাড়া গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেশিরভাগই যুবক। হঠাৎ করে গার্মেন্ট খুলে কর্মস্থলে আনায় এবং হুট করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বন্ধ করায় অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায় আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনা করলেই। যেসব এলাকায় গার্মেন্ট বেশি সেসব এলাকায় কিন্তু সংক্রমণের হার বেশি।

করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। নগরীর ১১৩টি স্থানে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অলিতে-গলিতে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। কোথাও কোথাও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ক্ষণিকের জন্য এলাকা ফাঁকা হলেও, যখন তারা চলে যাচ্ছেন তখনই আবার জড়ো হচ্ছেন স্থানীয়রা। পুলিশের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করতে দেখা গেছে একটি এলাকায়।

আবার অনেক এলাকায় বাজারের কথা বলে ঘুরতে দেখা গেছে অনেককে। এছাড়া ‘কতক্ষণ ঘরে থাকা যায়’, ‘ঘরে আর ভালো লাগে না’, ‘বাইরে একটু দেখতে এলাম’-এ ধরনের ঠুনকো সব অজুহাত দেখিয়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছে এদের বড় একটি অংশ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ ক্রমশই বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে ভীতি বেড়েছে, তবে সচেতনতা বাড়েনি।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকা থেকে পুরতান জেলখানা গেট পর্যন্ত দেখা যায়, এ রাস্তায় প্রচুর মানুষ হাঁটাচলা করছেন। তিন, চার, পাঁচজনের দলে দলে ভাগ হয়ে গল্প-আড্ডায় মেতেছেন তারা। যেখানে সংখ্যার বিচারে প্রাধান্য ছিল উঠতি বয়সী তরুণদের।

শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ থেকে চাঁনখারপুল মোড়ের একটু আগেই হোসনি দালানের পাশে দেখা যায় পাঁচ যুবককে। সেখানে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে আড্ডা দিচ্ছিলেন। অথচ এদের কারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী ছিল না। সন্ধ্যা ৭টার পর ঘরে থাকার নির্দেশনাও অমান্য করেছে তারা।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। প্রধান সড়ক কিছুটা ফাঁকা থাকলেও অলি-গলিতে ছিল প্রচুর মানুষের চলাফেরা। মিরপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা গেছে সচেতনতার অভাব। সকালের দিকে এই এলাকায় লোক সমাগম থাকে অনেক বেশি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি অনেকটা কমে। রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় রাস্তার পাশে অসংখ্য মানুষের চলাচল দেখা গেছে।

এছাড়া দিন যতই যাচ্ছে, রাস্তায় গাড়ি চলাচলও বাড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব আলী শেখ যুগান্তরকে বলেন, মানুষ কিন্তু প্রকৃত অর্থে লকডাউন মানছেন না। জরুরি একটা কাজে নীলক্ষেতে গেলাম, সেখানে দেখলাম কিছু লোক কাছাকাছি বসে গল্প করছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে অকারণে ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৯২(১) ধারায় ৩ হাজার ৪৪৫টি মামলা দায়ের করেছে। আর জরিমানা আদায় করেছে ৬৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। এসব মামলা, নির্দেশনা, জিজ্ঞাসাবাদেও থামানো যাচ্ছে না মানুষকে।

লকডাউন নিশ্চিতে কঠোর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুন্সী যুগান্তরকে বলেন, পরীক্ষায় যারা শনাক্ত হচ্ছে তাদের বাইরেও কিন্তু আক্রান্ত রোগী রয়েছে। তাই অহেতুক ঘোরাফেরা খুবই অপ্রত্যাশিত। এখনকার অবস্থায় কিছু জায়গায় কারফিউ দিয়ে দেয়া উচিত।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com