1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

করোনার নেতিবাচক প্রভাব: কারখানা লে-অফ ঘোষণা চান শিল্প মালিকরা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে চতুর্মুখী সংকটে পড়েছেন শিল্প মালিকরা। একদিকে উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ, অন্যদিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বসিয়ে রেখে বেতন-ভাতা দেয়ার বিশাল চাপ। নানারকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহাল রেখে সরকারের তরফ থেকে এপ্রিল মাস থেকে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে সেটির বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। তাছাড়া শিল্প মালিকদের সরকারি অর্থ ২ শতাংশ সুদসহ ফেরত দিতে হবে। উপরন্তু বিদ্যমান সংকট কবে কাটবে, সহসা মিল-কলকারখানা চালু করা সম্ভব হবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় বেশির ভাগ শিল্প মালিক কারখানাকে সরকারি ছুটি ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। তারা শ্রম আইন মেনে লে-অফ ঘোষণা দিতে বদ্ধপরিকর।

কেননা লে-অফ ঘোষণা ছাড়া সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে রাখলে শ্রমিক-কর্মচারী সবাইকে পূর্ণ বেতন-ভাতা দেয়া লাগবে। কিন্তু চরম এই দুঃসময়ে শিল্প মালিকদের পক্ষে সেটি বহন করা কঠিন হয়ে যাবে। অনেকের পক্ষে কোনো প্রকার বেতন-ভাতা দেয়াই সম্ভব হবে না। যে কারণে এখনও বহু শিল্প-কারখানায় মার্চ মাসের বেতন হয়নি।

এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় লে-অফ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত করতে চান শিল্প মালিকরা। ইতোমধ্যে সম্প্রতি কারখানা লে-অফের বিষয়ে দিকনির্দেশনা চেয়ে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরকে চিঠি দেয়া হয়।

এতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশ বাতিলসহ চলমান অর্ডারের উৎপাদন কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে। এছাড়া ক্রেতারা উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্ট না করা এবং আগের রফতানির আদেশের বিপরীতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় আমদানি করা কাপড় না কাটার জন্য বলেছে।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিএমইএর একাধিক পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, নিঃসন্দেহে সরকার শ্রমিকদের ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু শিল্পের স্বার্থে মালিকদেরও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে দেখা যাবে, শ্রমিক বেঁচে আছে, মালিকরা আর বেঁচে নেই। তখন এত বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। রফতানি আয়ও কমবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশেনর (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছে শিল্প মালিকরা। কলকারখানা অধিদফতর বলছে, উৎপাদনশীল ও রফতানিমুখী শিল্প খোলা রাখা যাবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সবাইকে ঘরে থাকতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ডিসি বলছে, সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় শিল্প মালিকরা কোথায় যাবে?’ তিনি বলেন, ‘আমাদের তো শ্রমিকদের বেতন দিতেই হচ্ছে। ফলে শিল্পের বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসা উচিত বলে মনে করছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গার্মেন্ট মালিক যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক খাতের মতো বহু শিল্প মালিক এর মধ্যে পথে বসে গেছে। কেননা একদিকে ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করেছে, অন্যদিকে যেসব পণ্য কারখানার উৎপাদন শেষে শিপমেন্টের জন্য অপেক্ষা করছিল, সেগুলোও শিপমেন্ট করতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া আগে রফতানি করা পণ্যের বিলও দিচ্ছে না। যেসব পণ্য জাহাজীকরণ করা হয়েছে সেগুলো তারা খালাস করছে না।

এ অবস্থায় মালিকরা এক প্রকার সাগরের মধ্যে পড়েছে। কারণ উৎপাদিত পণ্যের কাঁচামাল ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে আনা হয়েছে। এখন রফতানি ব্যর্থ হলেও সেই দায় পরিশোধ করতে হবে মালিকদের। কিন্তু রফতানি না হলে বা রফতানির বিল দেশে না এলে ব্যাংকের দায় শোধ করা যাবে না। তখন মালিকরা ঋণখেলাপি হয়ে পড়বেন।

সূত্র জানায়, শ্রম আইন অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ড, আকস্মিক বিপত্তি, যন্ত্রপাতি বিকল, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, মহামারী, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা অথবা মালিকের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত অন্য কোনো কারণে মালিক চাইলে তার প্রতিষ্ঠানের কোনো শাখা বা শাখার আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারেন। কাজ বন্ধের মেয়াদ ৩ দিনের বেশি হলে কারখানা লে-অফ করা যাবে।

এ সময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে শ্রমিককে মাসিক মোট মজুরির অর্ধেক ও আবাসিক ভাতা থাকলে তা দিতে হবে। আর সাধারণ ছুটির আওতায় বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের পুরো মাসের বেতন দিতে হবে। এ কারণে মালিকরা চাচ্ছেন কারখানা লে-অফ ঘোষণা দিতে।

শিল্প মালিকদের কেউ কেউ মনে করেন, নিকট-ভবিষ্যতে করোনা সংকট কেটে গেলেও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অনেক মালিক কারখানা নতুন করে চালু করতে পারবে না। তাছাড়া সরকার ঘোষিত তহবিল থেকে ঋণপ্রাপ্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব শর্ত দিয়েছে তা মেনে অনেক মালিকের পক্ষে ঋণ নেয়াও সম্ভব নয়। এজন্য বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুস্পষ্ট ঘোষণা আসা প্রয়োজন।

যেমন- এপ্রিল থেকে সংকট উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতার খরচ সরকারের পক্ষ থেকে পরিশোধ করা। এছাড়া সব শিল্প ঋণ ও ঋণের সুদের হিসাব স্থগিত রাখা। জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা দিয়ে সংকটকালীন এ সময়কে সব হিসাব থেকে অবলোপন করা।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com