1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

গলওয়ান নদীর গতিপথ বদলে পাথর ফেলছে চীন

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: লাদাখের গলওয়ান নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে বা প্রবাহ বন্ধ করতে মরিয়া চীন। নদীর গতিপথ বদলাতে বুলডোজার দিয়ে ফেলা হচ্ছে প্রচুর পাথর।

সোমবার রাতে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘর্ষস্থল থেকে উত্তর-পশ্চিম লাদাখের এক কিলোমিটারের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বেইজিং।

বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রকাশ করা উচ্চ রেজ্যুলেশনের স্যাটেলাইট ছবিতে এ চিত্র দেখা গেছে।

এছাড়া চীন অতিরিক্ত সেনা, রাস্তা-ব্রিজ-নদী খনন যন্ত্রপাতি জড়ো করেছে বলে আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। মার্কিন ভূ-বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান হাওয়াকআই ৩৬০ এ স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে।

স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়া ছবিতে নদীর গতিধারার স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নদীতে কোনো জল নেই। স্রোতধারায় কাদাময়। নদীর ওপরেই নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে চীন।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাসংলগ্ন এলাকায় চীনা বাহিনীর ট্রাক, সাঁজোয়া গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। তুলনায় ভারতের সমর যান অনেকটাই কম।

স্যাটেলাইট ইমেজে স্পষ্ট যে, চীন প্রচুর পরিমাণে বুলডোজার বহন করছে গলওয়ান উপত্যকায়। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত চীনের সামরিক গাড়ি। বেশ কয়েকটি জায়গায় তাঁবুও ফেলা হয়েছে। গলওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ট্রাকগুলো।

বুধবার ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত মার্কিন ফার্ম হাওয়াকআই ৩৬০-এর স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেছেন সুপরিচিত উপগ্রহ চিত্র বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিনায়ক ভাট। ১১ জুনে নেয়া স্যাটেলাইট ছবি দেখে তিনি চীন-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে রাস্তা, ছোট সেতু, নদী খনন বা নদী ভরাট যন্ত্রপাতি জড়ো করার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড এবং বেশ কয়েকটি তাঁবুও তৈরি করেছে চীন। কর্নেল ভাটের মতে, চীনের এ ভারি কর্মকাণ্ডের স্থানটি লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, যেখানে ১৫ জুন দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছিল।

এ সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ সদস্য নিহত ও চীনা বাহিনীর ৪৫ সদস্য হতাহত হয়েছিল। এ সংঘর্ষের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই চীন এ সরঞ্জাম আনা শুরু করে বলে জানা গেছে।

গলওয়ান উপত্যকা একটি শুষ্ক এবং বসবাসের জন্য কঠিন একটি এলাকা। এটি চীনের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আকসাই চীনের পাশে অবস্থিত। আকসাই চীন এমন একটি এলাকা যেটি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে চীন দখল করে নেয়।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মিডলবারি ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা জ্যাফরেই লেউইস বলেন, ছবি দেখে মনে হচ্ছে চীন কোনো রাস্তা অথবা সম্ভবত বাঁধ নির্মাণ করতে চেয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে অবগত নন। সংঘর্ষের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে।

বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গলওয়ান উপত্যকার ১৪ নম্বর পেট্রোল পয়েন্টের খুবই কাছে উভয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত সেনা সরাতে কোনো রকম উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বেইজিং।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com