1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন

বানিয়াচংয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

ইমদাদুল হোসেন খান, (বানিয়াচং) হবিগঞ্জ  :: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত কলেজ ছাত্রের নাম রনি আচার্য্য (২৪)। সে বানিয়াচং ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের জাতুকর্ণপাড়া মহল্লার শংকর আচার্য্যরে পুত্র। নিহত রনি হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। দুই ভাই-বোনের মধ্যে রনি ছিল পরিবারের বড় ছেলে। তার বোন আঁখি আচার্য্য স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে ছেলে রনি আচার্য্যরে এমনটাই উল্লেখ করে সোমবার (১০আগস্ট) সকাল ১১টায় বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নিহত রনি আচার্য্যের মা অর্পণা রাণী আচার্য্য।

রনির পরিবার জানায়, গত মাসের ২৭ তারিখ রনি আচার্য্যের হঠাৎ করে পেটে ব্যথা শুরু হলে পরিবারের সদস্য (চাচাতো ভাই) জনি আচার্য্য তাকে চিকিৎসার জন্য বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডা: ইবনে সিনা ইকরাম রোগীর মুখে মাস্ক পরিহিত না থাকায় তাকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে জনি আচার্য্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে থাকা একটি মাস্ক কিনে নিয়ে আসার পর তার চিকিৎসা শুরু করেন। তাকে ভর্তি না করে পরে ডা: ইবনে সিনা ইকরাম পেটে ব্যথা হয়েছে জেনে কয়েকটা সাপোজিটরি লিখে দিয়ে বিদায় করে দেন। এ অবস্থায় জনি তার ভাই রনি আচার্য্যকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। দুপুরের দিকে পেটের ব্যথা আবার শুরু হলে পুনরায় তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ব্যথায় ছটফট করতে শুরু করেন রনি আচার্য্য। পরবর্তীতে জরুরি বিভাগে সহাকারি সার্জন ডা: জাহানারা আক্তার রনিকে বিকালে সাড়ে তিনটায় হার্ট ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা আছে দেখে পুরুষ ওয়ার্ডের ১০নাম্বার বেডে ভর্তি দেন। এরই ফাঁকে রনির অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। কোন উপায় না পেয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডা: জাহানারা আক্তার।

ইতিমধ্যে রোগীর স্বজনরা সিলেট নেয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করতে গেলে তখই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে রনি আচার্য্য। পরে রোগীর স্বজনদের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে মর্মে ডেট সার্টিফিকেট প্রদান করেন সহকারি সার্জন ডা: জাহানারা আক্তার। খবর পেয়ে রোগীর আত্নীয়-স্বজনরা ছুটে এসে কান্নাকাটি শুরু করলে ইউএইচ এন্ড এফপিও ডা: শাহ পরাণ থানায় ফোন করে পুলিশকে আসতে বলেন। পরে বানিয়াচং থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত গতিতে ছুটে আসেন জরুরি বিভাগের সামনে। পুলিশ আসার পর রনির স্বজনরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। পুলিশ আসার কারণ জানতে চাইলে ইউএইচ এন্ড এফপিও কোনা সদুত্তর দিতে পারেননি। নিহত রনির মা অর্পনা রাণী আচার্য্য সাংবাদিকদের কাছে আরও বলেন, আমার ছেলেকে পেটের ব্যথা ছিল বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ঠিকমতো চিকিৎসা না দেয়ায় আমার ছেলে মারা যায়। পরবর্তীতে হার্টে সমস্যা থাকায় মারা গেছে বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। এতোদিন পরে কেন আপনারা অভিযোগ দায়ের করলেন এই প্রশ্নের জবাবে নিহত রনির মা বলেন, আমরা এমনিতেই ছেলেকে হারিয়ে পুরো পরিবার শোকাহত। তারপর আমাদেরকে পুলিশ দেখিয়ে ভয় দেখানোর ফলে অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে। আমার ছেলেকে তো আমার পাবোনা। আর যাতে বিনা চিকিৎসায় এককথায় চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো মায়ের বুক খালি না হয় সেজন্য আমি অভিযোগ দাখিল করেছি।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিববার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাদি মো: শাহ পরাণ গণমাধ্যমকে জানান, যেহেতু ইউএনও’র বরাবরে তারা অভিযোগ দাখিল করেছে বিষয়টি তিনিই দেখবেন। তদন্ত করতে যদি কোন ধরণের সাহায্য সহযোগীতা দরকার হয় আমি তা করব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে জানান, মারা গেছে গত ২৭ তারিখ। তারা অভিযোগ দিয়েছে ১০ আগস্ট (সোমবার)। তারপরও যেহেতু অভিযোগ দেয়া হয়েছে আমরা সেটা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com