1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঐক্যফ্রন্ট গঠন নয় ভুল ছিল পদক্ষেপে: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ভুল ছিল না।

কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পদে পদে যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নেয়া হয়নি, সময়োপযোগী হয়নি। সেক্ষেত্রে ভুল ছিল। বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবে দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও ভিন্নমত আছে।

সম্প্রতি রাজধানীর বনানীর নিজ বাসায় যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা, জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে দলের ভাবনা, সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা ও দুর্নীতি, করোনা পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ভুল ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, মানুষের জীবনে বা যে কোনো পথচলায় ভুল-সঠিক দুটোই হয়ে থাকে। ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারে চূড়ান্ত বিচারের সময় আমার মনে হয় এখনও আসেনি।

তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পদে পদে যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার ছিল, সে জায়গাটায় ভুল ছিল বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট গঠন ভুল ছিল না। পদক্ষেপগুলো ভুল ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নেয়া হয়নি বা তাৎক্ষণিকভাবে নেয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি, সময়োপযোগী হয়নি। সুতরাং আমি মনে করি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করাটা ব্যর্থ হয়েছে- এমনটা যদি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্বীকার না করে, সে পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য আমি করতে চাই না।

২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব প্রসঙ্গে আলাল বলেন, চিন্তাচেতনা বা সাময়িক পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাবে যদি দূরত্ব হয়েই থাকে তবে আমি একটা জিনিস পরিষ্কার বুঝি, একই জায়গায়, একই প্ল্যাটফরমে নিজেরা ঘন ঘন ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হয়ে ঐক্যের প্রমাণ দিতে হবে- এমন কথা নেই।

আমরা এ দেশেই দেখেছি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুগপৎ আন্দোলন হয়েছে। একই দিনে একই সময়ে আলাদা আলাদা মঞ্চে আন্দোলন হয়েছে। এটার মধ্যে থেকেও ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব। আবার এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্য থেকেও জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করা সম্ভব। বাম দল এবং ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গেও কিছু কিছু ব্যাপারে ঐকমত্য গড়ে তোলা সম্ভব।

তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা আলাল বরিশাল জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে জেলা যুবদলের সভাপতি হন। এরপর বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া তৎকালীন বরিশাল-২ সংসদীয় আসন থেকে তিনি দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এখন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে- এমন পরিস্থিতিতে দল চালাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, স্বাভাবিকভাবে দল চালাতে সমস্যা তো হচ্ছে। তবে সমস্যাগুলো স্থায়ী হতে পারছে না, সেগুলোকে আমরা ওভারকাম করতে পারছি। জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে বিএনপির একটা বিশাল কর্মী-সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। যারা এত নির্যাতনের পরও আদর্শ থেকে সরে যায়নি। তারাই হলেন বিএনপির ভরসা। সেই শক্তির ওপর ভর করেই আমরা মনে করি, যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা স্থায়ী হতে পারছে না।

দলের ভেতরে কোন্দল আছে বলে অভিযোগ রয়েছে- এ ব্যাপারে আলাল বলেন, দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। তবে দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও ভিন্নমত আছে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই তো ভিন্নমত। আমার মত ও ভিন্নমত- দুটো মিলেই তো একমত, এটাই তো গণতন্ত্র। সুতরাং সেখানে আমার মত থাকবে, আরেকজন তার মত দেবে- এরপর সিদ্ধান্ত হবে। আর তখন সবাই মেলে একমত, এটাই স্বাভাবিক। দলের মধ্যেই যদি গণতন্ত্র না থাকে, তাহলে দেশকে গণতন্ত্র উপহার দেয়া তো সম্ভব নয়। দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চায় আমরা বিশ্বাস করি।

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে বিএনপি কী ভাবছে জানতে চাইলে আলাল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে দাবিদাওয়া তুলে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা একই রকম আছে এবং এ পরিবেশে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশটা একটু ভালো হলে উন্নততর চিকিৎসার জন্য দেশে বা বিদেশে যেখানে প্রয়োজন সে ব্যবস্থাটা তার পরিবারের পক্ষ থেকে নেয়া হবে।

জোট থেকে জামায়াতে ইসলামী ছাড়ার ব্যাপারে দল কী ভাবছে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আলাল বলেন, আগে আওয়ামী লীগকে অঙ্গীকার করতে হবে তারা জামায়াতের আর কাউকে তাদের দলে যোগদান করাবে না। যেটা ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় করিয়েছে। উপজেলা-পৌরসভায় তাদের জনপ্রতিনিধি বানিয়েছে। সব পক্ষ থেকে একত্রে ঘোষণা এলেই কেবল তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, না হলে এটা একটা মৌখিক প্রতিশ্রুতিই থাকবে। তিনি বলেন, তবে বিএনপি এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছে।

বিএনপি কেন বড় ধরনের আন্দোলন করতে পারছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রথমত বিএনপি ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয়। আর দ্বিতীয়ত, একটা দেশের সর্বোচ্চ নেত্রী থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৩৫ হাজারের মতো মামলা এবং কয়েক কোটি নেতাকর্মী এখানে আসামি। ক্রমাগত নিপীড়ন-নির্যাতন, গুম-খুন-হত্যা, ব্যবসা ক্ষেত্রে লুটপাট অর্থাৎ সব রকমের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে একটা মাল্টিক্লাস অর্গানাইজেশনকে কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেয়া খুব সহজ। এতে সরকার সফলও হয়েছে। কিন্তু আমরা সেই কঠিন কাজটি উতরে নিজেদের এখনও সেভাবে সংগঠিত করতে পারিনি। তবে দীর্ঘ ১২ বছরের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের আরও বেশি একাত্ম করতে পেরেছি। এই একাত্ম শক্তিটাকে যদি বিশ্বাস বা আস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে ক্ষমতাসীন দলকে সামনে মোকাবেলা করা সম্ভব।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে আলাল বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা ছিল শুধু মুখে মুখে। প্রচেষ্টার মধ্যে সামান্যতম সমন্বয় ছিল না। ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ খুব অল্প সময়ের মধ্যে করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। কিন্তু সেই যোগ্যতা এ সরকার দেখাতে পারেনি। আর এ কারণে পুরো বিষয়টা এলোমেলো হয়ে গেছে।

সরকার সবক্ষেত্রে ব্যর্থ উল্লেখ করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, গুম-খুন-হত্যা, ধর্ষণ-লুটপাট চলছে। ক্ষমতাকে একীভূত ও দীর্ঘায়িত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, নিষ্ঠুর হাতে সরকার তা-ই করছে। সবচেয়ে বড় কথা হল- রাষ্ট্র ও সরকার দুটো হচ্ছে আলাদা সত্তা। কিন্তু এ সরকার সবকিছুকে দলীয়করণ করে রাষ্ট্র ও সরকারকে একাকার করে ফেলেছে।

যে কারণে ১২ বছর ধরে সাধারণ নাগরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ সরকার ‘সবাই আমাদের বন্ধু, আমাদের কোনো শত্রু নেই’ এই পররাষ্ট্রনীতি চালাতে গিয়ে এত বেশি একপেশে হয়ে গেছে যে, আমরা ব্রান্ডেড হয়ে গেছি। এখন যেটা গ্রহণ করা হয়েছে, সেটা শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমানের কারও পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে ছিল না। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে দুর্নীতির রাহুগ্রাস চলছে। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি বলব, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে উনি যে বক্তৃতাগুলো দিয়ে গেছেন দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারি, চোরাকারবারি এবং দলের মধ্যে থাকা পা-চাটাদের সম্পর্কে।

সেই ভাষণগুলো মুজিববর্ষে বেশি বেশি করে বাজিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শোনানো হোক। এতে তাদের নেতা কী চেয়েছিলেন আর এখন তারা কী করছেন- অন্তত এ তফাতটা তারা বুঝতে পারবেন। এটা দেশের জন্যও ভালো হবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com