1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

বাউল সম্রাটের মৃত্যুবার্ষিকী : সুনামগঞ্জে নেই তেমন আয়োজন

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইলো, কেমন দেখা যায়; ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায়ে’- এমন অসংখ্য গান রচনা করেছেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। তাঁর গান ও সুরের ধারা কোটি কোটি মানুষের মন ছুঁয়েছে। শুধু তাই নয়, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম মহান মুক্তিযুদ্ধে পথে পথে ঘুরে গানের মাধ্যমে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছেন, উজ্জীবিত করেছেন মানুষকে।

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে তেমন কোনো বড় গানের অনুষ্ঠান বা স্মরণসভার আয়োজন করা হয়নি। করিমের জন্মস্থান দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামেও নেই তেমন কোনো আয়োজন। শাহ আব্দুল করিমের পরিবার ও শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি পরিষদ দিরাই এর উদ্যোগে করিমের গ্রামের বাড়িতে সীমিত পরিসরে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া জেলার ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ভক্তবৃন্দ এসে জড়ো হবেন তাঁর মাজার প্রাঙ্গণে। সেখানে তারা নিজেদের মতো করে তাদের গুরু বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমকে স্মরণ করবেন। সারা রাত ধরে গাইবেন করিমের গাওয়া ও লেখা সকল গান। এবার করোনাভাইরাসের কারণে কোনো স্থানে হচ্ছে না গানের আসর বা স্মরণসভা।

জানা যায়, অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আমৃত্যু তিনি উজানধল গ্রামেই ছিলেন। অত্যন্ত সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন তিনি। গানে-গানে অর্ধ শতাব্দিরও বেশি সময় লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের দ্বারা নানা লাঞ্ছনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে ছেড়ে পরপারে চলে যান এই বাউল।

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ভক্ত রণেশ ঠাকুর বলেন, ‘আমরা চাই বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের যে গানগুলো এখনও সংরক্ষণ করা হয়নি, সেগুলো যাতে সংরক্ষণ করা হয় এবং বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের স্মৃতি ধরে রাখতে যে সাংস্কৃতিক জাদুঘর হওয়ার কথা রয়েছে, দ্রুত যেন সেই ভবনের কাজ শুরু করা হয়।’

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম স্মৃতি পরিষদ, দিরাই শাখার সভাপতি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা করোনার কারণে এ বছর কোনো আয়োজন করিনি। তবে সীমিত পরিসরে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ভক্তবৃন্দ তাঁর বাড়িতে এসে জমায়েত হলে সেখানে কিছু গান হতে পারে।’

জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী পাভেল বলেন, ‘যেহেতু এখন করোনা চলছে। সেজন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমীর পক্ষ থেকে অনলাইনভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাউল সম্রাটকে স্মরণ করা হবে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাউল শিল্পী সূর্যলাল দাস ও বাউল বশির উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন ওই ভার্চুয়াল স্মরণসভায়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com