1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

পরিচালনার জনবল নেই, পড়ে আছে ৪০০ ভেন্টিলেটর

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: করোনা রোগীদের ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধার সৃষ্টি হয়। নিঃশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন হয় ভেন্টিলেটর সাপোর্টের। বিশেষ করে জটিল করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে করোনার বিরুদ্ধে লড়তে ভেন্টিলেটরের কোনো বিকল্প নেই। দেশের হাসপাতালগুলোতে যে পরিমাণ ভেন্টিলেটর সাপোর্ট আছে সেগুলো মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এখনও দেশের অনেক জায়গায় ভেন্টিলেটর পৌঁছাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অথচ প্রায় চার শতাধিক ভেন্টিলেটর পড়ে আছে। দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর দুনিয়ার সকল হাসপাতালে ভেন্টিলেটর স্থাপন নিয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়।
ব্যয়বহুল ও দক্ষ জনবলের অভাবে সেটি সহসাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি হাসপাতালগুলোতে। এপ্রিল ও মে মাসের দিকে দেশে করোনার তাণ্ডব পুরোদমে শুরু হলে জটিল অনেক রোগীর জন্য ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হয়েছিল। যদিও অনেক রোগীর ভাগ্যে এই সাপোর্ট জোটেনি। শীতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে বলে আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। যার পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। সংক্রমণের হার যেমন বাড়ছে মৃত্যুর হারও বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীতে জটিল করোনা রোগীদের সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে করে ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়োজন হবে। হাসপাতালগুলোতে যে পরিমাণ সাপোর্ট আছে সেটি দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নাও হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ১০০টি আধুনিক ভেন্টিলেটর উপহার দিয়েছে। এর বাইরে আরো তিন শতাধিক ভেন্টিলেটর কেনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও এনেসথেসিয়ার চিকিৎসকের অভাবে এগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। জেলা-উপজেলা শহরের হাসপাতালে এসব ভেন্টিলেটর পৌঁছানোর কথা আছে। কিন্তু দক্ষ জনবল না পেলে ভেন্টিলেটরগুলো পড়ে থাকবে। আর রাতারাতি এনেসথেসিয়ার চিকিৎসকও তৈরি করা যাবে না। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিকল্প উপায় খুঁজছে বলে জানিয়েছে।

রোববার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নতুন একশ’ ভেন্টিলেটর মেশিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন, নিজ দেশের এতো বড় বিপর্যয়ের পরেও আমেরিকা বাংলাদেশকে ১০০টি অত্যাধুনিক ভেন্টিলেটর উপহার দিয়েছে। যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ভেন্টিলেটরগুলো অত্যন্ত আধুনিক ও সহজে ব্যবহার উপযোগী। এমনকি পর্যাপ্ত ট্রেনিং ছাড়াও এই ভেন্টিলেটরগুলো ব্যবহার করা যায়। এ কারণে দেশের উপজেলা পর্যায়ে যেখানে এখনো আইসিইউ সেবা
পৌঁছানো সম্ভব হয়নি সেসব এলাকায় এই একশ’ সহ আরো নতুন ৩শ’ ভেন্টিলেটর খুব দ্রুতই পাঠানো হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআর’র উপদেষ্টা ডা. মোস্তাক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ভেন্টিলেটর পরিচালনার জন্য দক্ষ চিকিৎসক দরকার। রাতারাতি সেই চিকিৎসক তৈরি করা যাবে না। নন কোভিড অপারেশন থিয়েটার থেকে এনেসথেসিয়ার চিকিৎসক নেয়া যেতে পারে। আগেও নেয়া হয়েছিল। সম্ভবত এখন তারা ফিরে গেছে। বলেন, ভেন্টিলেটরগুলো জেলায় জেলায় দিলে হবে না। কারণ ওইখানে ভেন্টিলেটর দিতে হলে পুরো ইউনিট তৈরি করতে হবে। ইউনিট তৈরি করার মতো এত জনবলও নাই। তবে আগে থেকেই আইসিইউ সেটআপ আছে এমন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর দেয়া যাবে। কারণ ওইখানে আইসিইউ পরিচালনার জন্য চিকিৎসক আছেন। কিন্তু জেলায় দিতে চাইলে পুরো ইউনিট লাগবে। তিনি বলেন, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রাথমিকভাবে এটি করোনা রোগীদের জন্য বেশি প্রয়োজন। ভেন্টিলেটরের কাজ অনেক পরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম মানবজমিনকে বলেন, সারা দেশে আইসিইউ শয্যা ছিল না। কিন্তু এখন অনেক শয্যা বাড়ানো হয়েছে। পরিপূর্ণভাবে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা করা অনেক কঠিন। আমাদের কাছে এখন যথেষ্ট যন্ত্রপাতি আছে। কিন্তু দক্ষ জনবল নাই। যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে ১০০টি ভেন্টিলেটর দিয়েছে। এছাড়া আরো তিনশ’ ভেন্টিলেটর আমরা কিনেছি। সবমিলিয়ে প্রায় ৪০০ ভেন্টিলেটর পড়ে আছে। কিন্তু পরিচালনার জন্য দক্ষ লোক নাই। যাকে-তাকে দিয়ে ভেন্টিলেটর পরিচালনা করা যাবে না। বিভিন্ন হাসপাতালে নন-কোভিড সার্ভিসে অপারেশন বেড়েছে। তারা আমাদের কাছে এনেসথেসিয়ার লোক চাইছে। আমাদের কাছে এনেসথেসিয়ার এত লোক নাই। ভেন্টিলেটর পরিচালনার জন্য এনেসথেসিয়ার চিকিৎসক দরকার। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে বলেছি নতুন ২ হাজার মেডিকেল অফিসার যখন নেয়া হবে তখন এনেসথেসিয়ার জন্য ডেডিকেটেড ৫০০ মেডিকেল অফিসার যেন নেয়া হয়। তাহলে তাদেরকে ২/৩ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভেন্টিলেটর পরিচালনার কাজে লাগানো যাবে। না হলে এই ৪০০ ভেন্টিলেটর অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে থাকবে।

ওদিকে ভেন্টিলেটর ছাড়াও সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক হিসাবে দেখা গেছে, সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে ১৩ হাজার ৬০১টি, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে ৬০৪টি ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর আছে ৩৯৫টি। অন্যদিকে সারা দেশে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট আছে ৫৫৯টি। এসব শয্যায় রোগী ভর্তি আছে ২৭৭ জন। খালি আছে ২৮২টি আইসিইউ শয্যা। ৫৫৯ টি শয্যা সারা দেশে থাকলেও শুধু ঢাকায় রয়েছে ৩০৯টি। এসব শয্যায় রোগী ভর্তি আছে ১৯৮ জন আর খালি আছে ১১১টি শয্যা। চট্টগ্রামে আছে ৩৯টি শয্যা। এরমধ্যে রোগী ভর্তি আছে ১৬টি ও খালি আছে ২৩টি শয্যা। মানব জমিন


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com