1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:২৬ অপরাহ্ন

সিলেটে ডাকাত ‘আতঙ্ক’ রাত জেগে পাহারা

প্রতীকী ছবি

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: রাত হলেই বাড়ে আতঙ্ক। ফেসবুকে আসে ঘোষণা- ‘ডাকাত ঢুকেছে’। ঘুম হারাম হয়ে যায় মানুষের। দলে দলে লাঠি নিয়ে নামেন পাহারায়। ভোর পর্যন্ত কাটে রুদ্ধশ্বাস অবস্থায়। ডাকাত আতঙ্কের এ দৃশ্য ছিল সিলেটের গ্রামে-গ্রামে। এখন সেটি নগরেও দেখা দিয়েছে। এতো সতর্কতার মধ্যে সিলেটের ডাকাতরা দিচ্ছে হানা।

করছে ডাকাতি। এ কারণে সিলেটের মানুষের মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক আরো বেড়েছে। সিলেট জেলা পুলিশ ডাকাত ধরতে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। এ কারণে সিলেটের বিশ্বনাথে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তারের পর সিলেটের ডাকাত দলের নিয়ন্ত্রক হাজারী শিপনকেও আটক করা হয়েছে। শীত এলেই সিলেটে বাড়ে ডাকাতি। জেলার বাইরে থেকে ডাকাতরা এসে অবস্থান নিয়ে সিলেটে ডাকাতি করে বেড়ায়। এবার শীত মৌসুম শুরু হতেই বেড়েছে ডাকাত আতঙ্ক। প্রথম আতঙ্ক দেখা দেয় সিলেটের ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে। এ দুই উপজেলায় বিচ্ছিন্ন ভাবে দু’একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ দুই উপজেলার ঢাকা-সিলেট রুটের পাশে এলাকাগুলোতে ডাকাতদলের সদস্যরা দূর-দূরান্ত থেকে গাড়ি নিয়ে এসে ডাকাতি করে যায়। অস্ত্রের মুখে মানুষদের জিম্মি করে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এক্ষেত্রে বহিরাগত ডাকাতদের সঙ্গে স্থানীয় ডাকাতদের নেটওয়ার্কও কাজ করে। ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকায় বর্ষা ও শীত মৌসুমে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এবার নদী তীরবর্তী এলাকায়ও ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এ দু’টি স্থানে মানুষজন ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। প্রবাসী এলাকা বিশ্বনাথেও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গত ১৫ই ডিসেম্বর উপজেলার উত্তর ধর্মদা এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দুই ডাকাত একটি কবরস্থানে প্রবেশ করে। পরে ওই গ্রামের মসজিদের মাইকে মাইকিং করে ডাকাত এসেছে জানিয়ে দিলে এলাকার লোকজন ও পুলিশ চারদিকে বের হলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, গত ১৪ই ডিসেম্বর বিশ্বনাথ থানা এলাকায় একদল ডাকাত ডাকাতি করার জন্য একত্রিত হয়। এ ঘটনায় রাজীব এবং সবুজ নামের দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা দুইদিন আগে দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকায় ডাকাতির কথা স্বীকার করে। এ সময় ডাকাতরা তাদের দলের নেতা হিসেবে হাজী শিপনের নাম জানায়। পরে সিলেট জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত ডাকাত শিপন হাজারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তার স্বীকারোক্তি মতে কবরস্থান থেকে দু’টি দেশীয় পাইপগান, একটি গ্রিল কাটার এবং ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। শিপন হাজারীর মূল বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা তীরবর্তী এলাকায়। সে ২০০৮ সালে ডাকাতির ঘটনায় বালাগঞ্জ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলো। এখন সে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে বেড়ায়। শিপন হাজারী গ্রেপ্তার হলেও বিশ্বনাথ ও পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলায় ডাকাত আতঙ্ক কমেনি। বিজয় দিবসের দিন মধ্যরাতে উত্তর বিশ্বনাথের লামাকাজী, দক্ষিণ ছাতকের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে বলে ফেসবুকে এলাকার বাসিন্দারা স্ট্যাটাস দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদের মাইকেও ঘোষণা দেয়া হয়। এতে করে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে, খবর পাওয়ার পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠায় ওই সব এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। উত্তর বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ ছাতকের গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় ভাবে কয়েকটি ডাকাত চক্র রয়েছে। বাইরের ডাকাত দলের যোগসাজশে তারা প্রতি বছরই শীত মৌসুমে ডাকাতি করে বেড়ায়। বেশির ভাগ হাওর এলাকা হওয়ার কারণে পুলিশও অভিযানে যেতে সময় লাগে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল হোসেনের বাড়িতেও কয়েকদিন আগে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, সিলেট সদরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সিলেটের গ্রামীণ এলাকায় ডাকাতি নিয়ে যখন আতঙ্ক তখন সিলেট নগরীতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে করে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সিলেটের নগরীর পূর্ব সুবিদবাজারের ফাজিলচিস্ত এলাকায় গতকাল ভোররাতে এক সঙ্গে তিনটি বাসায় হানা দেয় ডাকাতরা। তারা বিশেষ কায়দায় একটি বাসায় ডাকাতি করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরে ফাজিলচিস্তের ২২/২ নম্বর বাসা থেকে শিশু সহ ১৬ জনকে অজ্ঞান অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই বাসার সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় ডাকাতরা বাসার ভেন্টিলেটর ও ফাঁকা স্থান দিয়ে স্প্রে নিক্ষেপ করে। এতে বাসার সবাই অজ্ঞান হয়ে যায়। এ সময় তারা গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে লুটপাট চালায়। ওই বাসা ছাড়াও ডাকাতরা পার্শ্ববর্তী আরো দু’টি বাসাতে ডাকাতি সংঘটিত করে। তারা গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে, ডাকাতির খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে জালালাবাদ থাকা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান জানিয়েছেন, স্প্রে ছিটিয়ে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দু’টি বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। কয়েক জন হাসপাতালে আছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, সিলেটের চিহ্নিত ডাকাতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। দক্ষিণ সুরমা থেকে বাবুল বিশ্বাস ওরফে জাম্প বাবুল নামে এক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। বাবুল কুখ্যাত ডাকাত তেতলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে বাবুল জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, বাবুলকে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করলে সে জকিগঞ্জ থানা ভবনের উপর থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার ডান হাত ও ডান পা ভেঙে যাবার কারণে সে পালাতে পারেনি। সর্বশেষ গত ১৩ই ডিসেম্বর তেতলী ইউনিয়নের বলদী গ্রামস্থ সাবেক চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির জন্য হানা দেয়। বাড়ির লোকজনের সাহসিকতায় স্থানীয় জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ডাকাতদল সটকে পড়ে। সিলেটের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার মিজানুর রহমান ওরফে মিজাজুলকে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে জালালাবাদ থানার জালালাবাদ ইউপি’র হেংলাকান্দি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জালালাবাদ থানার এস আই লিটন চন্দ্র নাথের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে হেংলাকান্দি জামে মসজিদ সংলগ্ন আব্দুল কাদির মিয়ার নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের তাঁবুর নিচ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দু’টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com