1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

হাইকোর্টে দুদকের প্রতিবেদন কানাডায় পিকে হালদারের পাঁচ ঠিকানা

পিকে হালদার

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কানাডায় পালিয়ে থাকা পিকে হালদারের হোল্ডিংয়ের ঠিকানা হাইকোর্টকে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে তার পাঁচটি ঠিকানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো দিন পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করতে পারে ইন্টারপোল-এমনটি জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী।

এদিকে রোববার পিকে হালদারের কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন-এমন চার ভুক্তভোগী হাইকোর্টে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। যে কোনো মূল্যে টাকা ফেরত পাওয়ার মৌখিক আবেদন করেন তারা। ভুক্তভোগীদের একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, প্রয়োজনে তার মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা বাতিল করুক, তবুও টাকা ফেরত দেওয়া হোক। আদালত চার ভুক্তভোগীর বক্তব্য লিখিত আকারে চেয়েছেন। পাশাপাশি আগামীকাল মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির জন্য রাখেন। রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেজাবীন রাব্বানি দিপা ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

রোববার আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশ নেন পিকে হালদারের পিপলস লিজিংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চার বিনিয়োগকারী। যাদের মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের বড় মেয়ে ড. নাশিদ কামাল, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা শওকত উর রহমান, ক্যানসারে আক্রান্ত সামিয়া বিনতে মাহবুব ও জনৈক তরিকুল ইসলাম। তারা জীবনের শেষ সম্বলটুকু ফিরিয়ে দিতে আদালতের কাছে আবেদন জানান। এ সময় তারা পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ও অর্থ পাচারের ঘটনায় অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধেও।

মামলার ধারাবাহিকতায় রোববার আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে কানাডায় অবস্থানরত প্রশান্ত কুমার হালদারের পাঁচটি ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে : ১. ডিরেক্টর পিঅ্যান্ডএল হাল হোল্ডিং ইন করপোরেশন, ১৬ ডিনক্রেস্ট রোড, এটোবিকক, অন, এম ৯বি ৫ ডব্লিউ ৪, কানাডা। ২. ১১ রগ রিভার ড., স্কায়বোরাফ, অন, এম ১ বি ৬ জে ৪। ৩. ১৪৮ ওয়েনডেল অ্যাভিনিউ, টরেন্টো, অন, এম৯এন ৩ আর ২। ৪. ৩-৫২৪ রু জেন টালন ও, মন্ট্রিল, কিউসি এইচ ৩ বি ২ কে ৪। ৫. ১১৫৫ বাউল রেন্স-লেভেস্ক ও, ইউনিট ২৫০০, মন্ট্রিল, কিউসি, এইচ ৩ বি ২ কে ৪।

আদালতে জমা দেওয়া দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত কুমার হালদার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন অবৈধ ব্যাবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। পরে মানি লন্ডারিং আইনে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি মামলা করে দুদক।

এতে আরও বলা হয়, বিদেশে পলাতক প্রশান্ত কুমার হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলকে অনুরোধ করা হয়। পরে ইন্টারপোল থেকে কতিপয় তথ্যাদি সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতোমধ্যে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি পিকে হালদারের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির নিমিত্তে মামলার এফআইআর-এর নোটারি করা ইংরেজি কপি ও রেড নোটিশের ড্রাফট ফর্মসহ সম্ভাব্য দেশগুলোয় তার অবস্থানের তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন গোপন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, অবন্তিকা বড়াল ও শংখ বেপারি নামে দুই ব্যক্তির নামে-বেনামে প্রশান্ত কুমার হালদার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তারা দুর্নীতি দমন কমিশনে উপস্থিত হননি এবং কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। তা ছাড়া মামলা সংক্রান্ত অন্যান্য সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তকালে মামলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিলপত্র, ব্যাংক হিসাব বিবরণী ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া আদালতের অনুমোদনক্রমে মামলা সংশ্লিষ্ট অদ্যাবধি প্রাপ্ত পিকে হালদারের নিজ নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির নামে অর্জিত প্রায় ৪৩ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫৮টি ব্যাংক হিসাব ও ১৭টি কোম্পানির শেয়ার হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। মামলা সংশ্লিষ্ট আরও রেকর্ডপত্র সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। মামলাসংশ্লিষ্ট বাকি রেকর্ডপত্র সংগ্রহপূর্বক শিগগির যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর সাক্ষ্য-স্মারক দাখিল করা হবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ইন্টারপোল রেড অ্যালার্ট জারি করবে। সেটি করলে পৃথিবীর ১৯৪টি দেশের যেকোনো দেশেই পিকে হালদার থাকুক না কেন, তা জানা যাবে।

দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, আমরা আজ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছি, আদালত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শুনানি শেষে চার ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীকে এই মামলায় পক্ষভুক্ত করে আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ-কালের মধ্যে রেড অ্যালার্টও জারি হচ্ছে।

গত ৯ ডিসেম্বর পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার হালদারের গ্রেফতারি পরোয়ানা ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো এবং মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান হাইকোর্ট। এসব তথ্য ৩ জানুয়ারির (গতকাল রোববার) মধ্যে জানাতে বলা হয়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com