1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

‘স্বপ্ননীড়ে’ যাচ্ছে সিলেটের ১০ হাজার পরিবার

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সিলেটের প্রায় ১০ হাজার গৃহহীন পরিবার মাথা গোজার ঠাই পাচ্ছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন, ভূমিহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এসব পরিবারকে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৬৮ টি ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এগুলো আগামী ২৩ জানুয়ারি উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকীগুলো আগামী মার্চ মাসের মধ্যে উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেয়ার লক্ষে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় কার্যালয়, সিলেট। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এসব ঘর নামক ‘স্বপ্ননীড়ে’ উঠবেন গৃহহীন এসব অসহায় পরিবার।

১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিটি ঘর ইটের দেওয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি। এসব সেমিপাকা ঘরে দুইটি শয়নকক্ষ, একটি খোলা বারান্দা, একটি রান্না ঘর এবং একটি শৌচাগার আছে। এর বাইরে সামনে এবং পিছনের অংশে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা।

বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) কার্যালয় সিলেট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় সবচেয়ে বেশি ঘর নির্মাণ হচ্ছে সিলেট জেলায়। এ জেলায় ৪ হাজার ১৭৮ জন এসব ঘর পাবেন। আর সবচেয়ে কম ঘর নির্মাণ হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় মাত্র ৭৮৭ জন পাচ্ছেন সেমিপাকা এ ঘর। এর বাইরে সুনামগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৯০৮ এবং মৌলভীবাজারে ১ হাজার ২২৬ হাজার জন পাবেন এ ঘর। ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগে ২ হাজার ৬৬৮ টি ঘর নির্মাণের কাজ শেষে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ১ হাজার ৪০৬, সুনামগঞ্জে ৪০৭, হবিগঞ্জে ৩১৩ এবং মৌলভীবাজারে ৫৪২ টি ঘর আগামী ২৩ জানুয়ারি উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর সেমিপাকা ঘরের নকশা

বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) কার্যালয় সিলেট সূত্রে আরও জানা যায়, সিলেট জেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরের সংখ্যা ৪ হাজার ১৭৮ টি, এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হচ্ছে ১৪০৬ টি। উপজেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঘর বরাদ্দ পেয়েছে বালাগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলায় ৮৭৫ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে আর ২৩ জানুয়ারি এ উপজেলায় ১৪০ টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দক্ষিণ সুরমা উপজেলায়। এ উপজেলায় ১২০ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে আর ২৩ জানুয়ারি ১৫ টি ঘর হস্তান্তর করা হচ্ছে।

এর বাইরে সিলেট সদর উপজেলায় ১৪৪ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হবে ১৭ টি, ওসমানীনগরে বরাদ্দ হয়েছে ৫৩৩ টি ঘর এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ১৪০ টি, বিশ্বনাথে বরাদ্দ ৬৬৯ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ১২০ টি, গোলাপগঞ্জে বরাদ্দ ২০০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ৭৭ টি, বিয়ানীবাজারে বরাদ্দ হয়েছে ১০৪ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৫০ টি, গোয়াইনঘাটে বরাদ্দ হয়েছে ৫০০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ২৫০ টি, জৈন্তাপুরে বরাদ্দ হয়েছে ৩৩০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ১২০ টি, ফেঞ্চুগঞ্জে বরাদ্দ হয়েছে ১৩০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৭২ টি, কানাইঘাটে বরাদ্দ হয়েছে ১৯৩ এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ১৯৩ টি, জকিগঞ্জে বরাদ্দ হয়েছে ১৩০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৫৫ টি এবং কোম্পানীগঞ্জে বরাদ্দ হয়েছে ২৫০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ১৫৭ টি।

অন্যদিকে মৌলভীবাজারে ১২২৬ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হচ্ছে ৫৪২ টি। এসব ঘরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ মৌলভীবাজার সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় ৪৭৬ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হচ্ছে ১৫০ টি ঘর। আর জেলার জুড়ী উপজেলায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে। এ উপজেলায় বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৭ টি। এই ৭ টি ঘরই আগামী ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর করা হবে।

এর বাইরে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বরাদ্দ হয়েছে ৩০০ টি এরমধ্যে ১০০ টি হস্তান্তর করা হবে, কমলগঞ্জে বরাদ্দ হয়েছে ৮৫ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ৬০ টি ঘর, রাজনগরে বরাদ্দ ৯৮ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ৯০ টি, কুলাউড়ায় বরাদ্দ হয়েছে ১১০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ৮৫ টি আর বড়লেখা উপজেলায় বরাদ্দ হবে ৫০ টি। এই ৫০ টি ঘরই আগামী ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর করা হবে।

আর হবিগঞ্জ জেলায় বরাদ্দ হয়েছে ৭৮৭ টি এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হবে ৩১৩ টি। এ জেলায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে সদর উপজেলা। এ উপজেলায় ১৩৫ টি ঘর বরাদ্দ পেয়েছে এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ৫০ টি। আর জেলায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ বাহুবল উপজেলায়। এ উপজেলায় ৫৭ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে এরমধ্যে হস্তান্তর করা হবে ২০ টি।

এর বাইরে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দ ৫৫ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ২৫ টি, লাখাই উপজেলায় বরাদ্দ ৭৭ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হবে ১৮ টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ১১০ টি বরাদ্দ হয়েছে এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ২৫ টি, বানিয়াচংয়ে বরাদ্দ হয়েছে ১০৫ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৩৭ টি, আজমিরীগঞ্জে বরাদ্দ হয়েছে ৮৮ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ২০ টি, চুনারুঘাট উপজেলায় ৮০ টি বরাদ্দ হয়েছে এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৭২ টি আর মাধবপুর উপজেলায় বরাদ্দ ৮০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৪৬ টি।আর সুনামগঞ্জ জেলায় বরাদ্দ ৩ হাজার ৯০৮ টি এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হবে ৪০৭ টি ঘর। এ জেলায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ শাল্লা থানায়। এ থানায় বরাদ্দ ১৫৮১ টি এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হচ্ছে ১৬০ টি ঘর। আর সবচেয়ে কম বরাদ্দ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। এ উপজেলায় বরাদ্দ ৫০ টি এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি ঘর পাচ্ছেন ৩০ জন।

এর বাইরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বরাদ্দ ৪০০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৫০ টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দ ১৫১ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ১০ টি, ছাতক উপজেলায় বরাদ্দ ১৫০ এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ১০ টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় বরাদ্দ ২৬০ টি এরমধ্যে ১০ টি ঘর হস্তান্তর হচ্ছে ২৩ জানুয়ারি, দিরাই উপজেলায় ৭৪৬ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৪০ টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় বরাদ্দ ১০০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ২৩ টি, তাহিরপুর উপজেলায় বরাদ্দ ৭০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ২৫ টি, বিশ^ম্ভরপুরে বরাদ্দ ৫০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৩০ টি, ধর্মপাশায় বরাদ্দ হয়েছে ৩০০ টি এরমধ্যে হস্তান্তর হচ্ছে ৩৪ টি এবং জামালগঞ্জে বরাদ্দ ১০০ টি এরমধ্যে ২৩ জানুয়ারি হস্তান্তর হচ্ছে ২৫ টি ঘর।

সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফজলুল কবীর জানান, মুজিববর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন সব পরিবারকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর উপহার দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৬৮ টি গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে নতুন ঘর তৈরি শেষে হস্তান্তর করা হবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com