1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
‘ভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের জন্য উদ্বেগ’, প্রতিবেশীদের জন্য অশনি সঙ্কেত কালবৈশাখী ঝড়ে দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুন ছিঁড়ে পদ্মায় মাইক্রোবাস আন্দোলনের মুখে বাড়ল ঈদের ছুটি রাশিয়া-চীনের তৈরি বিপুল অস্ত্রের চালান জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র হটস্পট দক্ষিণ এশিয়া, ভারতের প্রতিবেশীদের জন্য অশনি সংকেত মমতার নতুন মন্ত্রিপরিষদে সংখ্যালঘু ৭ মুসলিম আফগানিস্তানে স্কুলে জঙ্গি হামলায় নিহত বেড়ে ৬৮, বেশিরভাগই স্কুলছাত্রী ভারতের যে রাজ্যে প্রতি দুজনের একজন করোনা পজিটিভ করোনায় বিপর্যস্ত ভারতে আরও ৪ হাজারের বেশি মৃত্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা নিয়ে এবার ‘আদালত অবমাননার’ অভিযোগ

বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল রত্ন শাহ এ এম এস কিবরিয়া

সি এম তোফায়েল সামি ::  বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল রত্ন শাহ এ.এম.এস (১৯৩১-২০০৫) অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, রাজনীতিক। পুরো নাম শাহ আবু মোহাম্মদ শামসুল কিবরিয়া। ১৯৩১ সালের ১ মে হবিগঞ্জে তাঁর জন্ম। পিতা শাহ ইমতিয়াজ আলী ছিলেন সিলেট অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের অন্যতম উদ্যোক্তা। শামসুল কিবরিয়া মৌলভী বাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৯ সালে সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ১৯৫২ সালে বি.এ (অনার্স) এবং ১৯৫৩ সালে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন এবং দেড় মাস কারাবরণ করেন। In all his examinations from Matriculation to Master’s he stood 1st in 1st Division / 1st class.জীবনের কোনো পরীক্ষায় উনি ২য় হন নাই।

শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষায় সারা পাকিস্তানে প্রথম স্থান অধিকার করে পররাষ্ট্র সার্ভিসে যোগ দেন। কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে তিনি বোস্টনে ফ্লেচার স্কুল অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি ও লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র অফিস থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং প্যারিসে ফরাসী ভাষা শিক্ষার কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত শাহ কিবরিয়া পাকিস্তান কূটনৈতিক মিশনের সদস্য হিসেবে কলকাতা, কায়রো, জাতিসংঘ মিশন, নিউইয়র্ক, তেহরান এবং জাকার্তায় দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এবং ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। শাহ কিবরিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৪ আগস্ট ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাস ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন সংগঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেন।

তিনি মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য এবং ওয়াশিংটনের সিনিয়র কলামিস্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। সে সময়ে তিনি ওয়াশিংটন থেকে একটি বুলেটিন প্রকাশ করতেন, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের যুদ্ধ-পরিস্থিতি, মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম এবং যুদ্ধকালীন অবস্থায় হানাদার বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ বাংলাদেশের জনগণের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিভাগে ডিরেক্টর জেনারেল পদে যোগ দেন এবং মার্চ মাসে পররাষ্ট্র সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিজিতে হাই কমিশনার এবং জাতিসংঘের ইউরোপীয় অফিস জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি পররাষ্ট্র সচিব পদে প্রত্যাবর্তন করেন। এ সময়ে তিনি সার্কের প্রাথমিক ধারণাপত্রের খসড়া তৈরি করেন। ১৯৭৯ সালে কিবরিয়া গ্রুপ-৭৭ এর প্রস্ত্ততিমূলক কমিটির নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের বাণিজ্য এবং উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনে (আঙ্কটাড) অংশ নেন। ১৯৮১ সালের ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শাহ কিবরিয়া ১৯৮১ সালের মে মাস থেকে ১৯৯২ সালের মার্চ পর্যন্ত জাতিসংঘের এশিয়া ও প্যাসেফিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ)-এর নির্বাহী সচিব হিসেবে আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেলের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কম্বোডিয়ান হিউম্যানিটারিয়ান রিলিফ প্রোগ্রামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন।

শাহ কিবরিয়া ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁকে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। ১৯৯৪ সালে তাঁকে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন।

শাহ কিবরিয়া অর্থমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব¡ পালনকালে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বৃদ্ধ ভাতা, বিধবা ভাতা, ক্ষুদ্র পরিসরের কৃষিঋণ কার্যক্রম, স্বল্প-ব্যয়ে গৃহায়ন স্কিম, যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচি, এবং ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কর্মসূচি। তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রীর শুল্কমুক্ত আমদানির ক্ষেত্রেও তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেন। ১৯৯৮ সালের বন্যার প্রভাব মোকাবেলায় তিনি কাউন্টার সাইক্লিক্যাল পলিসি গ্রহণ করেন। তিনি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষিমুখী অর্থনীতির প্রসারের উদ্যোগ নেন এবং তা দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা আনয়নে সহায়ক হয়।

শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া ১৯৯৭ সালে এশিয়া ও প্যাসেফিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (এসকাপ)-এর চেয়ারম্যান এবং ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (ইফাদ)-এর গর্ভনিং কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ-এর চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স- এর অল্টারনেট চেয়ারম্যান ছিলেন।

এ এম এস কিবরিয়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কলামিস্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন সাপ্তাহিক মৃদুভাষণ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: মৃদুভাষণ (১৯৯৭), The Emerging New World Order (১৯৯৯), Bangladesh at the Crossroads (1999)(১৯৯৯) এবং চিত্ত যেথা ভয় শূণ্য।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এই হামলায় আরও নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক। আমরা চাই প্রকৃত হত্যাকারী এবং হত্যার মদদদাতাকারী, সহায়তাকারীদের প্রকাশ্যে আদলাতে বিচার হউক। নতুন একটি চার্জশীট দেওয়া হয়েছে, যাতে কয়েকটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির নাম রয়েছে। আশা করি তাড়াতাড়ি বিচার কাজ শেষ হবে এবং প্রকৃত আসামিদের শাস্তি হবে। এটা আমাদের দূরভাগ্য যে দেশের একজন সুসন্তান এভাবে ঘাতকের নির্মমতায় ঝরে পড়লেন।

বাংলাদেশ সরকার তাঁহাকে মরোনউত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছেন।

জনাব কিবরিয়া বিয়ে করেন জনাব মরহুম আলী আহমদের মেয়ে আসমা কিবরিয়াকে। আলী আহমদ সাহেব একসময় সিলেটের ডিসি ছিলেন পাকিস্তান সময়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বড় চাচা মরহুম আবদুল মুঈদ চৌধুরী সাহেবের সহপাঠী ছিলেন। মরহুম আসমা কিবরিয়া একজন বিদুষী মহিলা ছিলেন। She was an Artist of fame.
His son Reza Kibria is a brilliant economist and also a political figure. Daughter Nazli Kibria is a Professor in an American University.
ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি খুব অমায়িক, ভদ্র, পরোপকারী মানুষ ছিলেন। অন্যায়কে তিনি প্রসরয় দিতেন না। কারও উপর অবিচার হলে তিনি তার প্রতিকার করার চেষ্টা করতেন। সবাইকে তিনি আপনি করে বলতেন।

আজ উনার মৃত্যু দিবসে আমি উনাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। মহান আল্লাহ জনাব কিবরিয়াকে বেহেশত নসিব করুন। আমিন।

ঢাকা , ২৭ জানুয়ারি ২০২১


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com