1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমার ছাড়ছে বাসিন্দারা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: মার্শাল ল’ জারির পর ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে। অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর আরও কঠোর হয়েছে সেনা-পুলিশ। দমনপীড়ন ও ধরপাকড়ের সঙ্গে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে। ব্যবহার করছে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ মারণাস্ত্র। দেখামাত্রই গুলি করছে।

শ্বাসরুদ্ধকর এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে শহর ছাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তল্পিতল্পা গুছিয়ে কেউ ট্রাকে করে, আবার কেউ টুকটুক (স্থানীয় তিন চাকার গাড়ি) চড়ে যে যেদিকে পারছে পালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে ইয়াঙ্গুনের এমন চিত্র তুলে ধরেছে এএফপি।

জান্তাবিরোধী বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন গেছে গত রোববার। এদিন দাঙ্গা পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ৫০ বিক্ষোভকারী। এর আগে ৩ মার্চ একই দিনে ৩৮ জনকে হত্যা করে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হলেও রোববার সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে। খবরে বলা হয়, অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিয়ানমারে চীনবিরোধী মনোভাব ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। বিক্ষোভকারীরা মনে করে, সামরিক অভ্যুত্থানে বাহিনীকে মদদ দিচ্ছে চীন।

সেই ক্ষোভ থেকে রোববার পশ্চিম ইয়াঙ্গুনের হ্লাইংথায়া উপশহরীয় এলাকায় চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত বেশ কয়েকটি কল-কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তাদের ওপর গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। কারখানায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় মিয়ানমারের চীনা দূতাবাস এদিনই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এরপরই ওই এলাকাসহ ইয়াঙ্গুনের দুটি জায়গায় মার্শাল ল’ জারি করে সেনা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মান্দালয়ের কয়েকটি জায়গায় সামরিক আইন জারি করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় সামারিক ট্রাইব্যুনালে বিক্ষোভকারীদের বিচার ও সাজা দিতে পারবে জান্তা কর্তৃপক্ষ। এমনকি তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারবে। সামরিক আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মিয়ানমারের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনাবাহিনীর এই মার্শাল ল’র কারণে সেনা কমান্ডারদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে একপেশে ও কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন বেসামরিক প্রশাসক ও বিচারকরা। বিশ্লেষকদের এই উদ্বেগ ইতোমধ্যে সত্য হতে শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, এই আইন থেকে বাঁচতে মানুষ দলে দলে শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। মঙ্গলবার এ সম্পর্কিত বেশকিছু ছবিও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে চার শতাধিক মানুষ। সোমবার ভারতের একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও দমকল কর্মীও রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, জান্তা সরকার প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলি চালানোর যে আদেশ দিয়েছে, সেটি মানতে অস্বীকার করায় তারা নির্যাতনের স্বীকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন। আর এমন আশঙ্কা থেকে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, শুধু গত শুক্রবারই মিয়ানমার থেকে ১১৬ জনের মতো সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশে রাজি হননি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এসব অনুপ্রবেশ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

তবে পাহাড়ি এলাকায় অনুপ্রবেশ বন্ধে নজরদারি খুব সহজ নয়। এ ছাড়া প্রত্যন্ত সীমান্তের উভয় পাশে মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ট জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবেও সম্পর্ক রয়েছে।

১০ সরকারি কর্মকর্তার কারাদণ্ড : মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ১০ সরকারি কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির সেনা সরকার। এই দশজনের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছে। মঙ্গলবার এক শুনানির পর তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

সেনা অভ্যুত্থানের দুদিন পরই মিয়ানমারে নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক

দেন দেশটির চিকিৎসকরা। এরপর এই আন্দোলনে অংশ নেয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংহতি প্রকাশ করেন কৃষক-মজুর-শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ। অংশ নেন কয়েকশ পুলিশ কর্মকর্তাও। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ১০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com