1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

মদন মোহনসহ সরকারি হচ্ছে সিলেটের ১০ কলেজ, সারাদেশে ২৭১

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সিলেটের মদন মোহন কলেজসহ দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজ সরকারি হচ্ছে। মদন মোহন কলেজসহ সিলেট জেলার আরো ৯ টি কলেজের নাম রয়েছে সরকারিকরণের তালিকায়।

এ তালিকায় থাকা সিলেটের বাকি কলেজগুলো হচ্ছে- গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজ, বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ, কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বনাথ কলেজ, দক্ষিণ সুরমা কলেজ, ইমরান আহমেদ মহিলা কলেজ ও গোয়ালাবাজার আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। কলেজগুলো সরকারিকরণে এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে। রোববার (১২ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যার ফলে এ নিয়ে দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৯৮। বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাসহ দেশে ৩২৭টি সরকারি কলেজ আছে।

তবে এসব কলেজের শিক্ষকদের সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্তির সুযোগ রাখায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। আবার জাতীয়করণ হতে যাওয়া কলেজশিক্ষকেরা ‘আপাতত খুশি’ হলেও বিধিমালার কিছু বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যেও আছে আপত্তি। তবে তাঁরা চাইছেন আগে জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে হোক। এরপর পর্যালোচনা করে তাঁরা অবস্থান জানাবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয়করণ হতে যাওয়া এক শিক্ষকনেতা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, গত বৃহস্পতিবার শেষবেলায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন দেওয়া সারসংক্ষেপটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসেছে। এর আগে ২ আগস্ট তাঁরা সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত সারসংক্ষেপটি মন্ত্রণালয়ে আসার পর রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

দেশের যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজ জাতীয়করণের উদ্যোগ নেয় সরকার। জাতীয়করণের জন্য ২০১৬ সাল থেকে তালিকাভুক্তির কাজ শুরু করা হয়। চূড়ান্তভাবে ২৭১টি কলেজ জাতীয়করণের অনুমোদন মিলেছে। এসব কলেজে ৮ থেকে ১০ হাজার শিক্ষক রয়েছেন।

এসব শিক্ষকের বদলি, পদায়ন ও মর্যাদা কী হবে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। কারণ, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন, জাতীয়করণ হতে যাওয়া বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তি তাঁরা কোনোভাবেই মানবেন না। আর জাতীয়করণের তালিকায় থাকা কলেজের শিক্ষকেরা বলে আসছেন, তাঁদেরও আগের মতো ক্যাডার কর্মকর্তা করতে হবে। এ রকম পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের জন্য ‘সম্মানজনক’ হয়, এমন কৌশল নিয়ে গত ৩১ জুলাই ‘সরকারিকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকৃত বিধিমালা ২০১৮’ জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই বিধিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে বেসরকারি কলেজের যেকোনো শিক্ষক শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতে পিএসসির অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। পিএসসির সুপারিশ পেলে তাঁকে শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া শিক্ষকেরা বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও দপ্তরে বদলি হতে পারবেন। তবে বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি হতে যাওয়া কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকেরা (বেসরকারি কলেজে সহযোগী অধ্যাপক নেই) নন-ক্যাডার হিসেবে নিজ নিজ পদে নিয়োগ পাবেন। তাঁদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

এই বিধিমালার পর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতাদের একটি অংশ খুশি। যদিও সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে। সমিতির সভাপতি আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, জাতীয়করণ হওয়া কলেজশিক্ষকেরা বদলি হতে পারবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী যে অনুশাসন দিয়েছিলেন, তাতে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। কিন্তু চূড়ান্তভাবে দেখা যাচ্ছে, ওই সব কলেজের শিক্ষকদেরও পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। এটা নিয়েই তাঁদের আপত্তি।

কলেজ সরকারি করণের ব্যাপারে মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন- এ প্রক্রিয়া চলছে দীর্ঘদিন থেকে। যা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও বিষয়টি এসেছে। তবে তিনি লিখিতভাবে এখনো কলেজ সরকারি করণের কোনো চিঠি পাননি।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী বলেন- কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া একেবারে শেষ পর্যায়ে। আজ রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাননি। শীঘ্রই হয়তো মন্ত্রনালয় থেকে চিঠি আসবে।

তিনি বলেন- সরকারের এ ধরণের যুগান্তকারী পদক্ষেপে শিক্ষার বিস্তারে এবং শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি হওয়ায় গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার বিস্তার লাভ করবে। সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্তের জন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে সিলেটের ১০ টি কলেজ সরকারি করণের পাশাপাশি হবিগঞ্জে ৫ টি, মৌলভীবাজারের ৫ টি এবং সুনামগঞ্জের ৮ টি কলেজ সরকারিকরণের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com