1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

প্রেমিককে বিয়ে করে স্বামী হত্যায় গ্রেপ্তার সিলেটের শিপা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: উকিল স্বামীর অজান্তে খালাতো ভাই মাহির প্রেমে পড়েছিলেন শিপা বেগম। এরপর থেকে পরকীয়া চলতে থাকে প্রেমিকের সঙ্গে। হঠাৎ করে মারা যান উকিল স্বামী। মৃত্যুর ১০ দিনও হয়নি। এরই মধ্যে পরকীয়া প্রেমিক মাহিকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন শিপা বেগম। ঘরে ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ও শিশুপুত্র থাকলেও নতুন জীবন শুরু করতে সময় নেননি তিনি। বিয়ের পর স্বজনদের কাছে নিজেও স্বীকার করেছিলেন পরকীয়া প্রেমের কথা। তবে শেষরক্ষা হয়নি শিপা বেগমের।

স্বামী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে। আর তার নতুন স্বামী মাহিও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটে। থানায় মামলা দায়ের ও শিপা গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। সিলেট জেলা বারের পরিচিত আইনজীবী ছিলেন আনোয়ার হোসেন। তার বাড়ি শিবের বাজারের দীঘিরপাড় গ্রামে। আনোয়ার হোসেনের নিজস্ব বাসা রয়েছে নগরীর তালতলা এলাকায়। সেখানে তিনি স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী শিপা বেগমের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামে। গত ৩০শে এপ্রিল রমজানের দিনে মারা যান আনোয়ার হোসেন। স্বামীর মৃত্যুর পর শিপা তার স্বজনদের জানিয়েছিলেন, ডায়াবেটিস নীল হয়ে তার স্বামী মারা গেছেন। মৃত্যুর দিন বিকাল ৩টার দিকে তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর সবাইকে জানান। স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করে স্বজনরা মৃত্যু নিয়ে কোনো সন্দেহ করেননি। তারা আনোয়ার হোসেনের লাশ গ্রামের বাড়ি শিবের বাজারের দীঘিরপাড়ে নিয়ে সমাহিত করেন। আনোয়ারের মৃত্যুতে সবাই শোকে কাতর তখনই খবর আসে শিপা বেগমের নতুন বিয়ের। স্বামীর বাড়ির লোকজনের তখন খবরটি বিশ্বাস হয়নি। তারা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন- আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় শিপা বেগম তার খালাতো ভাই মাহিকে বিয়ে করেছেন। মাহির পুরো নাম শাহজাহান চৌধুরী মাহি। তার বাড়ি কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ির উপরপাড়া গ্রামে। এই বিয়ে নিয়েই তাদের সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনে শিপার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন মারা যাওয়া আনোয়ার হোসেনের ছোটো ভাই মনোয়ার হোসেন। ফোনে কথা বলার সময় শিপা নিজেই স্বীকার করেন, তিনি মাহিকে দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসেন। এবং তাদের দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে আনোয়ারের মৃত্যুর পর তারা বিয়ে করেছেন। এবং তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত থেকেই তাদের বিয়ে পড়িয়েছেন। এরপর থেকে আইনজীবী স্বামী আনোয়ার হোসেনের রেখে যাওয়া বাসাতেই তিনি নতুন স্বামী মাহিকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।

মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ওইদিন তিনি শিপার সঙ্গে প্রায় ৪৩ মিনিট কথা বলেন। তার সব কথা রেকর্ড রয়েছে। ওইদিন কথা বলায় স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শিপার সঙ্গে মাহির পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহি প্রায় সময় শিপার বাসায় যাতায়াত করতো। তিনি জানান, ফোনালাপের পর তার ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হয়। কারণ, তার ভাই আনোয়ারের লাশ ধোয়ার সময় নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। এছাড়া মুখ ফোলা ছিল। শ্বাসরোধ করে তার ভাইকে খুন করা হতে পারে বলে ধারণা করেন তিনি। এ নিয়ে তিনি স্বজন ও আনোয়ার হোসেনের আইনজীবী সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। মোবাইলের রেকর্ড শোনান। পরে সবার মতামত নিয়ে তিনি ১লা জুন সিলেটের আদালতে আইনজীবী আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলা করেন। এ সময় তিনি আদালতে শিপার সঙ্গে কথা বলার ফোন রেকর্ডও দাখিল করেন। আদালত সূত্র জানান, হত্যার ঘটনায় গত ১লা জুন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন আনোয়ার হোসেনের ভাই মনোয়ার হোসেন। পরে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে কোতোয়ালি থানার ওসিকে ৩০২ ধারায় মামলা রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলায় শিপা বেগমের বর্তমানে স্বামী শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে প্রধান আসামি ও শিপাকে দ্বিতীয় আসামি করে মোট ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে শিপার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। এদিকে মামলা রেকর্ড করার পর গত বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তালতলাস্থল ৩ নম্বর বাসা থেকে শিপাকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় মাহিকে বাসায় পাওয়া যায়নি। শিপা গ্রেপ্তারের পর থেকে মাহিও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইউনূস মানবজমিনকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া প্রেমের কারণে আইনজীবী আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করা হতে পারে। শিপাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এখনো রিমান্ডের শুনানি হয়নি। একই সঙ্গে আদালতে নিহতের মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।মানবজমিন


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com