1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

‘বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাত উপেক্ষিত’

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ দুই খাত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উপেক্ষিত হয়েছে। মহামারির সময় বিবেচনায় এই খাতকে প্রাধান্য দেয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বরাদ্দের পুরো টাকাই অপব্যবহার করছে, ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই আমরা ব্যবহার করতে পারছি না, অথচ এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, লুটপাট হচ্ছে। সোমবার ২০২১-২২ অর্থবছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ ‘তারুণ্যের বাজেট পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবার রাজধানীর পল্টনে প্রীতম জামান টাওয়ারে পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ড. রেজা কিবরিয়া সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান। সেমিনারে মূল বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন। যুব পরিষদের সদস্য সচিব মঞ্জুর মোর্শেদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ছাত্র, যুব ও শ্রমিক পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর, যুব পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ ও যুগ্ম আহবায়ক তারেক রহমান। শ্রমিক পরিষদের আহবায়ক আব্দুর রহমান ও সদস্য সচিব আরিফ হোসেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই বাজেটে যাদের অনেক সম্পদ আছে যেমন কর্পোরেট শ্রেণী, গার্মেন্টস মালিক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পুঁজিপতি ইত্যাদি তাদেরকেই সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে দরিদ্র, সম্পদহীন, কম সম্পদশালী বিশাল জনগোষ্ঠীর উপর উল্টো করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কিছু তেমন দেয়া হয়নি।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও কয়লা নির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বছর বছর বাজেটে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, অথচ এসব কোম্পানির বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। এছাড়া তেল, গ্যাসও পানির দাম কয়েকদিন পরপর বাড়িয়ে নি¤œ আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস করে দিচ্ছে এ সরকার।

সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, এই বাজেট পরিবেশ বান্ধব হয়নি,গত বছর থেকেও এবার পরিবেশ-প্রাণ-প্রকৃতিকে অনেক কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুলহক নুর বলেন, বাজেট একটি দেশের আয়-ব্যয়সহ সামগ্রিক কর্মকা- পরিচালনা ও উন্নয়নের মাপকাঠি। তিনি বলেন, মহামারী বিবেচনায় এ বাজেটে সেভাবে জনস্বার্থের প্রতিফলন ঘটেনি। এ পরিস্থিতিতে যেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া দরকার ছিলো। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন ভুর্তুকি বা প্রণোদনা নেই।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন শিক্ষাখাতে ৭১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ১১.৯২%। যা আন্তর্জাতিক মানের দিক থেকে নগন্য। যেকোন দেশের শিক্ষাখাতে বাজেট মোট বাজেটের ১৫-২০% হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে সবসময় শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতকে সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। এই বাজেটে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের উপরে ১৫% ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। যেটি প্রত্যাহার করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষাখাত একপ্রকার ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও শিক্ষা নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায় নি। যেটি খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com