1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

রাখে আল্লাহ, মারে কে!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: একেবারে অপরিণত বয়সে অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের ৫ মাস আগে জন্ম নিয়েছিল রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসন। তখন তার ওজন ছিল এক পাউন্ডেরও কম। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারবেন- এমন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছে ওই শিশুটি। বেঁচে আছে সে। শুধু বেঁচে আছে, এমন নয়। প্রথম জন্মবার্ষিকীও উদযাপন করেছে রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসন। সবচেয়ে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিয়ে বেঁচে থাকার রেকর্ড গড়েছে সে।
তাই তাকে স্থান দেয়া হয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে চিলড্রেনস মিনেসোটা হাসপাতালে জন্ম হয়েছিল রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসনের। তার মা বেথ হাচিনসন মারাত্মক অসুস্থতায় ভোগার কারণে তাকে জন্ম দেয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের ১৩১ দিন আগে জন্ম হয়েছিল তার। তখন তার ওজন ছিল ১১.৯ আউন্স। এ সময় রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসন এত ছোট্ট ছিল যে, তার পিতামাতা তাকে তাদের এক হাতের তালুর ওপর ধারণ করতে পারতেন।

চিলড্রেনস মিনেসোটা হামপাতালের স্নায়ুবিদ ড. স্ট্যাসি কার্ন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে বলেছেন, এত আগে সন্তান জন্ম দিলে কি কি সমস্যা হতে পারে সে সম্পর্কে বাচ্চাটির পিতা রিক ও মা বেথ’কে কাউন্সিলিং বা পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তাদেরকে বলা হয়েছিল, এ অবস্থায় বাচ্চা প্রসব করালে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা শূন্য ভাগ। তারা রাজি হয়ে গেলেন। আমি জানতাম, রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসনের প্রথম কয়েকটি সপ্তাহ হবে খুবই জটিল সময়। যদি সে এই সময়টা পেরিয়ে আসতে পারে, তাহলে হয়তো বেঁচে থাকতে পারে।

হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেন বেথ। কিন্তু চারদিকে তখন করোনা ভাইরাসের ছড়াছড়ি। হাসপাতালে সন্তানের পাশে উপস্থিত থাকতে পারলেন না তারা। এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যদের কেউই রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসনকে দেখতে পেল না। তাই উইসকনসিনের সেইন্ট ক্রোইক্স কাউন্টির বাসা থেকে প্রতিদিন পিতামাতাকে সফর করে যেতে হতো মিনিয়াপোলিসে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে রিক বলেছেন, আমাদের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে, হাসপাতালে রয়েছে ছেলে। তাকে দেখতে যেতে হবে। তাকে সাপোর্ট করতে হবে।

হাসপাতালে জন্ম হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাসায় নেয়ার অনুমতি দেয়া হয় রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসনকে। কার্ন বলেন, যেদিন রিচার্ডকে এনআইসিইউ থেকে ছাড়পত্র দেয়া হলো সেদিন ছিল বিশেষ দিন। আমি তাকে হাতে তুলে নিলাম। তখন আমার চোখ থেকে ঝর ঝর করে অশ্রু ঝরছে। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এটা সেই ছোট্ট বাচ্চা, যে ক্ষুদ্র আকারে জন্ম নিয়েছে। মারাত্মক অসুস্থ ছিল। সে বেঁচে থাকবে কিনা তা নিয়েই ছিল সংশয়। সেই ছোট্ট বাচ্চা, যাকে আমার হাতের তালুতে রাখতে পেরেছিলাম, তার ত্বক ছিল স্বচ্ছ। আমি তার পাঁজরের হাড়গুলো দেখতে পাচ্ছিলাম। শরীরের ভিতর দিয়ে ধমনী-শিরাগুলো কিভাবে প্রবাহিত হয়েছে তার সবটা দেখতে পাচ্ছিলাম।

অবশেষে সেই ছোট্ট রিচার্ড ৫ই জুন তার প্রথম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে। এ সময় চারপাশে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সবাই। বেথ বলেন, রিচার্ড স্কট উইলিয়াম হাচিনসন রেকর্ড গড়েছে। এখনও তাকে নিয়ে আমি বিস্ময় প্রকাশ করি। আমি কতটুকু খুশি তা বলে শেষ করতে পারবো না।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com