1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

খাঁচায় ঢুকিয়ে ২ শিশুকে ইলেকট্রিক শক, মামলায় আসামি আ’লীগ নেতা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কক্সবাজারের রামুতে মাত্র দেড়শ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে মুরগির খাঁচায় বন্দি করে দুই শিশুকে ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরমানুল হক নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আটকে রাখা নির্যাতিত শিশু সোহেলকেও।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম। মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মো রিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেড়শ’ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে সোহেল ও ইব্রাহিম নামের দুই শিশুকে খাঁচায় বন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রিফাত করিম।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার নাম রিফাত করিম (৩২)। ঈদগড় ৪নং ওয়ার্ডের মো. শরিফ পাড়ার নেজাম উদ্দিনের ছেলে।

নির্যাতনের শিকার দুই শিশু ঈদগড় ৪নং ওয়ার্ডের মো. শরিফ পাড়া এলাকার প্রতিবন্ধী মো. নুরুল আলম ছেলে সোহেল (১০) ও রশিদ আহমদের ছেলে ইব্রাহিম (১০)

এ ঘটনার পর চার দিন অতিবাহিত হলেও সরকার দলীয় দুই প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপের কারণে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি উল্টো নির্যাতিত দুই পরিবারকে এলাকা ছাড়তে হুমকিও দেন অভিযুক্তরা।

এদিকে এসব আদ্যোপান্ত তুলে ধরে বিভিন্ন অনলাইন ভার্সনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তবে প্রতিবেদককে তথ্য ও নির্যাতনের একটি ভিডিও ক্লিপ সরবরাহ করায় নির্যাতিত শিশু ইব্রাহিমের বাড়িতে হামলা ও আরেক নির্যাতনের শিকার সোহেলকে তুলে নিয়ে বাড়িতে আটকে রাখে অভিযুক্ত রিফাত করিম।

খবর পেয়ে গভীর রাতে অভিযান চালায় রামু থানা পুলিশ। এ সময় আটকে রাখে সোহেলকে উদ্ধার ও দুইজনকে আটক করা হয়। এরপর আজ সকালে মামলা রেকর্ড করে রামু থানা পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার ওসি আনোয়ারুল আলম জানান, এ ঘটনায় রিফাতকে প্রধান আসামি করে মঙ্গলবার সকালে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে আরমানুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঈদগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভুট্টো জানান, ঈদগড় বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত করিমের একটা মুরগির দোকান আছে। সেখানে পেটের দায়ে দুই বেলা ভাতের বিনিময়ে কাজ করে শিশু সোহেল। ওই দোকান থেকে মাত্র দেড়শ’ টাকা চুরির অভিযোগে শিশু সোহেল ও তার বন্ধু ইব্রাহিমকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা খাঁচায় বন্দি রেখে শত শত মানুষের সামনে নির্যাতন করেন রিফাত।

তিনি জানান, পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে এক কলেজছাত্রের ওপরে হামলা চালায় অভিযুক্ত ও তার লোকজন।

স্থানীয়দের দাবি, ঈদগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরু আলমের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠনে রিফাত করিম। জড়িয়ে পড়েন দখলসহ নানা অপরাধমূলক কাজে। দুই শিশুদের নির্যাতনের পরও অভিযুক্তদের পক্ষে নিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন নুরু আলম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই শিশুকে খাঁচায় বন্দি করে নির্যাতনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন রিফাত করিম।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com