1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৫ অপরাহ্ন

রিচার্লিসনের জোড়া গোলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল ব্রাজিল

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: টোকিও অলিম্পিকে ফুটবল ইভেন্টে নিজেদের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় সাইতামা স্টেডিয়ামে শুরু হয় ম্যাচটি। ম্যাচে সেলেকাওদের বিপক্ষে সমানে সমানে লড়েছেন মরুভূমির খেলোয়াড়রা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রিচার্লিসনের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে হেরে অলিম্পিককে বিদায় জানিয়েছে সৌদি আরব।

অপরপক্ষে এ জয়ের পর গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।

রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের শুরুতে সৌদির রক্ষণে হানা দেয় ব্রাজিল। কর্নারের বিনিময়ে গোলবার সুরক্ষিত রাখে সৌদি আরব।

২ মিনিটের সময়ে কর্নার থেকে চুনহার ক্রসে দারুণ ফ্লিকে গোলের সুযোগ তৈরি করেন রিচার্লিসন। সেই ফ্লিক ফিরিয়ে দেয় সৌদির ডিফেন্স।

পাল্টা আক্রমণে উঠে ব্রাজিলের রক্ষণে হানা দেন সৌদির আল-দাওসারি। তবে ব্যর্থ হন। ষষ্ঠ মিনিট থেকে দুর্দান্ত খেলেন সৌদির আল-সারানি। গোটা দলই রিচার্লিসন-চুনহা-ক্লাউদিনহোর দারুণ মোকাবিলা করে।

১১তম মিনিট পর্যন্ত একের পর এক আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণকে তটস্থ করে তোলে সৌদি। কর্নারও আদায় করে নেন আল-আমরি।

কিন্তু ১৪তম মিনিটে উল্টোটাই ঘটে। সৌদি আরবের জালে কোনাকুনি অঞ্চল থেকে চুনহার কাছে বল বাড়িয়ে দেন ক্লাউদিনহো। চুনহার প্রচেষ্টা সৌদির ডিফেন্ডার মাথা ছুঁইয়ে ঠেকাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। বল জড়িয়ে যায় সৌদি আরবের জালে।

১-০তে লিড নেয় ব্রাজিল। ১৮তম মিনিট ফ্রি-কিক পায় সৌদি আরব। আল-দাওসারির নেওয়া সেই কিক রুখে দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে ব্রাজিল। আরেকটি কর্নারের বিনিময়ে সেই আক্রমণ রুখতে সক্ষম হয় সৌদির রক্ষণ।

২৬তম মিনিটে আল-হামদানকে ফাউল করে হলুদকার্ড দেখেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার অ্যারানা।

এর এক মিনিট পর অবিশ্বাস্য গোল দেন সৌদির আবদুল্লাহ আল-আমরি। ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ হাফ থেকে দারুণ এক ক্রস করেন সালমান আল ফারাজ। বক্সের মধ্যে সেই বল মাটিতে পড়ার আগেই দুর্দান্ত হেড নেন আবদুলেলাহ আল আমরি। মুহূর্তেই জড়িয়ে যায় ব্রাজিলের জালে।

দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। ফের দলকে এগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণে ওঠে তারা।

ধারাল সব আক্রমণে সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন রিচার্লিসন ও ক্লাউদিনহো। কর্নারও আদায় করে নেয় ব্রাজিল। তবে সৌদি রক্ষণে দৃঢ়তায় জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হন তারা। এভাবে খেলা চলে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

১-১ গোলের সমতায় বিরতিতে যায় দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই সৌদিকে চেপে ধরে ব্রাজিল। টানা ১৫ মিনিট ধরে গোলমুখ রক্ষার ঘাম ছুটে যায় সৌদি আরবের।
ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে সৌদির রক্ষণে হানা দেন ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানি আলভেস। প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট বরাবর প্রথম শটটি নেন আলভেস। দশম কর্নার পায় ব্রাজিল।

পরের মিনিটেই আলভেসের হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া বল ডি-বক্সে খুঁজে নিতে সচেষ্ট হন রিচার্লিসন। কিন্তু সৌদি রক্ষণ ডি-বক্স ক্লিয়ার করে। ৫৭তম মিনিটে রিচার্লিসন ও ক্লাউদিনহোর একটি যৌথপ্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে পণ্ড করে দেন সৌদি ডিফেন্ডার বুখারি।

৫৮তম মিনিটে বাঁ-পাশ থেকে রিচার্লিসনের নেওয়া কিক ঠেকিয়ে দিতে বেগ পেতে হয়নি সৌদি গোলরক্ষকের।

৬১তম মিনিটে মাঠমাঠের গতি বাড়াতে দুটো পরিবর্তন আনে সৌদি আরব। মুক্তার আলির বদলি নামেন আল-হাসান। আবদুলরহমান ঘারীবের বদলি হিসেবে নামেন আল-নাজাই।

৬৬তম মিনিটে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন চুনহা। ৭২ মিনিটের সময় ক্লাউদিনহোকে উঠিয়ে নিয়ে রেইনিয়ারকে নামান ব্রাজিল কোচ।

৭৪তম মিনিটে কাঙিক্ষত গোলের দেখা পায় সেলেকাওরা। টুর্নামেন্টের ৪র্থ গোলটি করেন ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে রিচার্লিসনের কাছে পাঠিয়ে দেন গুইমারেস। আর তা সৌদির জালে জড়িয়ে দেন কোপা আমেরিকায় খেলা এই দুর্দান্ত ফরোয়ার্ড।

২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ফের সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সৌদি। ৮১তম মিনিটে চুনহাকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন আল-দাওসারি।

৮৭তম মিনিটে ফের আক্রমণে ওঠেন রিচার্লিসন। তার একের পর এক হানায় ভেঙে চূড়মার হয় সৌদির রক্ষণভাগ।

৯০তম মিনিটে সফল হন রিচার্লিসন। সৌদির জালে বল জড়ালেও অফসাইডের ফাঁদে পড়লে বাতিল হয় সেই গোল।

অতিরিক্ত ৮ মিনিট সংযোজন করেন রেফারি। আর ৯৩তম মিনিটে বাজিমাত করেন রিচার্লিসন।

ম্যালকম থেকে বল পেয়ে রিচার্লিসনকে বাড়িয়ে দেন রেইনার। আর তা দুর্দান্তভাবে জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন এ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

এই সময়ের মধ্যে ব্যবধান কমাতে পারেনি সৌদি। ফলে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

এ ম্যাচের নামার আগেই টোকিও অলিম্পিক ফুটবল থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে সৌদি আরবের। প্রথম দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। শেষ ম্যাচটিও হেরে কোনো পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারল না মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।

আর তিন ম্যাচে ২ জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েই নকআউটপর্ব নিশ্চিত করল ব্রাজিল।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com