1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৩ অপরাহ্ন

তালেবানের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় রয়েছেন?

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: আফগানিস্তান দখলের পর সেখানে ফিরতে শুরু করেছেন তালেবানের নির্বাসিত শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা।

যারা ফিরেছেন, তাদের মধ্যে তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদারও রয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার কান্দাহারে ফিরেছেন মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। তিনি তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়েরও প্রধান।

কান্দাহার বিমানবন্দর থেকে যখন মোল্লা আবদুল গনি বারাদার গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন, তখন উচ্ছ্বসিত জনতা তাকে অভিবাদন জানায়। এ সময় তালেবানের সদস্যরা তার নামে স্লোগান দেন।

তবে তিনি কোন দেশে থেকে ফিরেছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তালেবানের বেশিরভাগ নেতা কাতারের রাজধানী দোহায় ছিলেন। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।

এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের চুক্তিও হয়েছে। এ সময় তালেবানের নির্বাসিত নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ বছর নির্বাসন শেষে মঙ্গলবার দেশে ফিরেছেন বারাদার।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করছেন তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, বারাদারসহ অন্য নেতারা দেশে ফিরেছেন।

তালেবানের নতুন সরকারে কে কে থাকছে, কে হবেন সরকার প্রধান তার সুস্পষ্ট কোন ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে তালেবানের নেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করেছে বিবিসি। সংগঠনটির নেতৃত্বের বর্তমান কাঠামো সম্পর্কে প্রতিবেদনটিতে সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়েছে।

১. হিবাতুল্লাহ আকুন্দযাদা

তালেবান নেতা আখতার মানসুর মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ২৫শে মে থেকে তিনি তালেবানের সুপ্রিম কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন।

আশির দশকে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সামরিক নেতার তুলনায় একজন ধর্মীয় নেতা হিসাবে তার পরিচিতি বেশি।

হিবাতুল্লাহ আকুন্দযাদা ১৯৯০ এর দশকে আফগানিস্তানের শরিয়া আদালতের প্রধান ছিলেন। হিবাতুল্লাহ আকুন্দযাদার বয়স ৬০ বছর বলে ধারণা করা হয় এবং জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি আফগানিস্তানে কাটিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন তিনি কোয়েটা শুরার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেন। এরা মূলত পাকিস্তানের কোয়েটাভিত্তিক আফগান তালেবান নেতা।

দলের সুপ্রিম লিডার হিসাবে রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় বিষয়ের প্রধান আকুন্দযাদা। তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তাকে অবশ্য এখনো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। অবশ্য একটি ভিডিওতে তার হাতে তালেবান সদস্যদের বাইয়াত হতে দেখা গেছে।

২. মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার

১৯৯৪ সালে যে চারজন ব্যক্তি আফগানিস্তানে তালেবান গঠন করেছিলেন, তাদের একজন মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার।

২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী তালেবানকে উৎখাত করার পর সংগঠনটির নেতায় পরিণত হন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে এক পাক-মার্কিন যৌথ অভিযানে ধরা পড়েন।

তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা গনি বারাদার তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দোহায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় তালেবানের যে দলটি রয়েছে তাদের অন্যতম সদস্য বারাদার।

আফগানিস্তানের ওরুজগান প্রদেশের দেহ রাহওয়াদ জেলার উইটমাক গ্রামে ১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন বারাদার।

তালেবান ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর তিনি সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ ওমরের সাথে কান্দাহার প্রদেশের মাইওয়ান্দে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেছেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমের মতে ওমর আর বারাদার বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান শাসনামলে বারাদার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হেরাত আর নিমরোজের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন বলে জানা গেছে।

৩. মোহাম্মদ ইয়াকুব

তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মোল্লা ওমরের সন্তান মোহাম্মদ ইয়াকুব। তার বয়স প্রায় ৩০ বছর এবং তিনি দলের সামরিক শাখার প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

২০১৬ সালে আখতার মানসুরের মৃত্যুর পর তালেবানের একটি অংশ তাকে দলের সুপ্রিম লিডার বানাতে চেয়েছিলেন। তবে অন্যরা তাকে বয়স কম ও অনভিজ্ঞ বলে মনে করেন।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ ইয়াকুব আফগানিস্তানে রয়েছেন।

৪. সিরাজুদ্দিন হাক্কানি

তালেবানের অন্যতম শীর্ষ নেতাদের একজন সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। পিতা জালালুদ্দিন হাক্কানির মৃত্যুর পর তিনি হাক্কানি নেটওয়ার্কের নতুন নেতা হন। আফগান ও পশ্চিমা বাহিনীর ওপর ভয়াবহ সব হামলার জন্য এই দলকে দায়ী করা হয়।

এই অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ ও শক্তিশালী দলগুলোর একটি হাক্কানি নেটওয়ার্ক। অনেকে মনে করেন, আফগানিস্তানের ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর চাইতে এই বাহিনী বেশি ক্ষমতাধর।

এদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবানের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পদের দেখভালের দায়িত্বে আছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক। সিরাজুদ্দিন হাক্কানির বয়স ৪৫ বছর বলে মনে করা হয়। তার অবস্থান এখনও অজানা।

৫. আবদুল হাকিম

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবদুল হাকিমকে দোহা আলাচনার প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করে তালেবান।

ধারণা করা হয় তার বয়স ৬০ বছর। পাকিস্তানের কোয়েটায় একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন তিনি। এখানে বসেই তালেবানের বিচার বিভাগেরও দেখভাল করেন তিনি।

তালেবানের অনেক জেষ্ঠ্য নেতাই পাকিস্তানের কোয়েটাতে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, যেখান থেকে তারা কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। এদেরকে ‘কোয়েটা শুরা’ বলে বর্ণনা করা হয়।

তবে ইসলামাবাদ বরাবরই তথাকথিত এই কোয়েটা শুরার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

আবদুল হাকিম তালেবানের সুপ্রিম কমান্ডার হিবাতুল্লাহ আকুন্দজাদার খুবই ঘনিষ্ট একজন নেতা বলে মনে করা হয়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com