1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

মার্কিন-তুরস্ক বিরোধের নায়ক

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: তুরস্ক উপকূলের ইযমির শহরের অবস্থিত একটি চার্চ এটি। পিয়ের ফেরিঘাট থেকে অল্প হাঁটলেই সরু রাস্তার পাশে হলুদ ফটকের এই চার্চটিকে দেখতে পাওয়া যায়। বিবর্ণ সাইনবোর্ডে চার্চটির পরিচয় স্পষ্ট লেখা রয়েছে। জানা গেছে, নিয়মিত কয়েকজনই মাত্র চার্চটির ধর্মসভায় যাতায়াত করতেন। তবে এখন সেই পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

গত রোববার চার্চটির প্রার্থনা সভায় অসংখ্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদকের ভিড় দেখা যায়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আর তুরস্কের মধ্যে যে কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে এই চার্চ। কারণ এখানে কর্মরত আমেরিকান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রনসনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনেছে আঙ্কারা।

গ্রেপ্তার

১৯৯৩ সালে স্ত্রী নোরিনকে নিয়ে উত্তর ক্যারোলিনা থেকে তুরষ্কে আসেন ব্রনসন। এখানেই তিন সন্তানকে বড় করেন তারা। ২০১৬ সালের ৭ই অক্টোবর হঠাৎ এই দম্পতিকে ডেকে পাঠায় স্থানীয় থানা। তারা স্বেচ্ছাতেই সেখানে যান। কিন্তু মুক্তি দেওয়ার বদলে তাদের দুজনকেই হেফাজতে নেয় পুলিশ।

২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর যে ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেই গ্রেপ্তারেরই অংশ হন ব্রনসন দম্পতি। কয়েকদিন পরে নোরিন ব্রনসনকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ডিসেম্বর মাসে যাজক ব্রনসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে তুরস্ক। সেখানে অভিযোগ আনা হয়, ‘তিনি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য`। এরপর তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে তাঁর একজন বন্ধু জানিয়েছেন, অ্যান্ড্রু ব্রনসন দুই বছর আগে পর্যন্ত শান্তিতেই চার্চে কাজ করতেন। ২০১০ সাল থেকেই এখানকার ছোট ধর্মসভা পরিচালনা করতেন তিনি।

`সন্ত্রাসে সহযোগিতা`

কূটনীতিকরা বলছেন, ব্রনসনের সঙ্গে এমন দুইটি গ্রুপের যোগাযোগ রয়েছে, যাদের সন্ত্রাসী বলে মনে করে তুরস্ক। আর এদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাঁর ৩৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হওয়ার আশঙ্ক্ষা রয়েছে। ব্রনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে (পিকেকে) সাহায্য করছেন। এই দলের নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন, যিনি ব্যর্থ ওই অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টার করেছিলেন বলে তুরস্কের দাবি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত ফেতুল্লাহ গুলেন অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে কোনো রকম জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি করতে গুলেনকে ফেরত চাই তুরস্ক।

ব্রনসনের স্বজন এবং বন্ধুরা অভিযোগ করছেন, কূটনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ার হিসাবে এই ধর্মযাজককে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে তুরস্ক। দেশটি জানিয়েছে, `আইন অনুযায়ী` তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের কার্যক্রম চলছে।

উত্তেজনা

গত ১৮ জুলাই আদালত থেকে ব্রনসনকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলে বর্তমান সংকটের শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে `অসম্মান` বলে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প এক টুইট বর্তায় বলেন, ‘ব্রনসনকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এরদোয়ানের উচিত এই চমৎকার খৃষ্টান স্বামী ও পিতার মুক্তির জন্য কিছু করা। তিনি অন্যায় কিছু করেননি, তার পরিবার তাকে পেতে চায়।’

স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার কারণে গত ২৫ জুলাই ব্রনসনকে কারাবন্দীর বদলে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। ব্রনসনকে মুক্তি না দেওয়ায় সর্বশেষ গত ১লা অগাস্ট তুরস্কের বিচার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে হোয়াইট হাউজ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সর্বশেষ চেষ্টায়ও ব্যর্থ হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তুরস্ক থেকে আমদানি করা স্টিল আর অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করা হবে।

গত সোমবারই মার্কিন নেতারা একটি প্রতিরক্ষা বিলে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে একশোটি এফ-৩৫ ফাইটার জেট বিমান এই নেটো সহযোগীর কাছে হস্তান্তর বিলম্বিত হবে।

চরম সংকট

এই পরিস্থিতি এখন চরম কূটনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই নিষেধাজ্ঞার পর তুরস্কের লিরার মূল্যমান ২০ শতাংশ পড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বিক্রি বাড়িয়ে দেওয়ায় আরও কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার মানও কমেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই তুরস্কের লিরার দরপতন হয়।

পাল্টা জবাব হিসাবে এরদোয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক পণ্য বর্জন করবে তুরস্ক। আমেরিকান সরবরাহকারীদের সঙ্গে ব্যবসাকারী কোম্পানিগুলোকে বিকল্প খোঁজার জন্যও তিনি আহবান জানিয়েছেন।

টার্কিশ এয়ারলাইন্স এবং টার্ক টেলিকমের মতো বড় ব্যবসায়িক কোম্পানিগুলো ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোনো মিডিয়ায় আর বিজ্ঞাপন দেবে না।

এর আগেও ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ সালে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যখন ১৯৭৪ সালে তুরস্ক সাইপ্রাসে অভিযান চালায়।

বাকযুদ্ধ

এই দুই ন্যাটো সহযোগী দেশের মধ্যে সম্পর্ক যখন খারাপের দিকে যাচ্ছে, তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বৈঠকের জন্য এসেছেন। কূটনীতিকরা বলছেন, সুযোগের সৎ ব্যবহার করতে রাশিয়া এ বৈঠকের আয়োজন করেছে।

অন্যদিকে রাশিয়া এবং তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা `অবৈধ` এবং `বিশ্ব বাণিজ্যে অন্যায় সুবিধা নিতে` ওয়াশিংটন এসব করছে বলে তাদের দাবি।

তবে তুরস্ক আর যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক বৈরিতার কোনো সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহল। পাশাপাশি ব্রনসনের ভাগ্যও অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছে বলে তাদের ধারণা।

সূত্র: বিবিসি


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com