1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ২১ আগস্ট, ২০০৪। দিনটা শনিবার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। আমরা ৪০-৪৫ জন বাংলা কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মঞ্চ থেকে কিছুটা দূরে দাড়িয়ে বক্তব্য শুনছি। হঠাৎ পাশ থেকে আমাকে চা অফার করায় কয়েক গজ সরে গিয়ে চা খেতে থাকি। তখন নেত্রীর বক্তব্য প্রায় শেষের পথে। মঞ্চ থেকে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। ভেবেছিলাম ট্রাকের টায়ার ফেটে শব্দ হয়েছে। একটু এগিয়ে যাই। সেসময় একাধারে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে গ্রেনেডের কালো ধোয়া ছড়িয়ে পড়ে। আমি মাটিতে শুয়ে পড়ি। বুঝতে পারি শরীরে কিছু একটা বিধেছে। ততক্ষণে চারদিকে মানুষের ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেছে। মাটিতে লুটিয়ে থাকা শরীরের ওপর দিয়ে কয়েক’শ মানুষ দিগ্বিদিক হয়ে ছুটছে।’

এভাবেই বিভীষিকাময় সেই দিনটির ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন বাংলা কলেজের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান রূপনগর থানার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিদ হোসেন সোহেল।

অন্যান্য অনেকের মতো ওই দিন আকিদ হোসেন সোহেলও আহত হন। তিনি মাটিতে শুয়ে থাকা অবস্থায় লক্ষ্য করেছিলেন, তাঁর পাশেই দুটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত না হয়ে পড়ে ছিল। তবে তাঁর পরিচিত ছোট ভাই রিয়াদ শেষ রক্ষা পায়নি।

বাংলা কলেজের সাবেক এই সভাপতি বলছিলেন, সেদিন তাঁর শরীরে ৭-৮ টা স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয় তাঁকে। এরপর কাজীপাড়ার একটি প্রাইভেট মেডিকেলে নিয়ে যায় তৎকালীন বাংলা কলেজের সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ টুকু ভাই। ভ্যান গাড়ির মালের ওপর শুইয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।

আকিদ হোসেন সোহেল অভিযোগ করে বলেন, ওই ঘটনায় তাঁর অনেক বড় ভাই ও বন্ধুরা বলেছিলেন ‘তোর তো বেশি ক্ষতি হয়নি’। তিনি বলেন, আহতদের নামের তালিকায় আমাকে রাখা হয়নি। যারা গুরুতর আহত হয়েছিল তাদের নাম দেওয়া হয়। নেত্রীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে সামান্য হলেও আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছি।

২১ আগস্টকে বিভীষিকাময় দিন উল্লেখ করে আকিদ হোসেন সোহেল বলছিলেন, মুহূর্তের মধ্যেই সেদিন নিজের চোখের সামনে শতশত মানুষকে রক্তাক্ত হতে দেখেছিলাম। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ওই দিনটার কথা আমি কখানো ভুলতে পারবো না। তিনি গ্রেনেড হামলার সঠিক বিচার চান বলে জানান।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামরার ঘটনায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন প্রায় ৫ শতাধিক। শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও গুরুতর আহত হন। তাঁর বাম কানের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। – বাংলা ইনসাইডার


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com