1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০১ অপরাহ্ন

নদীর বুকে তলিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার বসতঘর!

বিশ্বজিৎ রায়, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বুকে অর্ধ ঝুলন্ত পাকা বাড়িতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন দাস। বছরের পর বছর ধরে নদীটির তীর ভাঙ্গার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় তার বসতঘরের অর্ধাংশ এখন প্রতিরক্ষা বাঁধে আর বাকিটুকু ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে ধলাই নদীর বুকে। যে কোন সময় তা নদীর বুকে হারিয়ে যেতে পারে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারলেও প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে আজ পরাজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন দাস(৭০)। বাড়ীর পাশের নিজস্ব জমিজমা যা কিছু ছিল গত কয়েক বছরে সবকিছুই কেঁেড় নিয়েছে রাক্ষুসী ধলাই। এরপর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তার গোয়াল ঘর। এবার তার শেষ সম্বল বসত ভিটেটুকুও কেড়ে নিতে চাচ্ছে । তারপরও মনোবল হারান নি ৭১ এর এই বীর মুক্তিযোদ্ধা । প্রতিকুল পরিবেশের সাথে নিত্য সংগ্রাম করে নিজের শেষ আশ্রয়স্থল বসতবাড়িটি রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার গত বছর তার বসত ঘরের নিচে বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা নিলেও সাম্প্রতিক বন্যার পানিতে বালির বস্তা সরে গিয়ে তার বসতগৃহটি এখন ঝুলে আছে ধলাই নদীর বুকে । তাই নদীর উপর ঝুলে থাকা এই ঘরেই সন্তানাদি নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

শুধু নিরঞ্জন দানের বাড়ীই নয়গত ১০ বছরে এলাকার ২৫টি পরিবার তাদের সবকিছু হারিয়ে আজ নিঃস্ব হয়ে ভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তার বাড়িসহ গোটা এলাকা এবং চৈতন্যগঞ্জের ধলাই সেতুও ঝুঁকিতে রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, গত প্রায় ১০ বছরে চৈতন্যগঞ্জ এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে অসংখ্য বসতঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। অনেক পরিবার জমিজমা ও বসতঘর হারিয়ে স্থান ত্যাগ করে অন্যান্য গ্রামে আশ্রয় নিলেও মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন দাশ আর্থিক দৈন্যতার কারণে অন্যত্র নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করে যেতে না পেরে তার ১৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে এখনও ঝুঁকির মাঝে বসবাস করছেন।

বিষয়টি নিয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হকের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। শীঘ্রই তিনি সরেজমিন ঘুরে এসে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, জেলার নদীসমূহের ভাঙ্গনকবলিত এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শণ করে পাউবো‘র উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ধলাইনদীসহ জেলার ৯টি নদ- নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষা ও বন্যা প্রতিরোধের লক্ষ্যে নদী খননের একটি প্রস্তাবনাও ইতিমধ্যে অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে তখন চৈতন্যগঞ্জের এ সমস্যা আর থাকবে না।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com