1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

‘ধর্ষণ মামলার ফাঁদ পাতা’ এক দম্পতি

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সবুজ মিয়া (৫৫) ও আসমা বেগম (৪০) স্বামী-স্ত্রী। বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। কিন্তু তারা বছরজুড়ে ঘুরেন জেলায় জেলায়। আর ধর্ষণ মামলার ফাঁদ পেতে আদায় করেন মোটা অঙ্কের টাকা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমন এক ফাঁদ পেতে মামলা করতে গিয়ে ধরা পড়েন চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে। আর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল।

ধর্ষণ মামলার ফাঁদ পাতার ব্যবসার কথা স্বীকার করার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটক করে স্বামী-স্ত্রীকে। আর তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় প্রতারণা মামলা করা হয়।

ধরা পড়েন যেভাবে: কোতোয়ালি থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সবুজ মিয়া ও আসমা বেগম চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেশন রোডে হোটেল লালদিঘী নামে একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ আসমা বেগম অভ্যর্থনা কক্ষের সামনে এসে চেচামেচি শুরু করেন।

আসমার অভিযোগ- অভ্যর্থনা ডেস্কে বসে থাকা হোটেলের কর্মচারী মো. শাহিন তাদের অনুপস্থিতিতে রুমে ঢুকে ১০ হাজার টাকা চুরি করেছেন। এ সময় তারা শাহিনের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় আসামি করার হুমকি দেন।

শাহিন বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে সবুজ মিয়া ও আসমা বেগম কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করে পুলিশের টিম নিয়ে হোটেলে যান। হোটেলে যাওয়ার পর শাহিনের মুখোমুখি অবস্থায় সবুজ মিয়া ও আসমা বেগমের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হয়।
পুলিশ শাহিনকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন সবুজ ও আসমার মিথ্যা মামলার ফাঁদের বিষয়টি পুলিশের কাছে পরিষ্কার হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসমা বেগম ও সবজু মিয়া মিথ্যা মামলার বিষয়টি স্বীকার করেন।

ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সবুজ মিয়া ও আসমা বেগমকে পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দেন যে ধর্ষণ মামলার ফাঁদ পেতে টাকা আদায় করা তাদের ব্যবসা। এভাবে তারা ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটিসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতারণার ফাঁদ পেতে টাকা আদায় করেছেন। ধর্ষণ চেষ্টার বহু মামলাও করেছেন।

প্রায় প্রতিটি মামলার কাহিনী এক। প্রতিবারই স্ত্রী আসমা বেগম ধর্ষণের শিকার হন। আর স্বামী সবুজ মিয়া বাদী হয়ে নিকটস্থ থানায় গিয়ে মামলা করেন। আজ এই শহর তো কাল ওই শহরে ঘুরে তারা এই কাজ করেন। পাহাড় থেকে সমতলে- সমানতালে মামলা করেছেন এই দমপতি।
ওসি জানান, ধর্ষণের ফাঁদ পাতা এই দমপতি কখনো হোটেল বয়, কখনো বা হোটেলের মালিক, বাড়ির দারোয়ান অথবা বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আনেন। আর সব মামলার বাদী স্বামী সবুজ মিয়াই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও একইভাবে হোটেল লালদীঘির বয় শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে এসে ধরা পড়েন এই দম্পতি।
প্রতারণার শুরু যখন থেকে: পুলিশের কাছে এই দম্পতি স্বীকার করেন যে, ২০১৪ সাল থেকেই এমন প্রতারণা করে আসছেন তারা। চট্টগ্রামেই কোনো এক মধ্যম মানের হোটেলে এই ফাঁদ পাতেন তারা। সেখানে বাইরে বেরোনের কথা বলে ভাড়ায় নেয়া কক্ষের চাবি ম্যানেজারের কাছে দিয়ে যান।

এরপর এসেই অভিযোগ করে বসেন, তাদের কক্ষে নগদ টাকা রাখা ছিল তা পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অভিযোগের পর প্রাথমিকভাবে হোটেল মালিকের মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপসরফা করেন তারা। এতে সফল হয়ে একের পর এক এই ফাঁদ পাততে শুরু করেন।

দম্পতি জানান, প্রাথমিকভাবে আপসে না আসলে সেই হোটেলের মালিক কিংবা বয়ের বিরুদ্ধে আসমাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তোলেন তারা। এরপর মামলা করেন থানায় গিয়ে। পরে আদায় করেন মোটা অঙ্কের টাকা।

গত ছয় মাস আগেও কোতোয়ালি থানার স্টেশন রোডে একটি হোটেলে এ ধরনের অভিযোগ করে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। ফলে সেটি আর থানা পর্যন্ত গড়ায়নি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এক জেলায় বেশি মামলা করলে সন্দেহ করতে পারে। তাই এক জেলায় তারা বেশিদিন থাকেন না। দুয়েকটি মামলা করে অন্য জেলায় সটকে পড়েন। চট্টগ্রামেও এই মামলাটি করে অন্য জেলায় সটকে পড়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু তার আগেই পুলিশের জালে আটকে গেছেন এই দমপতি।

ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও রাঙ্গামাটিতে এমন চারটি মামলা পেয়েছি। মামলা করে এদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল তারা। এটাই তাদের ব্যবসা।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com