1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

কেরালায় বন্যায় জলবায়ু পরিবর্তনের সুস্পষ্ট আভাস!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ভারতের কেরালার ভয়াবহ বন্যা আগুয়ান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আভাস দিচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, এর সঙ্গে কেরালার এ ভয়াবহ বৃষ্টির সামঞ্জস্য দেখেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কেরালায়। এতে ১৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি যদি ঠেকানো না যায়, তবে অবস্থা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাবে।

ভারতের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, কেরালার কৃষকদের খাদ্য উৎপাদন ও জীবনযাপনে মৌসুমি বৃষ্টির অবদান রয়েছেন। তবে গত সপ্তাহে ওই রাজ্যে স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে আড়াই গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেটেরিওলজির জলবায়ুবিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথু কোল বলেন, ‘কেরালার বন্যার মতো কোনো একক চরম আবহাওয়ার ঘটনাকে জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন। তবে একই সঙ্গে আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ১৯৫০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চরম বৃষ্টির বিস্তৃতি তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে, যা বড় আকারের বন্যার সৃষ্টি করে।’

‘নেচার কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে গত বছর ওই গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ওই নিবন্ধের সহলেখক ম্যাথু। তাঁর মতে, ভারতজুড়ে ভারী বর্ষণে গত ৬৭ বছরে ৬৯ হাজার মানুষ মারা গেছে আর ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

১০ আগস্ট কেরালার ৩৫টি জলাধারের সব কটি কানায় কানায় ভরে ওঠে। এর ফলে গত ২৬ বছরের মধ্যে প্রথমবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ইদ্দুকি বাঁধের স্লুইসগেট খুলে দিতে হয়।

জার্মানির পোস্টডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের গবেষক কিরা ভিঙ্ক বলেছেন, কেরালার বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের অনুমানের সঙ্গে মিলে যায়।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে জলবায়ু গবেষক কিরা আরও বলেন, ‘আমরা যদি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে না পারি, তবে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আর নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকবে না। এই ধ্বংসাত্মক বৃষ্টির পেছনে আবহাওয়ার ধরনগুলো ভালোভাবে বোঝা যায়। তবে এখনই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্ক বের করা কঠিন।’

রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধ্যাপক এলেনা সুরোভিয়াতকিনা বলেন, গত দশক ধরেই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূভাগ অধিক গরম হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ ভারতে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে।

প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে এখন পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার পর থেকে এ পরিবর্তন চোখে পড়ছে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া’স হটস্পটস’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য শতকের তুলনায় বর্তমান ট্রেন্ডে ভারতের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়েছে।

যদি কোনো সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া না যায়, তবে ২০৫০ সাল নাগাদ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে ভারতের জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ খরচ হবে এবং জীবনমান নিচে নেমে আসবে।

১৯৬ জাতির প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com