1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

গ্রাম্য নষ্ট রাজনীতির শিকার পাবনার দগ্ধ কলেজছাত্রীর মৃত্যু

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চিকিৎসকদের শত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ৯ দিন পর অবশেষে মারা গেলেন পাবনার সাঁথিয়ার কলেজছাত্রী মুক্তি। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আধিপত্য বিস্তারের গ্রাম্য নষ্ট রাজনীতির শিকার হয়ে বাবার প্রতিপক্ষের দেয়া পেট্রলের আগুনে দগ্ধ মুক্তি খাতুনকে (২২) ১৯ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

এ দিকে দুর্বৃত্তদের পেট্রলের আগুনে মুক্তি হত্যার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা শহরে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখা ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে নিহত মুক্তির সহপাঠী পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ দর্শন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।

মানববন্ধন ও সমাবেশে মহিলা পষিদের সাধারণ সম্পাদক ও যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি, আমরা পারি জোটের সদস্য সচিব আব্দুর রব মন্টু ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নার্গিস পারভীন মুক্তি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পুলিশ ও মুক্তির পারিবারিক সূত্র জানায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামে একটি উন্মুক্ত জলাশয়ের দখল নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক এবং একই গ্রামের আবদুস সালামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৯ আগস্ট সালামের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেলের বাড়িতে হামলা চালায়।

ঘটনার সময় মুক্তিযোদ্ধাসহ পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে যান। এ সময় হামলাকারীরা মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের মেয়ে ও পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তি খাতুনকে (২২) ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ওই সময় হামলায় তার চাচাতো বোন আফরোজা খাতুন (৩০) এগিয়ে গেলে তারা তাকেও পিটিয়ে আহত করে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধার একটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ মুক্তি খাতুনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ এবং ৫০ শতাংশ ডিপ বার্ন হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা মুক্তির জীবন রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। সবশেষে তাকে দুদিন আগে আইসিসিইউতে রাখা হয়। কিন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুক্তি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে ১৯ আগস্ট ঘটনার দিনেই মুক্তির বাবা মোজ্জাম্মেল হক বাদী হয়ে ৩২ জনকে আসামি করে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পর ওই দিন রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম, সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও র‌্যাবের প্রতিনিধি দল।

মঙ্গলবার দুপুরে সাঁথিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মজিদ জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুক্তি মারা গেছেন। লাশ এখনো আসেনি।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ৩২ জন আসামির মধ্যে ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com