1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

অপরূপ বিছনাকান্দি!

বিছনাকান্দি ছবি সংগৃহিত

বিছনাকান্দি জলে স্বপরিবারে লেখক

মু. আনোয়ার হোসেন রনি :: সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেষা বিছনাকান্দি এখন সারাদেশের ভ্রমন পিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান।
পাথর বিছানো বিস্তীর্ণ প্রান্তরের উপরে দূরের চেরাপুঞ্জি আর কাছের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঝর্ণা বিছনাকান্দির মূল আকর্ষণ।
পাহাড়ি নদী পিয়াইন এর স্বচ্ছ-শীতল জল, বড় বড় পাথরের উপর আছড়ে পড়ে যে অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে তা অতীতের জাফলং কে মনে করিয়ে দেয়।
সিলেট থেকে খুব বেশী দূরে নয়,এক থেকে দেড় ঘন্টায় পৌছে গেলাম হাদার পারের কিছু আগে পীরের বাজার। ওখানে নদীর পাড়েই গাড়ি রেখে নৌকা নিয়ে বিছনাকান্দি।এক ঘন্টার নৌকো যাত্রায় চারপাশের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে তোলে।
ইঞ্জিন নৌকায় যেতে হয় তাই ইঞ্জিনের শব্দটা ছাড়া বাকী সব কিছুই অসাধারণ। হৃদয় ছোঁয়ে যায়।বুকের পাজরে যেন এক প্রশান্তির হীম হাওয়া দোল খেয়ে যায়।
ইঞ্জিনের শব্দ কমিয়ে নিয়ে আসতে বিকল্প ভাবনা মাথায় এলো।মোবাইলে গান ছেড়ে হেডফোন লাগিয়ে নিলাম।আহা! বিজয় সরকারের গান

“আমার পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী একদিন
ভাবি নাই মনে”-
চারিদিকে মাতাল করে তোলা প্রকৃতি আর মগজে সংগী “বিজয় বিচ্ছেদ” কতনা হাহাকার জাগায় মনে।এমন সুন্দরের সাথে চীরবিচ্ছেদ হবে একদিন! আহ! বড় ক্ষণস্থায়ী এই মানবজনম!

পিয়াইন নদীতে নৌকা ভ্রমণ

পাথর আর পিয়াইন এর হীমজল যেন দুহাত মেলে ডাকছে প্রানের আলিংগনে বাঁধবে বলে।
পৌছেই গা এলিয়ে দিলাম জল-পাথরের বিছানায়।দু’ঘন্টা জলের সাথে মাখামাখি।পাহাড় থেকে নেমে আসা জল যেমন শীতল তেমনি শ্রোতের টানটাও প্রবল।কি আনন্দ! কি উন্মাদনা!ছোটবেলা গ্রামের পাশের নদীতে বর্ষায় সাঁতার কেটেছি অনেক। আজকের অনুভুতিটা, হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির সাথে মহামিলনের অনুভুতির মত বুকে তোলপাড় করা স্মৃতির মতই।

প্রানভরে জলের সাথে খেলা শেষে উঠে এলাম ফিরব বলে।তীরে বেশ কিছু অস্থায়ী দোকান।বেশ সস্তায় কিনে নিলাম ওরিও,ব্লাক চকলেট,ওয়েফার,পকেট পারফিউম।বেশ কয়েকটি খাবার দোকান। আমাদেরকে জানালো তারা রাজহাস, দেশী মুরোগ, আলুভর্তা, ডিমভুনা,শুটকিভর্তা ইত্যাদি দিয়ে তাদের দুপুরের খাবারের প্যাকেজ আছে ১৩০ টাকায়।লোভ হচ্ছিল কিন্তু খাওয়া হলোনা কারণ আমরা দুপুরের লাঞ্চসহ যথেষ্ট খাবার সাথে করে নিয়েছিলাম।আমি এর আগে দুবার বিছনাকান্দি এসেছি কিন্তু তখন এমন দোকান ছিল বলে মনে পড়ছেনা।খাবার দোকানগুলো দেখে লোভই হচ্ছিল।পরের বার যখন যাব তখন আর খাবার নিয়ে যাবনা এটা নিশ্চিৎ।

নৌকা ছেড়ে ফিরতিপথে নিরিবিলি এক যায়গায় মাঝি নৌকা থামালেন।নৌকায় বসে আমরা দুই মাঝি আর আমাদের ভ্রমনসংগী হাসানভাইকে আমন্ত্রণ জানালাম একসাথে লাঞ্চ করবো। নদীর জলের উপর নৌকায় বসে খাবার গ্রহন মনে করিয়ে দিল ছোটবেলার আরেক মজার স্মৃতি।বাবার সাথে ছোটবেলা জগদল আর বিরগাঁও গেছি কয়েকবার গয়না নৌকা করে।তখন নৌকায় ইঞ্জিন লাগেনি।দাঁড় আর বৈঠা ছিল সেই সাথে হাওয়া বুঝে পাল।বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ,দূর থেকে ভেসে আসা মাঝির কন্ঠে গান। বর্ষার জলে চারিদিক থৈথৈ। দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্তি নেই শুধুই ভালোলাগা।পথের খাবার হিসেবে বাড়ি থেকে রান্না করে নেয়া হত ভাত তরকারী।মেনুতে বিন্নিচালের ভাত,দেশী মোরগের ঝাল তরকারী আর কালিবাউশ কিংবা কৈ মাছ ভাজা। নৌকায় বসে সেই খাবারের স্বাদ অমৃতসম। আজকের মেনুটা অন্যরকম হলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থা নষ্টালজিক করে তুললো।
খাবার শেষে ঘাটে ফিরলাম।নদী-জল-নৌকার বাধঁন ছেড়ে নাগরিক জীবনের পানে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যানে ছুটলাম।

এবার কানে বেজে উঠলো বাবার গান –
” এ জগৎ জুড়িয়া
দেখিলাম ঘুরিয়া
রংগে সাজাইয়া রাখছো
রঙিলা”।।
১সেপ্টেম্বর ২০১৮


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com