1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৩ অপরাহ্ন

জন্মের পর শিশুর সামনে নিষ্ঠুর পৃথিবীর বীভৎস রূপ!

কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে পরিচর্যায় সেই নবজাতক শিশু।

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে নাম পরিচয়হীন এক যুবতী নিখোঁজ হয়েছেন। ২৯ আগস্ট ভোর রাতে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তার কোল আলো করে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখে।

কিন্তু; সুতীব্র চিৎকারে পৃথিবীতে আগমনের বার্তা জানালেও নবজাতক শিশুটি বঞ্চিত হয় জন্মধাত্রী মা ও পিতার স্নেহ আর ভালবাসার কোমল স্পর্শ থেকে। জন্মের পরই তার চোখে ভেসে উঠল নিষ্ঠুর পৃথিবীর এক বীভৎস রূপ। এ অসহায় শিশুটির এখন ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ণ ইউনিটে। শিশুটির লালনপালন ও জীবন বাঁচাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

২৫০ শয্যার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অজ্ঞাত পরিচয়ে ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় ভর্তি করার পর ২৯ আগস্ট ভোর ৩টার দিকে সন্তান প্রসবের পর মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি মা নিখোঁজ হয়ে যান।

এ কারণে নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জন্মের পরই মাতৃস্নেহ বঞ্চিত নবজাতক শিশুটির এখন ঠাঁই হয়েছে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ণ ইউনিটে।

সূত্রমতে, খবর পেয়ে ফুটফুটে ওই কন্যা শিশুটিকে দত্তক নিতে ইতিমধ্যেই অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আইন-আদালতের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে না আসা পর্যন্ত অসহায় শিশুটির দেখভাল করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিশুটিকে দেখতে গেলে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ইউনিটের অন্যান্য শিশুদের মায়ের বুকের দুধ ও বাইরে দুধ সংগ্রহ করে ওই অসহায় শিশুটির জীবন রক্ষা করা হচ্ছে।

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের নগুয়া খিদমাহ বেসরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করে প্রসব যন্ত্রণাকাতর মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই প্রসূতি মাকে ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২৫০ শয্যা কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে দিয়ে আসেন কয়েকজন সমাজ হিতৈষী।

বুধবার ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি মা। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার পর থেকে নিজের পেটের সদ্যজাত ফুটফুটে নবজাতককে রেখে নিখোঁজ হন জন্মধাত্রী মা। অনেক খোঁজাখুজি করেও থাকে না পেয়ে শেষ মুহূর্তে জীবন রক্ষায় শিশুটিকে পাঠানো হয় হাসপাতালের স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে।

শহরের নগুয়া এলাকার অধিবাসী মো. জমশেদ জানান, আনুমানিক ৩৫/৩৬ বছর বয়সের একটি পাগলী সপ্তাহকাল ধরে খিদমাহ বেসরকারি হাসপাতাল এলাকায় ঘুরাঘুরি করছিল। গত মঙ্গলবার অসহ্য ব্যথায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে পাগলীর কাতরানো দেখে অন্তঃস্বত্বার বিষয়টি ধরা পড়লে কয়েকজন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গাইনি ওয়ার্ডে অজ্ঞাত পরিচয়ে ভর্তি করে।

ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিয়েই হয়তো মানুষরূপী কোনো জানোয়ার তাকে ভোগের পণ্য হিসাবে ব্যবহার করে অন্তঃসত্ত্বা করেছে। এ অসহায় শিশুটিকে দেখতে আসা লোকজন শুধু ঘৃণা প্রকাশ করেছেন জৈবিক ক্ষুধা নিবারণকারী ও জন্মদাতা ওই পুরুষের প্রতি।

এ ব্যাপারে কথা হলে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো আবুল হোসেন (মাছুম) জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ে ভর্তি হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন প্রসূতি নারী কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে পরের দিন সকাল থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই নবজাতক শিশুটিকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। আপাতত শিশুটিকে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ণ ইউনিটে রেখে বাইরের দুধ খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে।

ডা. মো আবুল হোসেন (মাছুম) জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে ওই শিশুটিকে দত্তক নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন অনেকেই। যিনি উপযুক্ত বিবেচিত হয়ে আদালতের মাধ্যমে দত্তক নেয়ার অনুমতি পাবেন তার হাতেই তুলে দেয়া হবে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com