1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৬ বছর ধরে গাছের নিচে ক্লাস!

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নাদো-সৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে গাছের নিচে।

প্রায় ছয় বছর ধরে এভাবে গাছের নিচে ক্লাশ করায় তারা এখন ভুলতে বসেছে শ্রেণিকক্ষের কথা। তাদের কাছে বিদ্যালয় এখন পাঠশালায় পরিনত হয়েছে।

এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। আবার কেউ কেউ অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের নাদো-সৈয়দপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৬ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে ৪৪২ জন নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ের মধ্যেই পলিথিন অথবা মাদুর বিছিয়ে গাছ তলায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। এ ছাড়াও একটি ভবনের তিনটি কক্ষ থাকলেও একটি কক্ষের মাঝে বেড়া দিয়ে এক পাশে অফিস কক্ষ আর অন্যপাশে শ্রেণি কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কষ্টকরে একই ভবনের বারান্দায় শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয় মাদুর বিছিয়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ দুইটি ভবনের মধ্যে পুরাতন ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে। পরে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করি।

তিনি বলেন, ওই বছর ১০জুন শিক্ষা অধিদফতর ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাহিদা পত্র চান। সে মোতাবেক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য চাহিদাপত্র তৈরি করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করি। কিন্তু আজও তা আলোর মুখ দেখেনি।

আর শ্রেণিকক্ষের অভাবে গাছতলায় ক্লাস নিতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। আবার কেউ কেউ অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌসুমি খাতুন ও শানজিতা খাতুন জানায়, শ্রেণিকক্ষের অভাবে তাদের গাছতলায় ক্লাশ করতে হয়। আবার বৃষ্টি নামলে ক্লাস হয় না। এতে তাদের পক্ষে সুস্থভাবে লেখাপড়া চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

অভিভাবক আলাউদ্দিনের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের মধ্যে একটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করায় ছেলে-মেয়েরা গাছের নীচে বেঞ্চ ও মাদুর পেতে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে পড়াশোনা করছে। এতে পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে শিক্ষা অধিদফতর ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা চাইলে এ বিদ্যালয়ের নাম পাঠানো হয়। যা ২০১৭ সালে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com