1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন

এটি কোনো সিনেমা নয়

নানা বেশে নাছির উদ্দিন ওরফে পারভেজ। ছবি: সংগৃহীত

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: কখনো মুখভর্তি দাড়ি, কখনো ক্লিন শেভড; কখনো গোঁফ, কখনো মাথাভর্তি চুল, আবার কখনো চুল ছোট করে কাটা। বহুরূপী এমন মানুষকে সাধারণত নাটক-সিনেমায় দেখা যায়, যেখানে বহুরূপ ধারণ করে নায়ক-খলনায়কেরা নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। তবে এবার এমন এক চরিত্রের দেখা মিলল বাস্তবেও। নাম তাঁর নাছির উদ্দিন ওরফে পারভেজ।

৩২ বছর বয়সী পারভেজ নানা রূপ ধারণ করে ফাঁদে ফেলতেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী বাংলাদেশিদের। সোনার গয়নাকে ইমিটেশনের গয়না বানিয়ে দিতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে প্রবাসীদের কাছ থেকে তিনি ২৯ লাখ টাকার সমমূল্যের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই পারভেজকে প্রতারণার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার তুরাগ থানা এলাকার কামারপাড়ার নিশাত নগর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল। পিবিআই সূত্র জানায়, সম্প্রতি পারভেজের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার শিলমান্দি গ্রামের মো. সাগর (২৬)।

সাগরের বরাত দিয়ে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাগরের ভগ্নিপতি মো. নাসির তিন বছর আগে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে নাসিরের সঙ্গে পারভেজের পরিচয় হয়। কিছুদিন পর নাসিরকে পারভেজ জানান, তিনি ২৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরবেন। পারভেজ দেশে ফেরার সময় নাসির বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে দেখা করে প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের সোনার দুটি পায়েল, দুটি ব্রেসলেট, একটি নেকলেস, চারটি চেইন এবং দুটি আইফোন ১০ এক্স দেন। স্বর্ণালংকারসহ এসব পণ্যের দাম ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্বর্ণালংকার ও আইফোনগুলো নাসির তাঁর শ্যালক সাগরের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। এগুলো বহনের জন্য পারভেজকে নগদ নয় হাজার টাকাও দেন নাসির। এ সময় পারভেজের পাসপোর্টের কপি নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। পরদিন ২৯ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশে আসেন পারভেজ। দেশে ফিরে সাগরকে ফোন করেন বিমানবন্দর গোলচত্বরে সাগরকে আসতে বলেন পারভেজ। রাত পৌনে ১২টার দিকে গোলচত্বরের সামনের সড়কের পাশে কাগজে মোড়ানো একটি প্যাকেট সাগরকে দেন পারভেজ। প্যাকেট খুলে সাগর দেখেন তাঁর ভগ্নিপতির পাঠানো স্বর্ণালংকারের সঙ্গে প্যাকেটে থাকা স্বর্ণালংকারের মিল নেই। তখন এ নিয়ে পারভেজকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বিমানবন্দরের ভেতরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মালামাল রেখে দিয়েছে। এ কথা বলেই সাগরের হাত থেকে প্যাকেটটি নিয়ে প্রাইভেটকারে উঠে পালিয়ে যান পারভেজ। এ ঘটনার পর পিবিআই ঢাকা মেট্রো কার্যালয়ে এসে সহযোগিতা চান সাগর।

একইভাবে বিভিন্ন সময়ে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী চাঁদপুর জেলার মো. আসিফ, নওগাঁ জেলার আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জের মো. দিদার, নোয়াখালীর মো. ইমামসহ আরও অনেকের মালামাল নিয়ে আসেন পারভেজ। অভিযোগ উঠেছে, সবার পাঠানো স্বর্ণালংকার নিজের কাছে রেখে নকল গয়না দিতেন তিনি। বাংলাদেশে এসব প্রবাসীর স্বজনেরা যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। কিন্তু পারভেজের মোবাইলে ফোন বন্ধ পেতেন তাঁরা।

পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রশির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সিঙ্গাপুরে মালামাল নেওয়ার জন্য লোকজনের সঙ্গে দেখা করার সময় এক রূপে যেতেন পারভেজ। মালামাল নেওয়ার পর বেশভূষা বদলে ফেলতেন তিনি, যাতে পরে তাঁকে দেখে ওই ব্যক্তিরা চিনতে না পারেন। এভাবে বহু রূপে পারভেজ প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতারণার জন্য পারভেজ বিভিন্ন রূপে একাধিক পাসপোর্ট করেছেন। তাঁর কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। একটি পাসপোর্টের ঠিকানা ছিল টাঙ্গাইল, আরেকটি পাসপোর্টে পাবনার ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশি দুটি পাসপোর্ট, সোনার একটি নেকলেস, চারটি চেইন, দুটি নূপুর, দুটি ব্রেসলেটসহ বেশ কিছু পণ্য উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারভেজ জানান, তিনি ২০০৭ সালের দিকে অ্যানালগ পাসপোর্টে সিঙ্গাপুর যান। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় ডিজিটাল পাসপোর্ট নেন। পরে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দেড় লাখ টাকা খরচ করে পাবনা জেলা পাসপোর্ট অফিস থেকে আরও একটি পাসপোর্ট করিয়ে নেন পারভেজ। এ ঘটনায় পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. মমিনুল ইসলাম বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। ভুয়া ঠিকানায় পারভেজের পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।প্রথম আলো


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com