1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

সিমলার কুফরি

নার্গিস জাহান :: শীতকাল সুন্দর না হলেও সিমলার সকালটা বেশ আরাম করে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর মত।সিমলায় আজ দ্বিতীয় দিন। ঘুমিয়ে থাকলেতো আর সিমলা দেখা হবেনা,তাই আড়মুড়ি দিয়ে সবাইকেই বিছানা ছাড়তে হলো।নাস্তা সেরে সবাই প্রস্তুত হলাম কুফরির উদ্দেশ্যে।কুফরি শুনে মনে কিন্তু নেগেটিভ কিছু ভাববেন না।

হিমালয় প্রদেশের সিমলা জেলায় ছোট্ট একটি হিল ষ্টেশনের নাম হচ্ছে কুফরি।এটি স্থানীয় শব্দ কুফ্র থেকে এসেছে,যার অর্থ লেক।মাত্র ২০০বৎসর আগেও কেউ এটাকে চিনতো না।১৮৯৯ সালে একদল বৃটিশ পর্যটক বনের ভেতর ঘুরতে যেয়ে এই অপার সৌন্দর্যের জায়গাটি আবিষ্কার করেন।

পথেই দৃষ্টি আটকে গেল এক সাগর সবুজ দেখে, যার নাম গ্রীণভেলি।পুরো পাহাড় জুড়ে গাঢ় সবুজের আচ্ছাদন।চোখ শীতল করা মন কাড়া প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিতেই গাড়ী থেকে নেমে পড়লাম।ছোট ছোট কৌটায় করে ফেরিওয়ালারা কেশর ফেরি করে বেড়াচ্ছে।ঘন সবুজের বন থেকে প্রাণ ভরে অক্সিজেন নিলাম।সকালের কাঁচা রোদের নরম আলোয় গ্রীণভেলিকে আরো মায়াময় মনে হচ্ছিল।এখানে ছবি তুলে আবারো শুরু হলো পথ চলা।কুফরি তে পৌঁছে গাড়ী আমাদের নামিয়ে দিয়ে পার্কিং এর জন্য সামনে এগিয়ে গেল।গাড়ী থেকে নেমেই বুঝতে পারলাম আমরা ভুল সময়ে এসেছি। এখানে মনে হয় শীতকালেই আসা ভাল।গাড়ী থেকে নামতেই নাকে বাজে দুর্গন্ধ এসে লাগলো।।এখান থেকে ভিউ পয়েন্টে যেথে হলে ঘোড়া দিয়েই যেতে হব।ঘোড়াগুলোও কেমন যেন নোংরা দেখাচ্ছিল। শুনা গল্পের সাথে বাস্তবের কোন মিল পাচ্ছিলাম না।অমেকগুলো ঘোড়া পর্যটকের জন্য প্রস্তুত ছিল কিন্তু নীচে র কাদা আর ঘোড়াগুলোর দুরবস্থা দেখে চড়াতো দূরে থাক কোন রকমে নিশ্বাস বন্ধ করে একটু দূরে রাস্তার পাশে।ছেলে দুইটা উপরের দিকে ঘুরতে গেল।।এরই মধ্যে একজন মহিলা বকবক করতে করতে ভিউ পয়েন্ট থেকে নেমে আসলেন।বেচারি ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে ব্যাথা পেয়ে কাদা মাটিতে একাকার হয়ে আছেন।হিন্দিতে বললেন ওখানে চমরি গাই আর কয়েকটা খাওয়ার দোকান ছাড়া কিছুই নাই।নিজের এমন অবস্থায় কি আর প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার মন থাকে? ব্যাথাতো আর কম পাননি বেচারি! । ইতিমধ্যে আমার পাশ কাটিয়ে গাড়ি পার্কিং করে নামলেন ওখানকার সরকারী ডাক্তার।নিজে থেকেই পরিচয় করতে আসলেন,জানতে চাইলেন কোথা থেকে এসেছি, উনার দেশ কেমন লাগছে।উনি এখানকার স্থানীয় লোক।পরিবেশ দূষণ হচ্ছে কি-না এ নিয়ে রিপোর্ট করতে এসেছেন।বললেন এখানে তো পাহাড় ছাড়াকোন কিছুই নেই তো আমাদের কেমন লাগছে?বললাম পাহাড়ের রাজ্যের অন্য রকম এক সৌন্দর্য আছে।শুনে উনি হাসলেন।বাড়ীর গরু বাড়ীর ঘাস খায়না এমন একটা প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেল।যাই হোক ছেলেরা ফিরে এলে আমরা ঠিক করলাম যাত্রা পথে এমিউজমেন্টঘুরে দেখার।


সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০০০ফুট উপরে অবস্থিত এটা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা পার্ক।ছেলেমেয়েরা যার যার পছন্দমত রাইড চড়তে চলে গেল।আমি আর খান সাহেব ঘুরে ঘুরে প্রকৃতি রূপ উপভোগ করতে লাগলাম।।উত্তর, দক্ষিণ , পূর্ব,পশ্চিম অপূর্ব! কোনদিকেই রূপের কোন কমতি ছিলোনা।।এখান থেকে হিমাচলের বাঘা বাঘা সব পাহাড় দেখে মন ভরে যাচ্ছিল,ফাঁকে ফাঁকে ক্যামের বন্দীও করছিলাম।মাদকতায় আচ্ছন্ন পাহাড়টির সৌন্দর্যের সাথে হাইকিং স্কিয়িংসহ রয়েছে মজার মজার সব রোমাঞ্চকর
সব রাইড।৩২ মিটার উঁচু স্কাই জাম্পিং হচ্ছে ভারতের প্রথম এডভেঞ্চার রাইড যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ফিট।। এছাড়া রয়েছে ফিশাররি রাইড,ক্যাঙ্গারু জাম্প,বাঞ্জি ট্রেম্প লাইন,,জীপ লাইন ২০০ মিটার,রয়েছে ফাইভ ডি মুভি,রিসোর্ট, রেস্টুরেন্টসহ নানা সুবিধা।।

ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ বাঞ্জি জাম্পের সামনে মেয়ে সামিয়াকে দেখতে পেলাম।কাছে গিয়ে কবীর ও রাবিকেও সিরিয়ালে অপেক্ষারত পেয়ে গেলাম।একে একে তিনজন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে চলে গেল অন্য রাইড চড়তে।আর বাবারতো মেয়েকে নিয়ে টেনশনের শেষ নাই।পার্ক ঘরা শেষ করে এবার পেট সময় হলো পেট পূজার।আবার সেই হারাম হালাল, ভেজ,ননভেজ।তাতেও শেষ নেই মনের গোপন কোণে একটা বাঙালি খাবারের বাসনা।এসব মিলাতেও ঘুরাঘুরি কম না।অবশেষে সবুজে ঘেরা এক পাহাড়ের চূড়াতে পছন্দমত রেস্টুরেন্ট পাওয়া গেল।খেতে খেতে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখার জন্য জানালার পাশে কর্নারের টেবিলে বসলাম।পাহাড়ের সবুজ ঢালের নীচে ঘরবাড়ী ছবির মত মনে হচ্ছিল।টেবিলে ছোট ছোট কড়াই আর পাতিলে করে ওদের খাবার পরিবেশনা আমার বেশ ভাল লাগলো।আমি আবার খাঁটি বাঙালি যত ভালই খাইমনে হয় আমার দেশের খাবারেই স্বাদ বেশি।আমাদেরটাই বেস্ট। খেতে খেতে বাহিরে তাকিয়ে দেখছিলাম ঘাসের উপরে রোদটার কেমন যেনো এক মায়াবী রূপ।
ভোগ আর উপভোগ শেষ করে এবার চললাম ‘চেইল’ এর পথে।

সোলান জেলার অন্তরগত হিমাচলের নিরালা নির্জন সিমসাম ছোট্ট পর্বত শহর হচ্ছে চেইল।আদর করে সবাি এর নাম দিয়েছে “লিটল মাউন্টেন অব হেভেন।’ এই শহর পত্তনের পেছনে রয়েছে এক প্রেমের গল্প।উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইংরেজ কমান্ডার ইন চীফ কিচেনের সুন্দরী কন্যার প্রেমে পড়ে যান পাতিয়ালার মহা রাজা ভূপেন্দ্র সিং।একি আর যেই সেই খবর?কিচেনের কানে খবর পৌঁচাতে সময় লাগলো না।সংবাদ পেয়ে কিচেন রাজা ভূপেন সিং এর উপর সিমলা প্রবেশে নিশেধাজ্ঞা জারি করে দিলেন।মহারাজও কম যাননা,তিনি গোড়কীদের কাছ থেকে৭৫ একর জমি কিনে চেইল শহরের পত্তন করেন।। ওক,রডোডেনড্রন,হেমলক দিয়ে ঘেরা তিনটি বিক্ষিপ্ত পাহাড় নিয়ে ২২০০ মিটার উচ্চতার চেইল ঘঠিত হলো।এর একটিতে আছে বিশ্বের সর্বোচ্চ(২১৪৪ মিঃ) ক্রিকেট মাঠ,দ্বিতীয়টিতে প্যালেস আর তৃতীয় টিতে শিখ মন্দির।রাজার গড়া এই চেইল-ই প্যালেস চেইল নামে পরিচিত।এই প্যালেসকে থ্রি ইডিয়েটস” সিনেমার চাঁচড় ভবন বলেদেখানো হয়েছে।নূতন এবং পুরাতন শিল্পকলার সংসংমিশ্রণ ঘটেছে এই প্যালেসে।ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মূল প্যালেসটি পুড়ে গেলে১৯৫১ সালে এটি নূতন করে গঠিত করা হয়।।চেইল অভয়ারন্যখ্যাত রাজার রয়েছে মৃগয়াক্ষেত্র।এখানে রয়েছে রং বেরং এর পাখি,হরিণ,ভাল্লুক,সাম্মার,ইউরোপিয়ান লাল হরিণ।

 

পেহেলগাম জয়ের গল্প

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের পথে প্রান্তরে

শ্রীনগর থেকে সোনামার্গ

মেঘ বালিকার দেশে


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com