1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

কেমন মেয়র চাই?

সিলেট সিটি নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী

মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ

মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ :: সিলেট মহানগরীর মেয়র নির্বাচন আসন্ন। এই নগরীতে আমার বসবাসের তিনযুগ অতিক্রম হয়ে গেছে। দীর্ঘ এই সময়ে নগরীকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখা হয়ে গেছে। রাস্তায় হাটতে, রিকশায় চড়তে, বাজারে যেতে, বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে, সব সময়েই নগরীকে ঘিরে স্বপ্ন মনের মধ্যে আঁকুপাঁকু খেতে থাকে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এসব স্বপ্নকে বর্ণমালার মাধ্যমে প্রকাশ করে মনকে একটু হালকা করার চেষ্টা করছি।

জানি একজন মেয়রের ক্ষমতা আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ঠ নয়। ট্যাক্স আদায়, সরকারী অনুদান আদায়, উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা, জনগনের জন্য কিছু কিছু হিতকর কাজ করা, ব্যবসা বাণিজ্যের অনুমতি দান এসবের মধ্যেই মেয়রের চলাফেরা। সবচেয়ে বড়ো কাজ বিভিন্ন লুটেরা গোষ্টির –যাদের নাম উচ্চারন করা যাবে না কিন্তু আমরা সবাই এদের চিনি-স্বার্থের সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেয়া। না হলে অফিসে তালা ঝুলে। সহযোগীতা পাওয়া যায় না।

মনে পড়ে মরহুম স্পিকার জনাব হুমায়ূন রশীদের একটি কথা। একবার উনি বলেছিলেন আমার অধীনে কোন মন্ত্রনালয় নেই বটে কিন্তু সংসদে সব মন্ত্রীরাই আমার অর্ডার অর্ডার মেনে চলে। তাই জনগনের প্রয়োজনীয় যে কোন কাজে আমার অর্ডার অর্ডার করার ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারি। একজন নিবেদিত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মেয়র তার ক্ষমতার বাহিরেও অনেক অনেক কাজ করিয়ে নিতে পারেন। অনেক বিভাগ এরকম একজন মেয়রের স্বপ্নের সাথে কাজ করতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করে। তাই একজন নাগরিকের স্বপ্নের নগরী গড়ে তুলতে মেয়রকে হতে হবে নিবেদিত, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও দক্ষ।

চলার পথে, ঘরে বসে বাচ্চাদের না ফিরে আসা পর্যন্ত যে উদ্বেগ মনের জন্য জুড়ে থাকে তাহলো নিরাপদে কি ফেরতে পারবো বা ওরা কি নিরাপদে ফিরছে?আসলে মানূষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিরাপত্তা। সেই প্রস্তুর যুগ থেকেই বৈষয়িক প্রয়োজন না মেটাতে পারলেও নিরাপত্তা পেলেই মানূষ সন্তুষ্ট হয়ে যেতো। এখনো নগরবাসী যদি বুকে হাত দিয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করে-প্রথমতঃ কি চাই? উত্তরে আসবে নিরাপত্তা। অথচ এই নিরাপত্তা নিয়ে মেয়রের কিছুই করার নেই। তার অধীনে পুলিশ, র্যা ব কিছুই নেই। তাই বলে নগরীর অভিভাবক কি কিছুই করতে পারেন না? নিশ্চয়ই পারেন- কমপক্ষে এক বা একাধিক দায়িত্বশীল লোক দিয়ে মানূষের নিরাপত্তাহানীর কারন ও ঘটনা লিপিবিদ্ধ করে তা যথাযথ পক্ষের নজরে নিয়ে আসতে পারেন। উন্নয়নও অবশ্যই চটকদার বিষয়। সবাই উন্নয়ন চায়। তবে ভাল ব্যবস্থাপক নিজের যা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেন। নগরীর ফুটপাথগুলোকে চলার উপযোগী করা। তাই বলে হকারদের উৎখাত নয়। রাস্তার পাশে হকারদের ছোট্র দোকান রাখতে পারলে ভালো। নতুবা সাপ্তাহিক ছুটিকে বিভিন্ন এলাকার জন্য বিভিন্ন দিন করে এসব রাস্তায় ফ্রাইডে মার্কেট, সানডে মার্কেট এর ব্যবস্থা করে দেয়া যেতে পারে। সরকার বাচ্চাদের স্কুলের বই ফ্রি দিচ্ছেন। কিন্তু বাচ্চাদের শিক্ষার ব্যয় কমেনি কারন পিএসসি, যেএসসি পরিক্ষার সাফল্যের কেতাবের দাম অনেক অনেক বেশী, উস্তাদদের দামও অনেক বেশি। তাই বিভিন্ন এনজিওওদের সাথে সমন্বয় করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য জীবন ও কর্মমূখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে একজন দক্ষ মেয়রের করার অনেক কিছুই আছে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ও প্রতারনার শিকার হচ্ছেন নিম্নবিত্তরা নিয়তই। তাবিজ কবজ, জন্ডিস, যাদু-টোনা, যৌন রোগ এসবের টার্গেট কাস্টমার নিম্নবিত্তরা। সরকারী হাসপাতালে ও কম্যুনিটি ক্লিনিকে এদেরকে চরম অবহেলার শিকার হতে হয় আবার দালাল চক্রের দালালি ও ভুল চিকিৎসার মাশুল গুনতে হয়। এদের যেন কোন অভিভাবক নেই। আমার স্বপ্নের মেয়রকে হতে হবে এসব লোকদের অভিভাবক।কিভাবে এই দায়ীত্ব পালন করবেন এ ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট চিন্তা আছে। প্রয়োজনে তা শেয়ার করা যাবে।

যানজট মুক্ত নগরীর জন্য মেঘা প্রজেক্ট জনগনকে নিষ্পেষন করে হয়ে থাকে। কারন এদেশে গরীর ও মধ্যবিত্তরাই ট্যাক্স দেয় আর উচ্চবিত্তরা ট্যাক্স ফাকি দেয়। তাই জনগনের মেয়র নিয়ে শহরকে আসবেন পরিকল্পিত বাস, বাইসাইকেলের ও মটর সাইকেলের আওতায়। আর এতেই দূর হবে যানজট। ছোট্র একটি কথা আগে রাতের বাসগুলো ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে শহরের মধ্যে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে যেতো। এখন কি এমন সমস্যা হলো যে রাতে বাসগুলোকে বাহিরে থেমে যেতে হয় আর যাত্রীদেরকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে শহরে ঢুকতে হয়। দামী স্কুলের শিশুদেরকে বড়লোক বাবা মা স্কুলে নিয়ে যান আবার নিয়ে আসেন। মাঝখানে যানজটে ভোগান্তি হয় জনগনের। এসব বাচ্চারা সামাজিক সম্পর্কের কিছুই শেখে না। তাই বাচ্চাদের পরিবহনের জন্য কতৃপক্ষকে অবশ্যই স্কুল বাস চালু করতে হবে। বাসে উঠে বাচ্চাদের সামাজিক দক্ষতা শিক্ষা হবে যা স্কুলে কখনো শেখায় না। এসব উদ্যোগে যানজট কমে যাবে। আমার স্বপ্নের মেয়র এগুলো করবেন।

স্বপ্নের মেয়র সিটি কর্পোরেশনে চালু করবেন ওয়ান স্টপ সার্ভিস। যেখান নগরবাসী তাদের সব সমস্যা জানাবেন আর সিটি কর্পোরেশনে এদের অভিভাবকের মতো সব সমস্যারই সমাধান করে দেবেন। যেগুলো নিজেদের এখতিয়ারের সেগুলো সাথে সাথে আর যেগুলো অন্যদের ক্ষমতায় সেগুলো ওদের নোটিশে নিয়ে এবং সমন্বয় করে। কিন্তু সমাধান সিটি কর্পোরেশনকে বের করতে হবে। কারন পুলিশ বিভাগে যারা চাকরি করেন তারা জনগনের কাছে দায়বদ্ধ নয়। বিদ্যুত, গ্যাসে যারা কাজ করেন তারাও দায়বদ্ধ নয়। সিটি কর্পোরেশনকে সমাধান বের করতে হবে। তার জন্য মেয়রকে হতে হবে জনগনের জন্য সম্পুর্ণ নিবেদিত এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তিনি তার ব্যক্তিত্ববোধ, আত্নত্যাগ ও দক্ষতার মাধ্যমেই জনগনের বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের অভিভাবকে পরিনত হতে পারবেন। উচ্চবিত্তের চিন্তা করবে ইনাদের টাকা আর চামচা গোষ্টি। তাই আমার স্বপ্নের মেয়র ভাববেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের কথা। তিনি এসি রুমের কথা ভাববেন না, ভাববেন টিনের ঘরকে মশামুক্ত রাখার কথা। জনগনকে বেছে নিতে হতে তাদের মেয়রকে। এখানে রাজনীতির কিছুই নেই। বিরোধী দলের মেয়রও যে উন্নয়ন করতে পারেন তা নগরবাসী দেখেছে। তিনি সরকারী দলের হলেও আপত্তি নেই। কিন্তু দেখতে হবে তার মধ্যে আমানতদারিতা, দক্ষতা ও নিবেদিত হয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে কিনা।

নিরাপত্তার ও উন্নয়ন সমন্বয়
ওয়ান স্টপ সার্ভিস
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাসযোগ্য নগরী


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com