1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে চুরির অপবাদে গাছে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতন

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: চুরির অপবাদে কিশোরগঞ্জে এক শ্রমজীবী পিতৃহীন কিশোরকে ধরে নিয়ে গাছে বেঁধে ও ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত শাফিক বর্তমানে শরীরে নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তিন দিন ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এ নিষ্ঠুর ও নির্মম ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ। এ ঘটনায় বিচারপ্রার্থী মায়ের বুকফাটা আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ।

নির্যাতনের শিকার শাফিক মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল কালিকাবাড়ি গ্রামের রিনা বেগমের কিশোরপুত্র। সে পেশায় অটোরিকশাচালক।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। পুলিশ বলছে, আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনাটিকে চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল।

জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর আজানের পর ফজরের নামাজ পড়তে সমবয়সীদের নিয়ে পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ পড়তে বের হয়।

মসজিদের প্রবেশের আগেই রাস্তা থেকে ধরে বাড়িতে নিয়ে মিথ্যা চুরির অভিযোগ তুলে উঠানের বড়ই গাছে বেঁধে ও ঝুলিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম ছেনা দিয়ে ছ্যাঁকা। পরে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর ও ইট দিয়ে হাত-পা চেঁছে মধ্যযুগীয় কায়দায় তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।

এ সময় যন্ত্রণাকাতর শাফিক প্রাণভিক্ষা চেয়ে বাঁচার আকুতি জানালেও অসুররূপী ৮-৯ জন নারী পুরুষের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সে। নির্যাতনের একপর্যায়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে বাড়ি থেকে কয়েকশ’ গজ দূরে একটি বাঁশঝাড় সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে নিয়ে ফেলে রাখা হয় তাকে। সেখান থেকে মৃতপ্রায় অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী তাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু নির্যাতনকারীরা এতই প্রভাবশালী যে, একদিনের মধ্যেই প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল থেকে ওই মুমূর্ষু অবস্থায় তার ভর্তি বাতিল করে বের করে দেয়া হয়। পরে স্থানীয় মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের হস্তক্ষেপে পুনরায় তাকে ভর্তি করে হাসপাতাল কর্তপক্ষ।

রোববার বিকালে কালিকাবাড়ি গ্রাম সরেজমিন পরিদর্শনকালে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে এ নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৯ নারী-পুরুষ বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে গাঢাকা দেয়।

এ সময় গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্যাতনকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। ওইদিন মদিনা নামের এক মহিলার কানের স্বর্ণের ফুল চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে গাছে বেঁধে নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা দেখে নীরবে হজম করা ছাড়া প্রতিবাদ করার কারও সাহস ছিল না।

এ সময় তারা দাবি করেন, শাফিক অটোরিকশা চালিয়ে তার মাকে নিয়ে জীবিকানির্বাহ করে। তার কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। ঘটনার দিন ফজরের নামাজ পড়তে শাফিকের সঙ্গে ঘর থেকে বের হওয়া সঙ্গী প্রতিবেশী কিশোর নাজমুল হাসান পাপন জানায়, আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় তার সামনেই তারা তাকে ধরে নিয়ে যায়। বাড়িতে নিয়ে কানের ফুল চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তার ওপর বীভৎস নির্যাতন চালায়।

এ সময় সে কেঁদে কেঁদে বাড়ি ফিরে আশপাশের লোকজনকে জানালে তারাও ছুটে আসতে আসতে মরে গেছে ভেবে শাফিককে নিয়ে ওই জঙ্গলে ফেলে আসে। পরে খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ফরিদ মিয়ার সহযোগিতায় অর্ধমৃত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় শাফিকের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে নির্যাতনকারী ৯ নারী পুরুষকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করেছেন বলে ওসি আবুশামা মোহাম্মদ ইকবাল হায়াত জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com