1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

পানির ড্রামে তরুণীর গলিত লাশ ,বাস টিকিটের সূত্র ধরে খুনের রহস্য উদ্ঘাটন

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: আঁখি আক্তার নামে এক তরুণীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় তুলেছিল সেলিম আহমদ নামে এক টাইলস মিস্ত্রি।

মাত্র ২৪ দিনের মাথায় (২৪ অক্টোবর রাতে) আঁখিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেলিম। এরপর লাশ পানির ড্রামে রেখে মুখ বন্ধ করে দেয়।
চারদিন পর (২৭ অক্টোবর) লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সেলিম পালিয়ে যায়। এর তিন দিন পর (৩০ নভেম্বর) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঢাকা উদ্যানের পাশের ওই ফ্ল্যাট থেকে আঁখির গলিত লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ তখনও তরুণীর পরিচয় জানতে পারেনি। ঘর তল্লাশির পর রূপসী বাংলা পরিবহনের একটি টিকিট পায় পুলিশ। ওই টিকিটে একটি মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। সেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ৪ নভেম্বর রাতে মৌলভীবাজারর বড়লেখা থেকে খুনি সেলিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জানা যায় নিহত তরুণীর নাম আঁখি আক্তার। গত ১ অক্টোবর স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আঁখিকে বাসায় তুলেছিল সে। কলহের জের ধরে সে আঁখিকে খুন করে।

গ্রেফতারকৃত সেলিম ৫ নভেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে খুনের কথা স্বীকার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেলিমকে গ্রেফতারের পর আঁখির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে আঁখির স্বজনদের খবর দেয়া হলে তারা এসে ৫ নভেম্বর তার লাশ শনাক্ত করেন।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল যুগান্তরকে বলেন, নিহত নারী খুনি সেলিমের কথিত স্ত্রী (প্রেমিকা)। সেলিমের স্ত্রী কুমিল্লায় তার বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। এক বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি কুমিল্লায় চলে যান।

চার মাস আগে এক পরিচিত নারীর মাধ্যমে আঁখির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় সেলিমের। আঁখি তখন কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায় থাকতেন। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ১ অক্টোবর তিনি সেলিমের মোহাম্মদপুরের বাসায় চলে আসেন। মাত্র ২৪ দিনের মাথায় তিনি খুন হন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই বছর আগে সেলিম কুমিল্লার এক নারীকে বিয়ে করে। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে সে ঢাকা উদ্যানের পাশে বি ব্লকের ওই বাসায় বসবাস করছিল। এক বছর পর পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।

চার মাস আগে কুমিল্লার এক নারীর দেয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সেলিমের সঙ্গে আঁখির পরিচয় হয়। তারপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন মাস আগে সেলিমের সঙ্গে দেখা করতে আঁখি একবার ঢাকায় আসেন।

তখন তিন দিন তিনি সেলিমের বাসায় ছিলেন। এক মাস আগে (১ অক্টোবর) স্থায়ীভাবে সেলিমের বাসায় চলে আসে আঁখি। ২২ অক্টোবর সেলিম খবর পান তার মা অসুস্থ। আঁখিকে বাসায় রেখে মাকে দেখতে সেলিম গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় যায়।

সেখানে সেলিম কুমিল্লায় বসবাসরত তার স্ত্রীকে নিয়ে যায়। মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর স্ত্রীকে কুমিল্লায় রেখে ২৪ অক্টোবর সকালে সেলিম মোহাম্মদপুরে ফিরে আসে। বাসায় ফেরার পর সেলিমের আচরণ দেখে আঁখি বুঝতে পারে স্ত্রীর সঙ্গে সেলিমের এখনও সম্পর্ক রয়েছে।
এ নিয়ে ওইদিন রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। সেলিম আঁখিকে চড়-থাপ্পড়ও মারে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আঁখির গলা চেপে ধরে সেলিম। দেয়ালের সঙ্গে চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে আঁখিকে হত্যা করে সে।

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তিনদিন পর্যন্ত সেলিম ওই ঘরেই ছিল। লাশের গন্ধ বের হলে ২৭ অক্টোবর সে ঘর তালাবদ্ধ করে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চলে যায়। লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ৩০ অক্টোবর রাতে ওই বাড়ির ম্যানেজার পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ সেখান থেকে গলিত লাশ উদ্ধার করে।

আঁখির দুলাভাই মো. শফিক যুগান্তরকে বলেন, আঁখির গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মালাপাড়া ইউনিয়নে। ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। সে ঘরে আট বছর বয়সী তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মারা যান। তার ছেলে ব্রাহ্মণপাড়ার একটি মাদ্রাসায় পড়ে। স্বামীর মৃত্যুর পর কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায় চাকরি করত আঁখি। আর সেখানেই বসবাস করত। আঁখি যে এক মাস ধরে ঢাকায় বসবাস করছিল- এ বিষয়ে পরিবার কিছুই জানত না। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ যোগাযোগ করলে তারা ঢাকায় এসে আঁখির লাশ শনাক্ত করেন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com