1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

কলেজ ছাত্র প্রান্ত আত্মহত্যা করেনি, শ্বাসরোধে হত্যা করেছে পিসিতো ভাই সুমন

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার এম মন্তাজিম আলী কলেজের ছাত্র প্রান্ত দাস (১৮) আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লুঙি দিয়ে মুখ ও গলা বেঁধে পরিত্যক্ত রান্নাঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল খুনি। ঘটনার প্রায় ১২ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদঘাটন হেেয়ছে। প্রান্তের পরিবার মুল থেকেইে প্রান্তকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দাবী জানিয়ে আসছিল। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত প্রান্তের পিসিত (ফুফুতো) ভাই সুমন দাসকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বর্ণি ইউনিয়নের মিহারী নয়াগ্রামের পিসির বাড়ির পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে প্রান্তের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রান্তের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় থানায় প্রাথমিক পর্যায়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।

নিহত প্রান্ত দাস (১৯) বড়লেখা উপজেলার বাঘমারা গ্রামের সনত চন্দ্র দাসের ছেলে। সে প্রায় ৬ বছর ধরে বর্নি ইউপির নয়াগ্রাম (মিহারী) গ্রামে পিসির বাড়িতে পিসাতো ভাই সুমন দাসের পরিবারের সাথে বসবাস করতো। সে বর্নি এম. মুন্তাজিম আলী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ওই কলেজের ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক। ঘটনার পর প্রান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি অপমৃত্যু দায়ের করা হলেও প্রান্তকে হত্যা করা হয়েছে এমনটি তাঁরা দাবি করছিলো।

এছাড়া ঘটনার পরদিন থেকে প্রান্তের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে এম.মুন্তাজিম আলী কলেজের শির্ক্ষ্থাীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পাঁচদিন ক্লাস বর্জন করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ ও স্থানীয় সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিন ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যায়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত রবিবার (১১ নভেম্বর) রাতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসে পুলিশের কাছে। প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে আসায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে থানায় নিয়ে আসে। তারা হলেন মৃত করুনাময় দাসের ছেলে সুমন দাস , সুমন দাসের স্ত্রী নিভা রানী দাস, পাশের বাড়ীর কৃপেশ দাসের দুই পুত্র নিকেশ পাল ও নিরেস দাস এবং নিরেশ দাসের ছেলে চন্দন দাস। এদের মধ্য থেকে পিসিত ভাই সুমন দাস (৪০) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। গতকাল সোমবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে প্রান্তের বড় ভাই শুভ দাস বাদী হয়ে সুমন দাস কে প্রধান আসামী করে ৮ জনের হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যার সাথে জড়িত থাকার ঘটনায় পুলিশ প্রান্তের পিসিত ভাই সুমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এদিকে প্রান্তর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) আবু ইউছুফ গতকাল সোমবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই প্রান্তের মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হয়েছিল। ময়নাতদন্তে প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুমন একাই হত্যা করেেেছ এবং সে একাই সবাইকে মেসেজ পাঠিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। তবে হত্যা করা এবং মেসেজ পাঠানোসহ অনেকগুলো কার্যক্রম ঘটেছে। আসামী সুমনের পক্ষে এ কাজ একা করা সম্ভব কিনা সন্দেহজনক। অবশ্য এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না আমরা তা খতিয়ে দেখছি।’

জিজ্ঞাসাবাদে সুমনের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর রাতে সুমন দাস বাজার থেকে বাড়ি আসেন। তখন স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মামাতো ভাই প্রান্তকে দেখতে পান। এরপরই প্রান্তকে ধাওয়া দেন সুমন। এক পর্যায়ে বাড়ির রাস্তায় গিয়ে প্রান্তকে ধরে ফেলে। এরপর মুখ চেপে ধরে সুমন। এ সময় প্রান্ত অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁর হাত, পা ও মুখ বেঁধে পরিত্যাক্ত রান্না ঘরের খাটের নিচে রেখে দেয় সুমন। এখান থেকে ঘরে ফিরে প্রান্তের বড় ভাই শুভকে ফোন দিয়ে জানায় প্রান্তকে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে প্রান্তের বড়ভাই শুভ সুমনদের বাড়িতে আসে। সে (সুমন) শুভ’র সাথে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির ভান করে। এরপরদিন ৩০ অক্টোবর রাত পর্যন্ত প্রান্তকে না পেয়ে শুভ তাঁর মামার বাড়ি চলে যায়। ওই রাতেই পরিত্যাক্ত রান্না ঘরের খাটের নিচে থেকে প্রান্তকে বের করে আনে সুমন। তখনও প্রান্ত জীবিত ছিলো। মুখ বাঁধা থাকায় সে কথা বলতে পারেনি। এ রাতেই আনুমানিক তিনটার দিকে প্রান্তকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে লুঙি দিয়ে মুখ ও গলা বেঁধে পরিত্যক্ত রান্নাঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রেখে দেয়। এছাড়া ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে প্রান্তের মুঠোফোন থেকে কয়েকটি মেসেজ প্রান্তের সহপাঠীসহ কয়েকজনের কাছে পাঠানো হয়। পরে প্রান্তের প্যান্টের পকেটে মুঠোফোন রেখে দেওয়া হয়।

বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়াছিনুল হক হত্যা মামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক অপর ৪ জনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে । সমুন কে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রান্ত হত্যায় সুমন ছাড়া অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তে বেরিয়ে আসবে।।’

নিহত প্রান্তের বড়ভাই মামলার বাদী শুভ দাস বলেন, ‘আমার ভাইকে পিসিতো ভাইয়েরা মিলে খুন করেছেন। এটা প্রথম থেকেই সবার কাছে পরিষ্কার ছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি এসেছে। প্রথম থেকেই এ ঘটনাকে হত্যা হিসেবে দাবী করছিলাম। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে খুন করেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করছি আমরা। যারা প্রান্তকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।’


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com