1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

আমি সব সময়ই প্রধানমন্ত্রী মোদির বিপক্ষে: অরুন্ধতী রায়

মৃদুভাষণ ডেস্ক :: বুকারজয়ী লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট অরুন্ধতী রায় বলেছেন, তিনি সব সময়ই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিপক্ষে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশ্মির প্রশ্নে আলোচনা করতে গিয়ে নিজের এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী কাশ্মির নিয়ে মোদির অবস্থানকে ‘বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়েছেন।

কাশ্মির প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক উত্তেজনার শুরু গত ফেব্রুয়ারি মাসে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের নতুন সংঘাতের সূচনা। ১৪ ফেব্রুয়ারির (বৃহস্পতিবার) কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। জইশ-ই-মোহাম্মদের স্বঘোষিত ওই আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়। ঘটনার জেরে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে ভারত। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের প্রথম দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে এটিই প্রথম বিমানযুদ্ধ আর নরেন্দ্র মোদির হাতে এর সূচনা।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো এমন হামলার সূত্রপাত করায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করেছেন অরুন্ধতী।

অরুন্ধতীর মোদি-বিরোধী অবস্থান নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিক মেহেদি হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে মিনিস্ট্র অব আটমোস্ট এর রচয়িতা বলেন, ‘আমি সব সময়ই প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে। এমনকী ২০০২ সালে যখন তিনি গুজরাটের প্রধানমন্ত্রী, তখনও আমি তার বিরোধিতা করেছি। পুনওয়ামা হামলার পর মোদি পাকিস্তানে যে সব প্রতীকী হামলা চালিয়েছেন তা বেপরোয়া কর্মকাণ্ড।’

ভারতীয় বিমান হামলার জবাবে পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সকালে নিজেদের সীমানায় দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাকিস্তান। পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। ভারত বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তান রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের মাটিতে জঙ্গি হামলায় ইন্ধন দেয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের দাবিকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ আখ্যা দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভারতের দাবির সঙ্গে একমত। তবে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের বাড়তে প্রতিকী হামলা আর বাগযুদ্ধ উদ্বিগ্ন করে তোলে তাদের। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি আলোচনার প্রস্তাবে কোনও আগ্রহ দেখায়নি ভারত। পাকিস্তানও শান্তির বার্তার সমান্তরালে পাল্টা আক্রমণ-হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত দিতেও ছাড়েনি দুই পক্ষ।

কানাডাভিত্তিক গ্লোবাল রিসার্চরে এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটা মনে রাখা জরুরি যে উভয় পক্ষের সরকার ও সংবাদমাধ্যমগুলো এই সংঘাতের তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো, উত্তেজনা বৃদ্ধিতে বিরোধী পক্ষের দোষ সামনে নিয়ে আসা এবং নিজেদের পক্ষের হতাহতের সংখ্যা ও নিজেদের দায়-দায়িত্বের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে দুই পক্ষই। আর অরুন্ধতী রায় মনে করছেন এই রাজনীতিতে ফ্যাসিজমের উপাদান রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা হয়তো খানিকটা কমেছে। তবে এখনও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অবসান হয়নি। ভুল তথ্য দিয়ে হামলা করা, মৃত্যুর মিছিল, হত্যা গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এসবের মধ্যে ফ্যাসিজমের উপাদান রয়েছে।

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে হাফিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধেও কাশ্মির প্রশ্নে মোদির অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন অরুন্ধতী। তিনি লিখেছিলেন “দশকের পর দশক জুড়ে ভারতের পূর্ববর্তী শাসকেরা যে পথে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন; ‘আক্রান্ত হওয়ার’ অজুহাতে পাকিস্তানের বালকোটে নির্বিচারি বিমান হামলা চালিয়ে সেই পথ থেকে নিজের অজান্তেই সরে গেছেন নরেন্দ্র মোদি।সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই কাশ্মিরের সংঘাতকে অভ্যন্তরীণ বিষয় দাবি করে ভারত আন্তর্জাতিক মধ্যস্ততার যে কোনও প্রস্তাবের প্রতি তাদের উন্নাসিকতা দেখিয়ে আসছে। পাকিস্তানকে পাল্টা হামলায় তাড়িত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দু’টি দেশ হিসেবে পারস্পারিক বোমা বর্ষণের নতুন ইতিহাস সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মোদি কাশ্মির বিতর্কের আন্তর্জাতীকরণ করেছেন। বিশ্বের সামনে তিনি কাশ্মিরকে হাজির করেছেন পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কাপূর্ণ সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ এক অঞ্চল হিসেবে।”

ওই নিবন্ধে অরুন্ধতী তার পর্যবেক্ষণে কাশ্মিরে সামরিক বলপ্রয়োগ জোরালো করার নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, সংকট নিরসন প্রচেষ্টার নামে সামরিক বলপ্রয়োগ জোরালো করার মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকার ভবিষ্যতের সমাজকে নিপীড়ন আর স্বাধীনতাহীনতায় আত্মঘাতী হয়ে ওঠা তরুণদের হাতে তুলে দিচ্ছে প্রতিদিন।


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com