1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

কেমন মেয়র চাই- ২

সিলেট সিটি নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী

মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ :: আমার আগের লেখায় একজন মেয়রের স্বপ্নের কথা বলেছি। আমার স্বপ্নের মেয়র ছিলেন নগরীর অভিভাবক। নাগরিকদের সুখে দূঃখে তাকেই বিহবল হতে দেখেছি আমার স্বপ্নে। এই অভিভাবক আসবেন নির্বাচিত হয়ে। নাগরিকরা তাদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক মেয়রকে বেছে নেবেন ভোটের মাধ্যমে। কিন্তু প্রায়ই শোনা যায় – নাগরিকদের গুঞ্জন- কাকে ভোট দেবো? সবাইতো নিজের আখের গোছানোর জন্যই নির্বাচন করছে। গতদিন বাসার পাশের গ্রোসারী স্টোরের মালিক বললো- একজন ইঞ্জিনিয়ার নাকি ইলেকশান করছেন। নিশ্চয়ই পেশায় সুবিধা করতে পারেননি, তাই এই লাইনে। আমি বললাম – হতে পারে আবার এও হতে পারে নির্বাচন করছেন মানূষের জন্য কাজ করতে। একজন ব্যক্তি তার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে মানব কল্যানে যা করতে পারে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী করতে পারেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে। প্রশ্ন হলো – নির্বাচনে না দাঁড়ালে তো মানূষ পছন্দের লোককে বেছে নিতে পারে না। আর ভালো লোক না দাঁড়ালে, মানূষকে ভাবতে হবে মন্দের ভালো নিয়ে। তখন আর আমার স্বপ্নের অভিভাবককে পাওয়া যাবে না। নির্বাচিত মেয়র থেকে সাধারন মানূষ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলবে। অসাধারনরা অবশ্য উনাদের কাছে থেকে থেকে নিজেদের স্বার্থে মেয়রের পদকে মানূষের আমানত খেয়ানতকারি, কিছু কিছু জনগনের জন্য করে বাকীটা নিজের চৌদ্দ গুষ্টির জন্য সংরক্ষনকারী এরকম করে দেখাতে থাকবেন।

কারনে অকারনে আমরা সব সময় রাজনীতির লেবাসে সব চিন্তা করি। অথচ দেশের রাজনীতি চলা উচিত সংসদকে ঘিরে, যেখানে আইন ও পলিসি প্রনয়ন করা হবে এবং তা বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার , দেশের আইন ও বিচার বিভাগের সাহায্য নেয়া হবে। রাজনীতি মুলত এই পলিসি নির্ধারনের জন্যই কাজ করে। তার জন্য জনগনের রায়ের দরকার হয়। জনগনের উগ্রপন্থা, মধ্যপন্থা বা ঢিলাপন্থার পক্ষে নেয়ার জন্য রাজী করার কসরতের নামই রাজনীতি। তাই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে দেশের মানূষকে নিয়ে ভাবার ও চিন্তা করার যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবার উর্ধ্বে চিন্তা করার করতে হয় প্রার্থীর অভিভাবকত্ব, আমানতদারীতা ও যোগ্যতার সমন্বয় নিয়ে। প্রশ্ন হলো – যোগ্যতাসম্পন্ন লোক যদি বিভিন্ন কারনে ঘরে বসে থাকে তবে জনগন তাকে কেমনে নির্বাচিত করবে। রাজনৈতিক দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা যারা ভেবেছেন- তারা কি ভেবে তা করেছেন আমার মাথায় ঢুকে না। কারন রাজনৈতিক বিভিন্ন হিসাব নিকাশের কারনে এতে যোগ্য প্রার্থী নমিনেশন নাও পেতে পারে। এবং বাস্তবে প্রায়ই তাই হয়ে থাকে। এবং এতে অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া মানে অনেকে ক্ষেত্রেই হাসির পাত্র হওয়া। ফল –অধিক যোগ্যরা যারা অভিভাবক হওয়ার যোগ্যতা রাখে তারা বাদ পড়ে যাতে পারে। আর জাতি পেতে পারে রক্ষকের নামে ভক্ষকদের। তাই আমার স্বপ্নের মেয়র সব রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের উর্ধ্বে উঠে প্রার্থী হবেন এবং জনগন তাকে আন্তরিকভাবেই নির্বাচিত করবে।

বারাক অবামার নির্বাচনে শ্লোগান ছিলো –চেঞ্জ উই নিড।ঘুরে ফিরে একই মুখের দিকে না তাকিয়ে যদি ভালো প্রার্থী, ভালো কর্মসূচী ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে কেউ সামনে আসে এবং মানূষ যদি তাকে জনগনের আমানত নেয়ার যোগ্য মনে করে তবে তাকেই নির্বাচিত করতে এগিয়ে যাওয়া উচিত। কারন মানব সভ্যতার উন্নয়নে নতুন নতুন চিন্তা সব সময়েই সব সময়েই বিস্তর কাজ করেছে। তাই বলে অভিজ্ঞতার মুল্যও কম নয়। প্রার্থিদের সামনে রেখে জনগন চিন্তা করবে তা কোনটিকে প্রাধান্য দেবে।
আগের লেখায় যেমন বলছিলাম- টিনের ঘরকেও যেমন আরামদায়ক রাখা যায় তেমনি আবার বিশাল অট্রালিকা তৈরী করেও আরাম আয়েশ বাড়ানো যায়। ভালো ম্যানেজার নিজের সংগতির মধ্যেই সর্বাধিক আরাম নিশ্চিত করেন। তাই নগরীর অভিভাবক ভাববেন – বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কথা। যদিও অনেকে মুষ্টিমেয়দের কথা ভেবে ওদের জন্য কাজ করেন কারন ওরা নাকি প্রভাব বিস্তারকারী। হতে পারে। কিন্তু মানূষের জন্য কাজ করতে চাইলে পরের বার নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের মনোরঞ্জনের কথা বাদ দিয়ে আপনার ক্ষুদ্র জীবনে ও ক্ষুদ্র ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু পারেন মানূষের কথাই ভাবেন। আমার এক পরিচিত মেয়র জনগনের ১০০% আমানত রক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকেই বলেন –উনি কেন ভোটের কথা ভাবছেন না? বাজেটের ২৫%ও যদি হোমরা চোমরাদের জন্য রাখতো, তবে পরের বার নির্বাচিত হতে পারতো? আমি বিশ্বাস করি আমার ঐ বন্ধু ঠিকই করে যাচ্ছেন। ১০০% আমানতদারীতা। এটাই ঠিক পথ।

ভূটানে জিডিপি র পরিবর্তে জিডিএইচের (গ্রোস ডোমেস্টিক হেপিনেস) হিসাব নেয়া হয়। আমার স্বপ্নের মেয়র নগরীর জ়িডি এইচের দিকে নজর দেবেন। উনি পাগলের মতো কাজ করতে থাকবেন যতক্ষন না
‘ উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাশে ধ্বনিবে না”


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com