1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১১ অপরাহ্ন

নিষিদ্ধ প্রেম

খায়রুন নাহার চৌধুরী (লাভলী)

খায়রুন নাহার চৌধুরী (লাভলী) :: সকাল নয়টা বাজে। রেবেকা সুলতানা (বয়স ৭০ বছর),তার প্রিয় ছোট্ট বাগানে বসে পত্রিকা পড়ছেন।পাশের টেবিলে চায়ের কাপ রাখা,মাঝে মাঝে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। বাগানের টবে নানান রঙের ফুলের সমাহার । যে কারো মন ভালো করে দেবার মতো পরিবেশ ।দু চারটা প্রজাপতিও মহানন্দে উড়ে বেড়াচ্ছে।রেবেকা সুলতানা ভীষণ শৌখিন মানুষ । গুছানো সংসার ।দুই পুত্র,দুজনই আমেরিকা প্রবাসী ।স্বামী শিল্পপতি,এই বয়সেও কারখানা আর অফিস নিয়ে ব্যস্ত ।
পত্রিকার একটা খবর (পরকীয়া করতে বাঁধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা)।হঠাৎ করে রেবেকা সুলতানাকে পঁচিশ বছর পিছনে নিয়ে গেলো । তখন রেবেকার বয়স পঁয়তাল্লিশ । দুই ছেলে বিদেশে পড়াশোনা করে । স্বামী ওয়াহিদুল হক ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে মহাব্যাস্ত । তিনিও কর্তব্যপরায়ণ,সংসারী মানুষ । রেবেকা পুরোপুরি গৃহিণী । সংসারের টুকিটাকি কাজ সারার পর অখণ্ড অবসর ।মাঝে মধ্যে বন্ধুদের সাথে কিটিপার্টি ,বিদেশ ভ্রমণ,এভাবেই চলছিল ছকে বাঁধা জীবন ।

হঠাৎ একটা টেলিফোন তার দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের জীবনে যেন দমকা হাওয়ার মতো এলো। কলেজ জীবনের বন্ধু ফয়সালের সাথে বহু বছর পর একটা বিয়ে বাড়িতে দেখা হয়েছিল। আজ ফোন দিয়ে বসলো।কুশল বিনিময় হলো।ফয়সালেরও স্ত্রী,পুত্র-কন্যা নিয়ে সুখের সংসার ।

ফয়সাল প্রায় সময় ফোন দেয়া শুরু করলো ।বন্ধুর সাথে কথা বলতে রেবেকার বেশ ভালোই লাগে। এভাবে কিছুদিন চলার পর,কথায় কথায় এক পর্যায়ে জানতে পারলেন,ফয়সাল কলেজ জীবনে রেবেকার প্রেমে পড়েছিলেন,কিন্তু কখনও বলা হয়নি ।
সেই প্রেম এতো বছর পর কি করে সব ওলট পালট করে দিল,দুজনের কেউই টের পেলেন না ।তাদের কথা বলা বাড়তে থাকলো । তিরিশ মিনিট হয়ে গেল দুই ঘন্টা । এভাবে সম্পর্কটা অনেক দুর এগিয়ে গেলো। রেবেকার মনে স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষ মানুষ এসে বসবাস শুরু করলো। সবকিছু কেমন যেন বদলে যেতে লাগলো । একদিকে ফয়সালের জন্য প্রচন্ড রকমের টান, অন্য দিকে স্বামী সন্তানের প্রতি দায়িত্ব কর্তাব্য,সামাজিক অবস্থান এই সমস্ত কিছু চিন্তা করে রেবেকার প্রায় পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা । না পারছেন নিজের মনকে সংযত করতে না পারছেন সংসারের মায়া ছাড়তে।স্বামীর দিকেও আজকাল ঠিকমতো খেয়াল করা হয় না । এটা সম্ভবত ওয়াহিদুল হক সাহেব কিছুটা আন্দাজ করতে পেয়েছিলেন । কিন্তু কারণ বুঝতে পারছিলেন না। তিনি স্ত্রীকে দু এক বার জিজ্ঞাসাও করেছেন ।কোন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছ কিনা,আমি কি কোন ভাবে সাহায্য করতে পারি? একথা শুনে রেবেকা ভীষণ কান্নাকাটি করেছেন(অবশ্যই গোপনে)। রেবেকা নিজেকে যেন চিনতেই পারছেন না,যে মানুষটি স্বামী সন্তান ছাড়া জগতের আর কোন দিকে ফিরেও তাকায়নি। সেই মানুষ কেমন করে পরপুরুষের জন্য অস্থির হয়ে থাকে।এটাই কি তাহলে পরকীয়া? পরকীয়া এতোটাই বিধ্বংসী? কেন এমন হলো? এই সম্পর্কের শেষ কোথায়? এই সমস্ত সম্পর্কের কোন মূল্য কি আছে এই সমাজে? ইত্যাদি ইত্যাদি রাজ্যের প্রশ্ন,রেবেকাকে অস্থির করে তুলেছিল ।

মানুষ কেন এধরনের সম্পর্কে জড়ায়?অবশ্যই এর কোন না কোন কারণ থাকে।জীবনের কোথাও শূন্যতা, বিশেষ কিছুর অভাব মানুষকে এই বিপজ্জনক পথে নিয়ে আসে। এটা রেবেকার নিজস্ব আবিষ্কার ।
কারণ রেবেকা জীবনের প্রথম “l love you “কথাটা ফয়সালের কাছ থেকে শুনেছিলেন । স্বামী কিংবা কোন বন্ধুর কাছ থেকে কোন কালেই এই অসাধারণ বাক্যটি শুনা হয়নি । কিন্তু এর মানে এই নয় যে স্বামী ভালোবাসেন না। রেবেকার কোন চাহিদা ওয়াহিদুল হক সাহেব অপূর্ণ রাখেননি । তারপরও একটা বাক্য “ভালোবাসি” এতোটা শক্তিশালী!?
ফয়সালকে উপেক্ষা করা রেবেকার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ।রেবেকা ফয়সালকে ভালোবাসেন। এবং এই ভালোবাসা সম্পূর্ণ মানসিক ভালোবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান। কিন্তু ফয়সালের চাওয়াটা এর চেয়েও বেশী । ভালোবাসার মানুষটিকে পরিপূর্ণ ভাবে পাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক নয়।

রেবেকা এসব আকাশ পাতাল চিন্তা করে দিশেহারা ।এমন একটা বিষয় যে কাউকে বলাও যাচ্ছে না। একা কোন সমাধানও বের করতে পারছেন না।
একদিন মন শক্ত করে,সব জড়তা ভেঙে,তার দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে বিষয়টি খুলে বললেন।
দুই বান্ধবী হা করে রেবেকা কে দেখছিলেন। যে মানুষটা এতো বিবেকবান,নিরহঙ্কার,দায়িত্বশীল,কর্তব্যপরায়ণ। কোনো বিপদে আপদে যে বন্ধুটার কথা সবার আগে মনে পড়ে। তার মুখে এই ধরনের কথা শুনবে ,এটা কেউই আশা করেননি ।এমনকি ওনাদের বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিল ।

রেবেকাকে তার বন্ধুরা জড়িয়ে ধরলেন । তখন তার বাঁধ ভাঙা কান্না দুই বন্ধুর চোখেও জল এনে দিল। উনাদের একটাই চিন্তা ,কি করে রেবেকাকে এই সমস্যা থেকে বের করে আনা যায় । কারণ যে সম্পর্ককে এই জগত সংসার ঘৃনার চোখে দেখে , সেটা জিয়িয়ে রাখা মোটেও ঠিক হবে না । এসবে কারোরই মঙ্গল নেই , কেবল যন্ত্রণাকে আহবান করা। রেবেকাকে শেষ পর্যন্ত তার দুই বন্ধু বের করে নিয়ে আসতে পেরেছিল।তার স্বামীও এই বিষয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।
এধরনের সমস্যা আজকাল খুব বেশী দেখা যাচ্ছে ।বিশেষ করে ফেইসবুককে আমি এই ব্যাপারে দোষারোপ করবো।ফেইসবুক যেমন অনেক দুরের মানুষকে কাছের করেছে,তেমনি কাছের মানুষকে দুরে ঠেলে দিচ্ছে ।
কোন নারী কিংবা পুরুষ যদি এধরনের সমস্যায় পড়েন,তবে অবশ্যই এমন করো সাথে বিষয়টি শেয়ার করবেন,যাতে সঠিক পরামর্শ পাওয়া যায় ।
রেবেকার সাথে ফয়সালের সম্পর্ক এখনও আছে। তবে খুব সুস্থ এবং সুন্দর একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ।
এই গল্পটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখা। তবে আমার নিজস্ব মতামত হলো,রেবেকার দ্বারা সম্ভব হয়েছিল সম্পর্কটা সুন্দর ভাবে টিকিয়ে রাখা। কিন্তু সবাই তো আর রেবেকার মতো নয়।তাই এধরনের সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একটা মানুষকে কেন্দ্র করে আরো অনেকগুলো প্রিয় মানুষের জগত। তাই নিজের এই নিষিদ্ধ প্রেমকে হৃদয়ের কোন এক গোপন কুঠুরিতে তালা দিয়ে,চাবিটা সমুদ্রে ফেলে দেয়াটাই মঙ্গল।
সবার জীবন সুখের হোক…….

 

লেখকের অন্য লেখার লিংক

একজন রিক্সাচালক সামাদ ভাই

 


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com