1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

দিদির বঙ্গে দাদার হাসি

রক্তিম দাশ, কলকাতা :: গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোদিঝড় আটকাতে পেরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আত্মবিশ্বাসে এবার তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজ্যের ৪২টি আসনেই জিতবে শাসক দল তৃণমূল। তবে এবার সারা ভারতের মতো এ রাজ্যেও ওঠা প্রবল মোদিঝড়ে বেসামাল হয়ে গেছে তৃণমূল। এবার এ রাজ্যের মোট আসনের মধ্যে ১৮টিই পেয়েছে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গতবার তারা পেয়েছিল মাত্র দুটি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে দুটি আসন, গতবার পেয়েছিল চারটি। এবার মমতার তৃণমূল ২২টি আসন পেলেও গতবারের চেয়ে কমেছে ১২টি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশটির অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই ঝড়ের আভাস আসতে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের ব্যবধান বাড়তে থাকে। অন্যদিকে, ভোটবাক্সে এত দিন পর্যন্ত রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিএম ও কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস বহরমপুর আসনটি রক্ষা করতে পারলেও সিপিএমসহ বাম দলগুলো রাজ্যে কোনো আসনই পায়নি। বহরমপুর আসনটি এবারও জিতেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধীর চৌধুরী। সিপিএমের দখলে থাকা মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ আসনটি হাতছাড়া হয়েছে। যাদবপুর কেন্দ্রটি নিয়ে সিপিএমের খুব আশা থাকলেও এ আসনে জয় পেয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী টলিউডের অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। এখানে সিপিএম প্রার্থী আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে রইলেন বিজেপির অধ্যাপক অনুপম হাজরা।

মহাজোটের স্বপ্ন এবার অধরাই থেকে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তিনি এদিন টুইট করে বলেন, ‘সব জয়ীকে অভিনন্দন। কিন্তু সব পরাজিত পরাজিত নন। আমরা এর সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে মতামত দেব। আগে ভোট গণনা শেষ হোক।’ যদিও ভোট গণনা শেষে মোদিঝড়েই উড়ে গেছে তার দল।

লোকসভার এই ফলাফলে রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইটা স্পষ্ট হয়ে গেল। অর্থাৎ, তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপি। কংগ্রেস তৃতীয় ক্ষয়িষ্ণু শক্তি হয়ে থাকলেও লোকসভার ফলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুছে যাওয়া বামদের ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কলকাতার দুই আসনের পাশাপাশি শহরতলির যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর, দমদম, বারাসাত ধরে রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাওড়া ও উলুবেড়িয়ার পাশাপাশি শ্রীরামপুর ও আরামবাগও তাদের দখলে। নজরকাড়া কেন্দ্র বারাকপুরে দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে অর্জুন সিংয়ের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। জঙ্গলমহলে চারটি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি। দার্জিলিং ফের দখলে যাওয়ার পাশাপাশি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, বালুরঘাট, রায়গঞ্জ, মালদা দক্ষিণ, মালদা উত্তর আসনগুলো গেছে মোদির দলে। কার্যত রাজ্যের উত্তরের জেলাগুলোসহ জঙ্গলমহলে মুছে গেছে তৃণমূল। তৃণমূলের মুখ রক্ষা করেছে রাজ্যের দক্ষিণ অংশের জেলাগুলো। তার মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁও, রানাঘাট গেছে তাদের দখলে। আবার রাজ্যের শিল্পাঞ্চল বলে পরিচিত আসানসোল আসনটির পাশাপাশি বর্ধমান-দুর্গাপুরে এবার উড়েছে গেরুয়া পতাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে তৃণমূলের হয়ে হেরেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বাঁকুড়ার প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, আসানসোলে অভিনেত্রী মুনমুন সেন, নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ ও মানস ভূঁইয়া। আরও হেরেছেন বিজেপির প্রার্থী অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল সিনহা ও নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্র বসু এবং সিপিএমের মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে, তৃণমূলের হয়ে জয় পেয়েছেন অভিনেত্রী মিমি, নুসরাত জাহান ও দেব। বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবার জয় পেয়েছেন।

গতকাল গণনা কেন্দ্রগুলোর সামনে নেতাকর্মীদের উৎসবমুখর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিতরণ করা হয় মিষ্টিও। বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি প্রার্থীদের বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকার খবর আসে। সেইসঙ্গে গোটা দেশে মোদিঝড় ওঠার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

লোকসভার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আটটি বিধানসভার উপনির্বাচন হয়েছিল। এদিন এই ফলেও দেখা গেছে বিজেপির দাপট। আটটির মধ্যে চারটিতে তারা জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তৃণমূল তিনটি ও কংগ্রেস একটিতে জয় পেয়েছে।সমকাল


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com