1. ahmedshuvo@gmail.com : admi2018 :
  2. mridubhashan@gmail.com : Mridubhashan .Com : Mridubhashan .Com

বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

২৮০ থেকে ৩০০ রান করতেই হবে

এনামুল হক মনি :: দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ড ৩১১ রান করেছে। আমাদের পক্ষেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংয়ের বিপরীতে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে পারলে ২৮০ থেকে ৩০০ রান করা সম্ভব। ওই রান করতে হবে, দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। কেননা দক্ষিণ আফ্রিকা আমাদের বিরুদ্ধে তিনশ’ রান চেজ করার সামর্থ্য রাখে। এ মুহূর্তে আমাদের ব্যাটিংটা শক্তিশালী। ফ্লাট পিচে খেলা হবে, প্রচুর রান উঠবে। বোলাররা অসহায়। ব্যাটসম্যানরা রোটেড করে খেললে তিনশ’ রান করা সম্ভব। উইকেট হাতে থাকলে শেষের ৫ ওভারে রান করা যায়। একইভাবে নতুন বলটাকে ওপেনাররা কীভাবে কাজে লাগাতে পারছে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন বলে তিনটা উইকেট হারিয়ে ভেঙে পড়েছিল। নতুন বলে প্রথম ১০ ওভারে উইকেট না হারালে ভালো।

বোলাররা প্রথম ১০ ওভারে যত বেশি ডট বল করতে পারবে, তত বেশি চাপে ফেলতে পারবে। ওপেনিং ম্যাচে হাশিম আমলার মাথায় বল লাগায় বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়েছে। আমলার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে বল করতে হবে। সে শট বল নিয়ে একটু চিন্তায় থাকবে। আমাদের বোলাররা যদি লাইন মেনে সেই গতিতে বল করতে পারে, হাশিম আমলাকে বিরক্ত করা যাবে। এই জিনিসগুলোই গেম প্ল্যানে আনা উচিত। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই নিজের দায়িত্ব ও যোগ্যতা দুটোকেই একসঙ্গে করে কাজে লাগাতে পারলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবে। আমাদের ওপর চাপ নেই, দক্ষিণ আফ্রিকার ওপরে ডাবল চাপ, প্রথমত তারা ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে, দ্বিতীয়ত আজও হেরে যাওয়ার ভয়ে থাকবে।

আমাদের স্কোয়াডে মূল খেলোয়াড়দের বেশ কয়েকজনের ছোটখাটো ইনজুরি সমস্যা আছে। সে ক্ষেত্রে একাদশ নির্বাচনেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। লিটন আর সৌম্য দু’জনকে না খেলালে আমি সৌম্যর সঙ্গে যাব। কারণ সৌম্যর কাছ থেকে বাড়তি হিসেবে বোলিং পাওয়া যাবে। ওপেনিং জুটি তামিম ও সৌম্যর মধ্যেই হওয়া উচিত। ত্রিদেশীয় সিরিজে তারা ভালো করেছে। ওই জুটিটাই থাকুক। সাকিব তিনে খেললে এ ম্যাচে লিটনের জায়গা হচ্ছে না। তবে টপঅর্ডার ঠিক করার ক্ষেত্রে ১০ ওভারের পাওয়ার প্লের সার্কেলটা মাথায় রেখে রণকৌশল করতে হবে। আমরা কি ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান করতে চাই, নাকি কোনো উইকেট না হরিয়ে ৫০ রান করতে চাই? সেভাবে টপঅর্ডার সাজালে ভালো হবে। ওপরে খেলা একটু কঠিন, নতুন বলে খেলতে হয়, ভালো বোলারের বিপক্ষে খেলতে হয়। তবে একটাই সুবিধা থাকে ৩০ গজ বৃত্তে খেলোয়াড় বেশি, বাইরে কম থাকে। কোয়ালিটি বোলার ও শক্ত ও শাইনি বলের বিপরীতে খেলতে হলে ওই রকম ব্যাটসম্যানকে বেছে নিতে হবে।

তামিম, সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, মিঠুন, মাহমুদুল্লাহ খেলবে। সাত নম্বর জায়গাটি নিয়ে সাব্বির ও মোসাদ্দেকের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। আমি মোসাদ্দেককেই রাখব, কারণ তাকে দিয়ে কিছু বোলিং করাতে পারব, যেটা সাব্বিরের কাছ থেকে পাব না। অনেকে বলতে পারে সাব্বির রিস্ট স্পিনার কার্যকরী হবে। কিন্তু সাব্বির ওই মানের রিস্ট স্পিনার না। মোসাদ্দেক ওই জায়গায় খেলার যোগ্য।

স্কোয়াডে যেহেতু কিছু পার্টটাইম বোলার আছে, অলরাউন্ডার আছে, আমার মনে হয় একজন জেনুইন স্পিনার ও চার পেসার খেলালে ভালো করবে। সাইফউদ্দিন, মুস্তাফিজ, মাশরাফি আর রুবেল খেললে ভালো করবে। পেছনের ওভারগুলোতে রুবেলের সুইং কাজে লাগানো যাবে। বৃষ্টি হলে ওপেনিং বোলিংয়ে রাহি খুব কার্যকর হবে। ইংল্যান্ডে সুইংটা দারুণ কাজে দেয়। খেলাটা হবে সেন্টারে, সবাই সবার পরিকল্পনা নিয়ে নামবে, তবে একজন বোলারের কাজ হলো ব্যাটসম্যানকে তার জোনে পছন্দের শট খেলতে না দেওয়া। খেয়াল রাখতে হবে, দক্ষিণ আফ্রিকা পেস বলের সবকিছুতেই অভ্যস্ত। ওদের ওখানে অনেক জোরে বোলার তৈরি হয়। ওই স্পিডের বলে সব সময় প্র্যাকটিস করে তারা। পেস দিয়ে ওদের বিট করা সম্ভব হবে না। ব্যাটসম্যানকে ভুল করাতে হবে।

এনামুল হক মনি : জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মৃদুভাষণ - ২০১৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com